পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত আদায় করাই খাছ সুন্নত মুবারক, এর কম আদায় করা চরম গোমরাহী (২)
, ০৬ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণনাকারী রাবীর জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِه.
পবিত্র রমাদ্বান শরীফে এবং গায়রে রমাদ্বান শরীফে অর্থাৎ বছরের ১২ মাস রাতের নামায ছিলো মোট ১১ রাকায়াত। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে পবিত্র তারাবীহ্ নামায পড়তেন আর অন্য মাসে কি পড়তেন?
আসলে বাতিল ফিরক্বার লোকগুলো মূর্খ হওয়ার কারণে এই পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা তারাবীহ্র দলীল দিয়ে থাকে। এই পবিত্র হাদীছ শরীফখানা দ্বারা মূলত তারাবীহ্কে বুঝানো হয়নি। এটা দ্বারা তাহাজ্জুদকে বুঝানো হয়েছে। কারণ তারাবীহ্ নামায শুধু পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসেই পড়া হয়। আর তাহাজ্জুদ নামায পবিত্র রমাদ্বান শরীফ এবং অন্যান্য মাসে অর্থাৎ সবসময়ই পড়া হয়।
কাজেই, পবিত্র তারাবীহ্ নামায ২০ রাকায়াত-ই পড়তে হবে; ৮ রাকায়াত নয়।
আমরা জানি যে, পবিত্র তারাবীহ্ নামায ২০ রাকায়াত এবং তা আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। অথচ কেউ কেউ বলে, ৮ রাকায়াত পড়াই সুন্নত। আবার কেউ কেউ বলে, ১২ রাকায়াত পড়াই সুন্নত।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবেয়ীন ও তাবে তাবেয়ীগণ এবং হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল মুবারক দ্বারা অকাট্টভাবে প্রমাণিত যে, পবিত্র তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত।
কিন্তু ১২৮৪ হিজরীতে ভারতের আকবরাবাদ থেকে এক লা-মাযহাবী আট রাকায়াত তারাবীহ্র ফতওয়া দেয়। এরপর ১২৮৫ হিজরীতে পাঞ্জাব সীমান্তে আরেক প্রতারক আট রাকায়াত তারাবীহ্ নামায পড়া সুন্নত হওয়ার মিথ্যা দাবি করে।
কিন্তু পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ দিয়ে তৎকালীন হক্কানী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা উক্ত আট রাকায়াত তারাবীহ্র ফতওয়াকে ভুল হিসেবে প্রমাণিত করে তা প্রত্যাখ্যান করেন।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার ফতওয়া মুতাবিক পবিত্র তারাবীহ্ নামায ২০ রাকায়াত পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। অতএব, কেউ যদি পবিত্র তারাবীহ্ নামায ২০ রাকায়াত থেকে এক রাকায়াতও কম পড়ে, তবে তার সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ তরক করার গুণাহ হবে। অর্থাৎ পবিত্র তারাবীহ্ নামায ২০ রাকায়াতই পড়তে হবে এবং এর উপরই ইজমা হয়েছে।
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে -
عن حَضْرَتِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي فِي رَمَضَانَ عِشْرِينَ رَكْعَةً وَالْوِتْرَ.
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাসে বিশ রাকায়াত (পবিত্র তারাবীহ্ নামায) এবং পবিত্র বিতির পড়তেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৫, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং- ৭৬৯২, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ-২১৮, আল মুজামুল কাবীর, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং-১২১০২, মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং-১৭২, সুনানে বায়হাকী কুবরা, পবিত্র হাদীছ শরীফ নং-৪৩৯১)
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার অন্যতম সুমহান তাজদীদ মুবারক “সুন্নতী সামা শরীফ মাহফিল”
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (২)
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রতিক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা যেমন ফরয; অনুরূপভাবে প্রতিক্ষেত্রেই কাফির- মুশরিকদের খিলাফ করাও ফরয (১)
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাত ও পায়ের নখ কাটার মহাসম্মানিত সুন্নতী তারতীব মুবারক
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৪)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (৩)
০১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত (২)
৩১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা, আত্মীয়দের হক্ব আদায় করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক। যা মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভুক্ত
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (২)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল রোগের শেফা, মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কালোজিরা (১)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (৩)
২৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ডান হাতে আহার করা, আঙ্গুল ও বাসন পরিস্কার করে চেটে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
২৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












