নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে মানহানীকারীদের যুগে যুগে ভয়াবহ পরিণতি (৫০)
, ০৭ মে, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ইতিহাস
৩২. কির্কের শাসক রেজিনাল্ড:
‘আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ’ কিতাবে বর্ণিত রয়েছে- হযরত সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলামে প্রবেশের আহ্বান জানান। কিন্তু রেজিনাল্ড উনার আহবানে সাড়া না দিয়ে অস্বীকার করে। তখন হযরত সালাহউদ্দীন আইয়ুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
نَعَمْ، أَنَا أَنُوْبُ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الِانْتِصَارِ لِأُمَّتِهِ
‘হ্যাঁ, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে উনার উম্মতের সাহায্যার্থে প্রতিনিধি হিসেবে এসেছি।’
এরপর তিনি মালউন রেজিনাল্ডকে হত্যা করে তার মাথা তাবুতে অবস্থানরত অন্যান্য কাফির রাজাদের কাছে পাঠান। তিনি ঘোষণা করেন-
إِنَّ هٰذَا تَعَرَّضَ لِسَبِّ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘এই নিকৃষ্ট লোকটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছিলো।’ নাঊযুবিল্লাহ! (তার অর্জিত শাস্তিই তাকে প্রদান করা হলো।) (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১২/৩৯৩)
৩৩. এক শাতিম যিম্মীকে হত্যা:
হযরত গুরফা বিন হারিছ আল কিন্দী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু নামের একজন ছাহাবী ছিলেন। তিনি এমন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। যার সাথে এ চুক্তি ছিলো যে, তার জান-মালের হিফাযতের দায়িত্ব খলীফার। বিনিময়ে সে খিলাফতের বাইতুল মালে জিযিয়া কর জমা দিতো। ইসলামী পরিভাষায় যাকে যিম্মী বলা হয়। হযরত গুরফা বিন হারিছ আল কিন্দী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি যিম্মী লোকটিকে সম্মানিত ইসলাম উনার দাওয়াত দিলেন। লোকটি জবাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালি দিলো, উনার মানহানীমূলক কথা বললো। হযরত গুরফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি মুরতাদ লোকটিকে সেখানেই হত্যা করে ফেললেন।
এই সংবাদ হযরত আমর বিন আছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার নিকট পৌঁছলে তিনি হযরত গুরফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে বললেন, এ লোকের সাথেতো আমাদের অঙ্গীকার আছে। সে হিসেবে সে তো নিরাপত্তা পাওয়ার যোগ্য। আপনি তাকে হত্যা করলেন কেন?
হযরত গুরফা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জবাব দিলেন- ‘তার সাথে আমাদের অঙ্গীকার একথার উপর নয় যে, সে মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের শানে বেয়াদবী করবে, উনাদের মানহানী করবে আর আমরা তাকে নিরাপত্তা দিবো’। (হায়াতুছ ছাহাবা ২/৩৫১, উর্দূ ছাপা)
৩৪. মালউন নাথুরামকে হত্যা:
১৯৩৩ সনের কথা। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের হিন্দু আর্য সমাজের প্রধান সম্পাদক কুলাঙ্গার নাথুরাম ‘হিস্ট্রি অব ইসলাম’ নামে একটি বই রচনা করে। উক্ত বইয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অত্যন্ত জঘন্য অপবাদ আরোপ করে সে। এতে পাকিস্তানের মুসলমানগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। উনারা আদালতে ন্যায় বিচার চান। কিন্তু বেনিয়া আদালত কোনো ন্যায়বিচার করেনি।
আদালতকক্ষে বসা ছিলেন এক আশেকে রসূল যুবক। নাম গাজী আব্দুল কাইয়্যূম। আদালতে বিচারকের চোখের সামনেই তিনি নাথুরামকে ছুরিকাঘাতে জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। শাতিম নাথুরামকে প্রকাশ্যে হত্যার অপরাধে গাজী আবদুল কাইয়্যূমের ফাঁসির রায় হয়! তখনকার পাকিস্তানের মুসলিম বুদ্ধিজীবী ও আম জনতা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে চান। কিন্তু গাজী আবদুল কাইয়্যূম আপিলের আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন- ‘মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাকে শহীদী ইন্তেকাল নসীব করেন!’
উপায়ান্তর না পেয়ে ফাঁসির রায় মওকুফ করার জন্য গভর্নর জেনারেলকে সুপারিশ করার জন্য করাচির মুসলিম নেতৃবৃন্দ লাহোরে আল্লামা ইকবাল উনার কাছে যান। আশিকে রসূল এই মহান কবি তাদের কাছে জানতে চান-গাজী আবদুল কাইয়্যূম মানসিকভাবে কেমন আছেন? নেতৃবৃন্দ তাকে জানান-তিনি সম্পূর্ণ প্রফুল্ল; এমনকি তিনি গভর্নর জেনারেলের কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদনে স্বাক্ষর করতেও অসম্মতি প্রকাশ করেছেন। আল্লামা ইকবাল জবাব দেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এক আশিক যখন আপন জীবন দিয়ে ইশক্বের দাবি প্রমাণ করতে চান, আমাদের পক্ষে কি করে উনার আকাঙ্খায় বিঘœ সৃষ্টি করা উচিত?
এ কথা বলার সাথে আশেক কবি আল্লামা ইকবালের চোখ দিয়ে অশ্রুধারা নেমে আসে। গাজী আবদুল কাইয়্যূম উনার ফাঁসি কার্যকর হলো। আল্লামা ইকবাল গাজী ইলমুদ্দীন ও গাজী আবদুল কাইয়্যূম উনাদের স্মরণেই উনার বিখ্যাত কবিতা ‘লাহোর ও করাচি’ রচনা করেন। (ইসলাম ও সমকালীন বিস্ময়কর কয়েকটি ঘটনা, মুসলিম বাংলার সামাজিক ইতিহাস) (অসমাপ্ত)
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৭)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আফগানিস্তানেও উগ্রতাবাদী ওহাবী-সালাফীদের অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৪)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মুহব্বত করা পবিত্র ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের বিচার ব্যবস্থা চুরি করেই গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ, গ্রীক ও রোমানদের আইন ব্যবস্থা
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আজকের নির্যাতিত-নিপীড়িত নিষ্পেষিত মুসলিম জনপদের দখল যেভাবে নিলো কুখ্যাত ইহুদী গোষ্ঠী
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার খলীফা মনোনীত হওয়ার সঠিক ইতিহাস
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
উসমানীয় সুলতানের কাছে ফিলিস্তিনে ইহুদী রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ সংক্রান্ত ঐতিহাসিক একটি ঘটনা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ধূর্ত রোমান শাসককে আব্বাসীয় সালতানাতের দাতভাঙ্গা জবাব
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ দিন ও রাত্রই হচ্ছেন সর্বশ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে মহান, সবচেয়ে বড় ঈদের দিন
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ কুল-কায়িনাতের সকল রাত ও দিনের চেয়েও লক্ষ-কোটিগুণ বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ও ফযীলতপূর্ণ রাত ও দিন মুবারক
২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












