পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (৮)
, ০৫ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৩ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৩ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৯ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ইসতিবরা যেভাবে বা যে নিয়মে করতে হয় :
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
ইসতিবরা করার সময় মানুষের সামনে উঠা বসা করা, হাঁটাচলা করা, উপুড় হওয়া, বিভিন্ন কসরত করা বিকৃতি, কদর্যতা, দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি করার শামীল, যা নিষিদ্ধ।
যেমন “মাওয়াহেবে জালীল ফী শরহে মুখতাছার খলীল” কিতাবের ১ম খ-ের ৪০৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
قَالَ فِي الْمَدْخَلِ: إذَا قَامَ يَسْتَبْرِئُ فَلَا يَخْرُجُ بَيْنَ النَّاسِ وَذَكَرُهُ فِي يَدِهِ وَإِنْ كَانَتْ تَحْتَ ثَوْبِهِ فَإِنَّ ذَلِكَ شَوْهَةٌ وَمُثْلَةٌ وَكَثِيرًا مَا يَفْعَلُ بَعْضُ النَّاسِ هَذَا وَقَدْ نَهَى عَنْهُ،
অর্থ : মাদখাল কিতাবে” উল্লেখ আছে, ছোট ইসতিন্জার (প্রস্রাবের) পর ইসতিবরা করার জন্য যখন সে দাড়াবে তখন কাপড়ের নিচে হাত দিয়ে পুরুষলিঙ্গ ধরে মানুষের সামনে বের হবে না। কেননা এগুলো করা কদর্যতা, বিকৃতি ও দৃষ্টিকটু অঙ্গভঙ্গি করার শামীল। কিছু মানুষ ছোট ইসতিন্জার (প্রস্রাবের) পর ইসতিবরা করার জন্য কাপড়ের নিচে হাত দিয়ে পুরুষলিঙ্গ ধরে মানুষের সামনে বের হয়ে (বসে, উঠে, উপুড় হয়, গলা খাকড়ায় ইত্যাদি) এ ধরণের নানান কাজ করে থাকে যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, পুরুষদেরকে অবশ্যই ইসতিবরা করতে হবে। এই ইসতিবরা করা কারো জন্য ফরয, কারো জন্য ওয়াজিব এবং কারো জন্য সুন্নত মুয়াক্কাদাহ্্। মহিলাদের জন্য মুস্তাহাব। মহিলারা সামান্য বিলম্ব করে পানি ব্যবহার করলেই মুস্তাহাব আদায় হবে। কিন্তু পুরুষদেরকে অবশ্যই ইসতিবরা করতে হবে। তবে ইসতিবরা করার সময় মানুষের সামনে উঠা বসা করা, হাঁটাচলা করা, উপুড় হওয়া, বিভিন্ন কসরত করা,গলা খাকড়ানো ইত্যাদি করা যাবে না।
ইসতিন্ক্বা এর পরিচয় ও আহ্কাম:
ইসতিন্ক্বা কাকে বলে:
اَلْاِسْتِنْقَاءُ (ইসতিন্ক্বা) শব্দটি نَقْوٌ (নাক্বউন) শব্দ থেকে এসেছে। এর শাব্দিকঅর্থ হলো মুছে পরিস্কার করা, পরিচ্ছন্ন করা ।
আর ইসতিন্ক্বা শব্দটির পারিভাষিকঅর্থ হলো শৌচ করার পর বড় ইসতিন্জার রাস্তায় (পায়খানার রাস্তায়) মুস্তা’মাল পানি (ব্যবহৃত পানি) পাক কাপড়, পাক নেকড়া (তেনা) বা পাক রুমাল দিয়ে মুছাকে ইসতিন্ক্বা বলে। পাক কাপড় না থাকলে হাত দিয়ে এমনভাবে মুছে ফেলবে যেন ইসতিন্জার রাস্তায় মুস্তা’মাল পানি বিন্দু পরিমান না থাকে। এরপর সাবান বা পাক মাটি দিয়ে তিনবার হাত ধুয়ে নিবে।
উল্লেখ্য যে, সাধারণতঃ ইস্তেনক্বা করা মোস্তাহাব। আর রোযা ভঙ্গ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে ইস্তেনক্বা করা ফরজ-ওয়াজিবের অন্তর্ভূক্ত। তাই ইসতিন্ক্বার বিষয়টি রোযাদারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন তাবিনুল হাক্বায়েক্ব কিতাবে উল্লেখ আছে, রোযাদার মহিলা হউক, পুরুষ হউক ইসতিন্ক্বা না করে উঠবে না। অর্থাৎ বড় ইসতিন্জার রাস্তায় (পায়খানার রাস্তায়) মুস্তা’মাল পানি (ব্যবহৃত পানি) পাক নেকড়া (তেনা) দিয়ে না মুছে উঠবে না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৪তম পর্ব)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












