ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৫)
, ২১ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ফতওয়া বিভাগ
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৬
يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ادْخُلُوا فِي السِّلْمِ كَافَّةً.
অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সম্পূর্ণরূপে প্রবেশ করো। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ প্রমান করতেছে যে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার স্পষ্ট ও অস্পষ্টাংশ উভয় অংশ গ্রহণ করা মুসলিম-মু’মিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
(৩৫১-৩৫২)
وقال إمام الحرمين: الذى ذهب إليه أهل التحقيق أن منكرى القياس لايعدون من علماء الأمة وحملة الشريعة؛ لأنهم معاندون مباهتون فيما ثبت استفاضة وتواترًا، ولأن معظم الشريعة صادرة عن الاجتهاد، ولاتفى النصوص بعشر معشارها، وهؤلاء ملتحقون بالعوام.
অর্থ: হযরত ইমামুল হারামাঈন বলেন, সূক্ষ্মতত্ত্ববিদ উলামাগণ উনাদের মত এই যে, নিশ্চয়ই কিয়াস শরীফ অমান্যকারীরা উম্মাতের উলামা ও শরীয়ত বাহক হতে পারে না। কেননা, যে কিয়াস শরীফ অসংখ্য দলীল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তারা সেই কিয়াস শরীফ অমান্য ও অগ্রাহ্য করে থাকে। আরো সম্মানিত শরীয়ত উনার অধিকাংশ বিষয় কিয়াস শরীফ কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছে এবং সম্মানিত শরীয়ত উনার এক দশমাংশও পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে স্পষ্টভাবে প্রাপ্ত হওয়া যায় না। সুতরাং লা মাযহাবী দল নিরক্ষর শ্রেণীভুক্ত। (তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত, ১ম অধ্যায়, হরফুদ দালিল মুহমালাহ, লেখক: আল্লামা আবূ যাকারিয়া মুহইদ্দীন বিন শারফ নুবাবী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৬৭৬ হিজরী, বুরহানুল মুক্বাল্লিদীন ৭০ পৃষ্ঠা, লেখক: আল্লামা মাওলানা রুহুল আমীন বশীরহাটী ফুরফুরাবী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি)
এখানে ফিকিরের বিষয় যে, যদি পবিত্র দ্বীন ইসলামে ১০ লক্ষ মাসয়ালা থাকে, তবে তন্মধ্যে ১ লক্ষ মাসয়ালা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে স্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে, আর ৯ লক্ষ মাসয়ালা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের থেকে ইজতিহাদ করে তথা কিয়াস শরীফ করে ফায়সালা করা হয়েছে। মহাসম্মানিত ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে সহজভাবে উক্ত মাসয়ালাগুলো প্রকাশ করে মুসলমানদের অশেষ উপকার সাধন করেছেন। প্রকৃত সত্যিকার মু’মিন-মুসলমান হতে গেলে এবং পরিপূর্ণ দ্বীন ইসলাম স্বীকার করতে হলে উক্ত মাসয়ালাগুলিতে চার মাযহাবের ইমাম উনাদের যে কোন একজনের মাযহাব ধরতে হবে। এছাড়া কোন পথ নেই। এছাড়াও যে একাংশের বর্ণনা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফে আছে, তা পূর্ণভাবে জানার জন্য উক্ত ইমাম-মুজতাহিদ উনাদের মত গ্রহণ করতে হবেই। একারণেই পরিপূর্ণ মু’মিন-মুসলমান হতে হলে মাযহাব চতুষ্ঠয়ের যে কোন এক মাযহাবের অনুসরণ করা ফরজ-ওয়াজিব হিসেবে সাব্যস্ত।
পবিত্র আয়াত শরীফ নম্বর-৭
يُؤْتِي الْحِكْمَةَ مَنْ يَشَاءُ وَمَنْ يُؤْتَ الْحِكْمَةَ فَقَدْ أُوتِيَ خَيْرًا كَثِيرًا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ
অর্থ: তিনি (মহান আল্লাহ তায়ালা) যাঁকে ইচ্ছা হিকমত (বিশেষ জ্ঞান) দান করেন। আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে, তাকে অনেক কল্যাণ দান করা হয়েছে। আলিমগণ ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না। (পবিত্র সূরা বাকারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬৯)
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে হিকমত তথা ইলমে ফিকাহ বা ইলমে শরীয়ত উনার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই ইলিম যাঁদের আছে উনাদেরকেই অনুসরণ করার ইঙ্গিত এ পবিত্র আয়াত শরীফে পাওয়া যায়।
অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার বিশুদ্ধ তাফসীর বা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ:
(৩৫৩)
{يُؤْتِي الحكمة مَن يَشَآءُ} يعني النبوة لمحمد عليه الصلاة والسلام ويقال تفسير القرآن ويقال إصابة القول والفعل والرأي {وَمَن يُؤْتَ الحكمة} إصابة القول والفعل والرأي {فَقَدْ أُوتِيَ} أعطي {خَيْراً كَثِيراً وَمَا يَذَّكَّرُ} يتعظ بأمثال القرآن والحكمة {إِلاَّ أُوْلُواْ الألباب} ذو العقول من الناس.
অর্থ: তিনি (মহান আল্লাহ তায়ালা) যাঁকে ইচ্ছা হিকমত বা বিশেষ জ্ঞান দান করেন। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নুবুওওয়াত আনুষ্ঠানিকভাবে হাদিয়া করা হয়েছে। কেউ বলেন, তাফসীরুল কুরআন হাদিয়া করা হয়েছে। কারো মতে: কথা, কাজ ও ফায়সালায় যথার্থতা হাদিয়া করা হয়েছে। (আর যাঁকে হিকমত দান করা হয়েছে,) কথা, কাজ ও ফায়সালায় যথার্থতা হাদিয়া করা হয়েছে, (অর্থাৎ তিনি সমস্ত কল্যাণ দানের মালিক।) পবিত্র কুরআন শরীফ উনার দৃষ্টান্ত ও হিকমতমূলক নছীহত দান করা হয়েছে। (আলিমগণ ব্যতীত কেউ উপদেশ গ্রহণ করে না।) মানুষদের মধ্যে আকলমান্দরাই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে। (তানবীরুল মাকবাস মিন তাফসীরি ইবনি আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা, ওফাত মুবারক: ৬৮ হিজরী, সূরা বাকারাহ শরীফ: ২৬৯, জমাকারী: আল্লামা মুহম্মদ বিন ইয়াকূব ফিরোযাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৮১৭ হিজরী)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১২)
১২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৪)
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৩)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫১)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৮)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












