প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
, ২৫ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- তিনি বলেন, একদিন তিনজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আসলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল (ইবাদত) মুবারক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। উনাদেরকে যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আমল (ইবাদত) মুবারক সম্পর্কে সংবাদ দেয়া হলো, তখন উনারা নিজেদের আমলগুলো কম মনে করলেন এবং বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনিতো উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পুত-পবিত্র রেখেছেন।
অতঃপর উনাদের মধ্যে একজন বললেন, আমি সারা রাত্র নামায পড়ব একটুও ঘুমাব না। আরেকজন বললেন, আমি সারা বৎসর রোযা রাখবো একদিনও ভাঙ্গব না। আরেক জন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বললেন, আমি বিবাহ-শাদী করবো না, আহলিয়াদের নিকট যাব না।
এমন সময় সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করলেন এবং বলেন, ‘হে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম! আপনারাই কি এরূপ কথা বলেছেন যে, সারারাত্র নামায পড়বেন, সারা জীবন রোযা রাখবেন এবং বিবাহ করবেন না।’ তখন উনারা বললেন, হ্যাঁ আমরা এগুলো বলেছি।
তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার কসম, আমি আপনাদের চেয়ে সব চাইতে মহান আল্লাহ পাক উনাকে বেশী ভয় করি এবং আপনাদের চেয়ে আমি বেশী মুত্তাকী পরহেযগার। তথাপি আমি রাত্রে নামায পড়ি, আবার ঘুমাই, রোযা রাখি ও ভঙ্গ করি এবং আমি মহাসম্মানিত নিসবাতুল আযীম শরীফ (মহাসম্মানিত শাদী মুবারক) করেছি। এটাই আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক, সুতরাং যে আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক হতে ফিরে যাবে সে আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মিশকাত শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَمَنْ رَغِبَ عَنْ سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي.
অর্থ: যারা আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক থেকে বিমুখ থাকবে তারা আমার (উম্মতের) অন্তর্ভুক্ত নয়। (বুখারী শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার আলোচনা দ্বারা এটা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, সম্মানিত দ্বীন-ইসলাম উনার মধ্যে তাফরীত এবং ইফরাত অর্থাৎ বাড়ানো ও কমানোর অধিকার কাউকে দেয়া হয়নি। কাজেই, আমাদের সকল আমল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আদর্শ মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বায় করতে হবে, কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরযে আইন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সর্বাবস্থায় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সুস্বাস্থ্যের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কিছ্ছা অত্যন্ত উপকারী
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২২)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (১)
০২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নেককাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (৩)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২১)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নেক কাজে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব-ফযীলত ও মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












