সুন্নত মুবারক তা’লীম
পবিত্র দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ
, ০১ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৬ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ৩১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সকলের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ মুবারক। উনার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সমূহ যথাযথভাবে পালন করা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক। কেননা তিনিই কায়িনাতবাসীর জন্য বিশেষতঃ আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ মুবারক। আর এ ব্যাপারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ মুবারক। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)
কাজেই চলা-ফেরা, ওঠা-বসা সর্বক্ষেত্রে উনাকেই অনুসরণ মুবারক করতে হবে। আর উনার অনুসরণ মুবারক করতে হলে আগে আমাদেরকে মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক সম্পর্কে জানতে হবে। আসুন মজলিসে বসার সুন্নতী তারতীব সম্পর্কে জেনে নেই এবং আমলে বাস্তবায়ন করি।
দ্বীনি মজলিসে বা মাহফিলে বসার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সমূহ :
(১) মজলিসে কাউকে তার জায়গা থেকে উঠিয়ে দিয়ে সে স্থানে বসবে না। (বুখারী শরীফ)
(২) মজলিসের মধ্যে যদি কেউ নিজের জায়গা ছেড়ে যায় কিন্তু শীঘ্রই ফিরে এসে বসার ইচ্ছা রাখে, তবে সে জায়গা তার হক্ব । অন্য কারো সে জায়গায় বসা উচিত নয়। (মুসলিম শরীফ)
(৩) যখন কোন মুসলমান ভাই তোমাদের নিকট আগমন করবে তখন মজলিসে জায়গা থাকা সত্ত্বেও উনার সম্মানার্থে একটু সরে বা চেপে বসবে । (বায়হাকী শরীফ)
(৪) বিনা প্রয়োজনে শুধু নিজের ব্যস্ততা দেখিয়ে বিশেষ (নির্দিষ্ট) জায়গায় বসবে না। (বুখারী শরীফ)
(৫) মজলিসে এসে যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই বসে যাওয়া উচিত। লোকদেরকে ডিঙ্গিয়ে বিশেষ জায়গায় যাওয়ার চেষ্টা করবে না। (তিরমিযী শরীফ)
(৬) হাঁচি বড় আরামদায়ক জিনিষ। অতএব হাঁচি আসলে আলহামদুলিল্লাহ পড়বে। মহান আল্লাহ পাক উনার শুকরিয়া আদায় করবে এবং যে শুনবে সে ইয়ারহামুকাল্লাহু বলবে, পুনরায় হাঁচিদাতা বলবে, ইয়াহ্দিকুমুল্লাহু ওয়া ইউছ্লিহু বালাকুম । (বুখারী শরীফ)
(৭) বারবার হাঁচি দিলে প্রতি বার ইয়ারহামুকুমুল্লাহু বলার দরকার নেই । (তিরমিযী শরীফ)
(৮) হাঁচি দেয়ার সময় যাতে শব্দ কম হয় সেজন্য হাত বা কাপড় দ্বারা মুখ আবৃত করে নিবে । (তিরমিযী শরীফ)
(৯) হাই আসলে তা বন্ধ করতে চেষ্টা করবে । যদি একান্ত সম্ভব না হয় তবে মুখ ঢেকে নিবে অথবা বাম হাতের পিঠ দ্বারা ঢেকে নিবে। (বুখারী শরীফ)
(১০) বেশী জোরে হাসবে না, মুচকি হাসি দেয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক। (বুখারী শরীফ) এমনভাবে বসবে না যাতে সাধারণ লোক কথা বলতে ভয় পায় বরং সকলের সঙ্গে মিলে মিশে বসবে । সকলের সঙ্গে হাসি মুখে কথা বলবে।
(১১) মজলিসে লক্ষ্য রাখবে যেন সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ কোন আলাপ মজলিসে না হয়। (মুসলিম শরীফ)
(১২) মজলিসে কারো দিকে গা বাড়িয়ে বসবে না। (মুসলিম শরীফ)
(১৩) মজলিসের মধ্যে দরকার বশতঃ নিজের জায়গা হতে উঠতে হলে এবং পুনরায় ফিরে আসার ইচ্ছা থাকলে তবে রুমাল, পাগড়ী বা অন্য কিছু তথায় রেখে যাওয়া উচিত ।
(১৪) বিনা প্রয়োজনে রাস্তার পার্শ্বে রাস্তা বন্ধ করে বসবে না। (বুখারী শরীফ)
(১৫) ব্যক্তিগত মজলিসের মধ্যে যা শুনবে অনুমতি ব্যতীত তা অন্যত্র বর্ণনা করা আমানতদারীর পরিপন্থী এবং গুণাহের কাজ। (আবূ দাউদ শরীফ)
(১৬) কোন মজলিসে তিনজন থাকলে তম্মধ্যে একজনকে বাদ রেখে বাকী দু’জন আস্তে আস্তে কথা বলবে না। এতে তৃতীয় জনের মনে কষ্ট হবে। (বুখারী শরীফ) এছাড়া এমন কোন ইশারায় বা ভাষায় কথা বলা যাবে না যা তৃতীয় ব্যক্তি না বুঝে।
(১৭) দু’জন লোকের মাঝে অনুমতি ছাড়াই অপর কোন ব্যক্তি এসে বসে যাওয়া ঠিক নয় । (তিরমিযী শরীফ)
(১৮) মজলিসে বসার সময় প্রত্যেকে পৃথক পৃথক বসবে না বরং একে অপরের সাথে মিলে মিশে বসবে। (আবূ দাউদ শরীফ)
(১৯) প্রত্যেক বস্তুরই সরদার থাকে, আর মজলিসের সরদার হলো এমন মজলিস, যেখানে ক্বিবলামুখী হয়ে বসা হয়। (তবারানী শরীফ)
(২০) যারা মজলিসে বসে থাকবে তাদের উচিত কেউ আসলে তাকে জায়গা করে দেয়ার জন্য ব্যবস্থা করা বা মজলিস প্রশস্ত করা । (বুখারী শরীফ)
সকলের জন্য আবশ্যক হলো উপরোক্ত মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক যথাযথভাবে মেনে চলা। কেননা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেÑ
قَالَ حَضْرَتْ اَنَسُ بْنُ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ اَحَبَّ سُنَّتِيْ فَـقَدْ اَحَبَّنِيْ وَمَنْ اَحَبَّنِيْ كَانَ مَعِيَ فِي الْـجَنَّةِ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনাকে মুহব্বত করলেন, তিনি মূলতঃ আমাকেই মুহব্বত করলেন। আর যিনি আমাকে মুহব্বত করবেন, তিনি আমার সাথে সম্মানিত জান্নাতে অবস্থান করবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মু’জামুল আওসাত ৯ম খ- ১৬৮ পৃষ্ঠা: মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ নং ৯৪৩৯; শিফা শরীফ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক সঠিকভাবে পালন করে সর্বপ্রকার নেয়ামত মুবারক হাছিল করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পছন্দনীয় খাবার মুবারক “মাখন”
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার হারীসাহ
১৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার হাইস
১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নতী খাবার সাওয়ীক্ব (ছাতু)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার মাঠা (লাবান)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্র জুমুয়াহ শরীফ দিনের মহাসম্মানিত সুন্নতী আমল মুবারক
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সুস্বাস্থ্যের জন্য মহাসম্মানিত সুন্নতী খাদ্য কিছ্ছা অত্যন্ত উপকারী
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (২২)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কাফির-মুশরিকদের পণ্য পরিত্যাগ করে মহাসম্মানিত সুন্নতী পণ্য ব্যবহার করতে হবে
০৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৫)
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (৩)
০৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
গোসল করার খাছ সুন্নতী তারতীব মুবারক ও মাসয়ালা-মাসায়িল (২)
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












