ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৮)
, ০৯ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ফতওয়া বিভাগ
হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু, হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, আত্বা, আবুল্ আলিয়াহ ও মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, উলিল্ আমর হচ্ছেন- হযরত উলামা তথা আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। এ মতটি হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি উনারা পছন্দ করেছেন।
হযরত মাইমূন, মুক্বাতিল ও কালবী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, উনারা হলেন সেনাপতি। অথবা হযরত আহলু বাইত শরীফ উনাদের ইমাম আলাইহিমুস্ সালাম উনারা, অথবা এককভাবে হযরত ইমামুল আউওয়াল আলাইহিস সালাম।
প্রকাশ্য কথা হলো, প্রত্যেক ঐ অভিভাবক যিনি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন উনিই উলিল্ আমর। মুফাসসির উনারা বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনাকে সন্তুষ্ট করার শর্তে মহিলার জন্য তার স্বামীর আনুগত্য করা, গোলাম কর্তৃক তার মনীবের আনুগত্য করা, সন্তান কর্তৃক তার পিতা-মাতার আনুগত্য করা এবং ইয়াতীম কর্তৃক তার ওয়াছিয়তকারীর আনুগত্য করা ওয়াজিব। আর এটাই হচ্ছে সমতা বা হক।
হযরত যামাখশারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উলিল আমর দ্বারা উদ্দেশ্য হলেন- সত্যনিষ্ঠ উমারা তথা খলীফা উনারা।
কারো মতে- উনারা হলেন, দ্বীনী হক্কানী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম, যারা মানুষদেরকে দ্বীনী তা’লীম দেন, তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ করেন এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করে থাকেন।
হযরত সাহল্্ তাস্তারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সুলতান বা খলীফাকে সাতটি ব্যাপারে অনুসরণ করতে হবে। (১) সুলতানের নির্ধারিত মুদ্রা ব্যবহার করতে হবে, (২) সুলতান কর্তৃক পরিমাপক যন্ত্রকে ব্যবহার করতে হবে, (৩) উনার শরীয়তসম্মত হুকুম মানতে হবে, (৪-৬) হজ্জ, জুমুয়াহ ও দু’ঈদের ইমাম হবেন তিনিই এবং (৭) জিহাদের পৃষ্ঠপোষকতা করবেন তিনিই।
যখন কোন সুলতান বা খলীফা কোন আলিমকে ফতওয়া দিতে নিষেধ করবেন তখন তার জন্য ফতওয়া দেয়া জায়িয হবে না। এরপরও যদি তিনি ফতওয়া দেন তাহলে ভুলকারী হিসেবে বিবেচিত হবেন। আর যদি আদেশটি খলীফার না হয়ে বাদশাহর হয়, তাহলে হক্কানী আলিম কর্তৃক বাদশাহর অনুমতি ছাড়া ফতওয়া দেয়া জায়িয।
হযরত ইবনু খুওয়াইয মানদাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, সুলতান পরিপূর্ণ শরীয়তের অনুসরণকারী হওয়ার শর্তে উনার আনুগত্য করা ওয়াজিব। সুলতান যদি গুনাহগার হয় তাহলে তাকে অনুসরণ করা ওয়াজিব নয়। এজন্য আমরা ফতওয়া দেই যে, আমাদের যামানার আমীরদেরকে অনুসরণ করা ও তাদেরকে সম্মান দেখানো জায়িয নেই। তবে তাদের সাথে থেকে যুদ্ধ করা, তাদের স্বাভাবিক হুকুম পালন করা, তাদের ইমামতিতে নামায পড়া শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে জায়িয আছে। তারা ফাসিক হওয়ার পরও যদি আমাদেরকে নিয়ে নামায আদায় করে তাহলে তাদের পিছনে নামায পড়া জায়িয হবে, আর যদি তারা বিদয়াতী হয় তাহলে তাদের সাথে নামায পড়া জায়িয হবে না। তবে যদি ভয়ের আশংকা থাকে তাহলে পড়া যেতে পারে। কিন্ত ওয়াক্ত থাকতে নামায দোহরায়ে পড়ে নিতে হবে।
হযরত আবূ আব্দিল্লাহ রাযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উলিল আমর দ্বারা এখানে ইজমা’ উনার অনুসরণের দিকে ইশারা করা হয়েছে। এ বিষয়টি বিশ্বাস করা ওয়াজিব যে, নিশ্চয়ই ইজমাউল্ উম্মাহ পবিত্র শরীয়ত উনার একখানা দলীল। (তাফসীরুল্ বাহরিল্ মুহীত অর্থাৎ তাফসীরু আবী হাইয়ান, লেখক: হযরত মুহম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলী আবূ হাইয়ান নাহবী আন্দালুসী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৭৪৫ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২০)
يريد بهم أمراء المسلمين في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم وبعده ويندرج فيهم الخلفاء والقضاة وأمراء السرية أمر الناس بطاعتهم بعد ما أمرهم بالعدل تنبيها على أن وجوب طاعتهم ما داموا على الحق، وقيل علماء الشرع.
অর্থ: উলিল্ আমর দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বগণ এবং পরবর্তী যামানার নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বগণ উনারা উদ্দেশ্য। উনাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম, কাজী বা বিচারকগণ, সেনাপতিগণ। উনাদেরকে ন্যায়নিষ্ঠার সাথে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পরবর্তীরা হকের উপর ইস্তিকামত থাকার শর্তে উনাদেরকে অনুসরণ করা ওয়াজিব। কারো কারো মতে, শরয়ী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাই উলিল্ আমর। (আনওয়ারুত্ তানযীল ওয়া আসরারুত্ তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরু তাফসীরুর বাইদ্বাবী, লেখক: হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহম্মদ বাইদ্বাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৬৮৫ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
(৪২১)
فإنه يدل على أن الأحكام ثلاثة مثبت بالكتاب ومثبت بالسنة ومثبت بالرد إليهما على وجه القياس.
অর্থ: অত্র আয়াত শরীফ প্রমাণ করে যে, নিশ্চয়ই শরীয়ত উনার হুকুম তিনখানা। যা কিতাবুল্লাহ দ্বারা প্রমাণিত, যা সুন্নাহ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত এবং পবিত্র কিয়াস দ্বারা প্রমাণিত। (আনওয়ারুত্ তানযীল ওয়া আসরারুত্ তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুল বাইদ্বাবী, লেখক: হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহম্মদ বাইদ্বাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৬৮৫ হিজরী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ-৫৯)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৭)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৮)
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৬)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৭)
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৬)
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৫)
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৫)
১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৪)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭৩)
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭২)
৩০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
২৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












