ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৪)
, ০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ফতওয়া বিভাগ
হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “জলীলুল্ ক্বদর রসূল হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনাকে কিয়ামতের ময়দানে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করা হবে, আপনি কি আপনার দায়িত্ব যথাযথ পৌঁছিয়েছেন? তিনি উত্তরে বলবেন, আয় আমার রব তায়ালা! হ্যাঁ আমি পৌঁছিয়েছি। অতঃপর উনার উম্মতগণকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, তিনি কি তোমাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছিয়েছেন? তখন তারা বলবে আমাদের কাছে ভীতি প্রদর্শনকারী কেউ আসেননি। মহান আল্লাহ পাক তিনি তখন (হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনাকে) বলবেন, আপনার পক্ষে সাক্ষী কে? তখন তিনি (হযরত নূহ আলাইহিস সালাম) বলবেন, আমার সাক্ষী হচ্ছেন আখেরী রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ও উনার উম্মত উনারা। তৎক্ষনাৎ তাদেরকে উনাদের সামনে হাজির করা হবে। অতঃপর এ ব্যাপারে উনারা সাক্ষী প্রদান করবেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিম্নোক্ত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করলেন-
‘অনুরূপ আমি তোমাদেরকে সত্যপরায়ণ উম্মত হিসেবে স্থির করেছি’। তিনি বলেন, এখানে وَسَطًا দ্বারা عَدْلاً সত্যপরায়ণ, ন্যায়পরায়ণ, ইনসাফগার উম্মত উদ্দেশ্য। (আল জামিউল মুসনাদুছ ছহীহুল মুখতাছারু মিন উমূরি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহী ওয়া আইয়ামিহী অর্থাৎ আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবু বাদউল ওয়াহয়ী বাবু ক্বওলিল্লাহি তায়ালা وَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবু বাদউল ওয়াহয়ী বাবু ক্বওলিল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَى قَوْمِهِ আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবু বাদউল ওয়াহয়ী বাবু ক্বওলিল্লাহিوَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا আছ ছহীহু লিল বুখারী কিতাবুত তাফসীর বাবু ক্বওলিল্লাহিوَكَذلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا সুনানুত তিরমিযী কিতাবুত তাফসীর বাব নম্বর ৩, সূরা বাকারা, বুরহানুল মুক্বাল্লিদীন ১১৭ পৃষ্ঠা, লেখক: আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ রূহুল আমীন বশীরহাটী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, সাইফুল মুক্বাল্লিদীন ২২৩ পৃষ্ঠা, লেখক: আল্লামা মাওলানা মুহম্মদ ইবরাহীম মুহব্বতপুরী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি)
(৩৪৯)
فيه أربع مسائل: الرابعة- وفية دليل على صحة الإجماع ووجوب الحكم به، لأنهم إذا كانوا عدولا شهدوا على الناس. فكل عصر شهيد على من بعده، فقول الصحابة حجة وشاهد على التابعين، وقول التابعين على من بعدهم. وإذ جعلت الامة شهداء فقد وجب قبول قولهم.
অর্থ: অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে চারটি মাসয়ালা রয়েছে। তন্মধ্যে চতুর্থ নম্বর মাসয়ালা হচ্ছে- পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা পবিত্র ‘ইজমাউল উম্মাহ’ শরীফ ছহীহ হওয়া এবং পবিত্র ইজমা শরীফ উনার হুকুম যে ওয়াজিব তা প্রমাণ করা হয়েছে। কেননা, যখন কেউ সত্যপরায়ণ হয় তখন উনার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হয়। কাজেই প্রত্যেক যামানা তার পরের যামানার জন্য সাক্ষীস্বরূপ। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের কওল মুবারক দলীল এবং তা হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ব্যাপারে সাক্ষী। অনুরূপ হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের ক্বওল পরবর্তীদের জন্য দলীল। সুতরাং উম্মতের হক্কানী-রব্বানী উলামায়ে কিরাম কোন ব্যাপারে সাক্ষী দিলে তা অন্যদের জন্য মান্য করা ওয়াজিব বা ফরজ। (আল জামিউ লি আহকামিল কুরআন লিল কুরতুবী অর্থাৎ তাফসীরুল কুরতুবী, সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ১৪৩, লেখক: হযরত আল্লামা আবূ আব্দিল্লাহ মুহম্মদ বিন আহমদ বিন আবূ বকর বিন ফারহ আনছারী খাযরাজী শামসুদ্দীন কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি ইন্তিকাল: ৬৭১ হিজরী প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল মিছরিয়্যাহ-কাহিরাহ)
(৩৫০)
وفي الآية دليل على أن إجماع هذه الأمة حجة قاطعة.
অর্থ: অত্র পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এই উম্মতের পবিত্র ‘ইজমাউল উম্মাহ’ শরীফ অকাট্য দলীল হিসেবে প্রমানিত। (তাইসীরুল কারীমির রহমান ফী তাফসীরি কালামিল মান্নান অর্থাৎ তাফসীরুস সা’দী, সূরা বাকারা: আয়াত শরীফ: ১৪৩, লেখক: আল্লামা আব্দুর রহমান বিন নাছিরুদ্দীন বিন আব্দুল্লাহ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ইন্তিকাল: ১৩৭৬ হিজরী)
অত্র ইবারতগুলো দ্বারা পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ যে সম্মানিত শরীয়ত উনার অকাট্য দলীল তা প্রমাণ করা হয়েছে। আর পবিত্র ইজমা উনাকে অনুসরণ করা মূলত: মাযহাবী ফায়সালা। পবিত্র ইজমা উনাকে মান্য করার অর্থই হলো মাযহাব মান্য করা।
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫৩)
৩১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫২)
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫১)
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৮)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৫০)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৯)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৮)
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৭)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (৬)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৪৬)
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












