দেশের বুকে বিদেশি গোয়েন্দার ছায়া আর নয় শৈথিল্য, এখনই চাই কঠোর পদক্ষেপ
, ২২ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১১ মে, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ বৈশাখ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) আপনাদের মতামত
একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু বাইরের আগ্রাসন নয় - সবচেয়ে বড় শত্রু সেই বিষধর সাপ, যে রাষ্ট্রের বুকে লুকিয়ে থেকে ফণা তোলে। ইসরায়েলের মোসাদ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ এবং ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র - এই তিনটি বিদেশি সন্ত্রাসী গোয়েন্দা সংস্থার দেশীয় চর বা এজেন্টরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় রয়েছে বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বারবার উঠে এসেছে। এটি কোনো কল্পনা নয়, এটি রাষ্ট্রের জন্য একটি বাস্তব ও তাৎক্ষণিক হুমকি।
গোয়েন্দা অনুপ্রবেশের স্বরূপ :
বিশ্বের প্রতিটি দেশেই বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিজস্ব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তবে বাংলাদেশের মতো ভূ-রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশে এই অনুপ্রবেশ বহুস্তরীয় এবং সুপরিকল্পিত।
মোসাদের চক্রান্ত: ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ বিশ্বের অন্যতম দক্ষ ও নির্মম গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশে মোসাদের কার্যক্রম সাধারণত ব্যবসায়িক লেনদেন, এনজিও কার্যক্রম এবং সাইবার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। বাংলাদেশে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে জনগণের অবস্থান বিবেচনায় মোসাদের কাছে এ দেশের রাজনৈতিক তথ্য অত্যন্ত মূল্যবান।
সিআইএর জাল: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ দক্ষিণ এশিয়ায় তার কার্যক্রম দশকের পর দশক ধরে বিস্তৃত করে আসছে। কূটনৈতিক আবরণে, উন্নয়ন সহায়তার নামে, মিডিয়া নেটওয়ার্কে এবং রাজনৈতিক দলগুলোতে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে সিআইএ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পেছনে মার্কিন ষড়যন্ত্র ইন্ধনের অভিযোগ বহুবার উঠেছে।
র-এর শেকড়: ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ’র’ বাংলাদেশে সবচেয়ে পুরনো ও গভীরে প্রোথিত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে বলে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা দীর্ঘদিন ধরে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন। সাংস্কৃতিক, ভাষাগত ও ভৌগোলিক সাদৃশ্যের সুযোগ নিয়ে র-এর এজেন্টরা বাংলাদেশের সরকারি দফতর, সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ, মিডিয়া এবং কথিত সুশীল সমাজে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারণী মহলে র-এর প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি এখন আর কোনো গোপন বিষয় নয়।
ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা কতটা গভীর?
বিদেশি গোয়েন্দাদের দেশীয় নেটওয়ার্ক শুধু তথ্য চুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর ভয়াবহ পরিণতি বহুমাত্রিক -
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষতি: সামরিক স্থাপনা, প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ও কৌশলগত তথ্য শত্রুর হাতে পৌঁছে যায়।
রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি: নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা, বিরোধী শক্তিকে মদদ দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় বিভাজন তৈরির প্রচেষ্টা।
অর্থনৈতিক ক্ষতি: বিনিয়োগ পরিকল্পনা, বাণিজ্য চুক্তি ও বৈদেশিক সম্পর্কের গোপন তথ্য ফাঁস।
সামাজিক বিভাজন: দ্বীনি অবমাননা ও জাতিগত দ্বন্দ্ব উসকে দিয়ে সমাজকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা।
সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি: রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল অবকাঠামো ও সংবেদনশীল ডেটাবেজে অবৈধ প্রবেশাধিকার।
আইনি কাঠামো কি যথেষ্ট?
বাংলাদেশে ঙভভরপরধষ ঝবপৎবঃং অপঃ, ১৯২৩ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা আইনে বিদেশি গুপ্তচরবৃত্তি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের প্রয়োগ কতটুকু হয়েছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। গত কয়েক দশকে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে কতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে কতজনের বিচার সম্পন্ন হয়েছে - এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত হতাশাজনক। আইন থাকলেও তার প্রয়োগে যে গাফলতি, তা রাষ্ট্রের আত্মরক্ষার ক্ষমতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এখনই প্রয়োজন কঠোর পদক্ষেপ :
আমরা সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাচ্ছি- প্রথমত, মোসাদ, সিআইএ ও র-এর দেশীয় এজেন্টদের শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারে ইসলামী অনুভূতি ও অনুশাসনে পূর্ণ বলিয়ান হয়ে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, সরকারি দফতর, নিরাপত্তা বাহিনী এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রক্রিয়া আরও কঠোর ও বাস্তবভিত্তিক করতে হবে।
তৃতীয়ত, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত সংস্থাগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। চতুর্থত, সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তি রোধে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। পঞ্চমত, গ্রেফতারকৃত গুপ্তচরদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরণের কার্যক্রমে কেউ সাহস না পায়।
পরিশেষে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। এই মাটি লক্ষ শহীদের রক্তে সিক্ত। এ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা শুধু রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকের নৈতিক কর্তব্য। বিদেশি গোয়েন্দাদের দেশীয় দোসররা যদি এই মাটিতে নিরাপদে বিচরণ করতে পারে, তাহলে বুঝতে হবে রাষ্ট্রের মেরুদ- নয়, মেরুদ-ে বিঁধে থাকা শকুনের নখই এখন দেশের নীতি নির্ধারণ করছে।
-মুহম্মদ শামসিত তাবরিজ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিজিবির দায়িত্ব সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক আইনের বিজয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাতক্ষীরায় মসজিদ ভাঙার ধৃষ্টতা এবং আইনের শাসনের জরুরি প্রয়োজনীয়তা
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বঙ্গোপসাগরে সাম্রাজ্যবাদী নব্য-ক্রুসেডারদের সামরিক আগ্রাসনের এক পৈশাচিক ফাঁদ
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বাংলাদেশের কৌশলগত নিরপেক্ষতার সামনে নতুন ভূরাজনৈতিক ফিৎনা
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধন করতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
৫১ কোটির জনসংখ্যার জন্য ৫০ লক্ষ সেনাবাহিনী প্রয়োজন সাইবর্গ পদাতিক: এক্সোস্কেলিটন প্রযুক্তিতে মুসলিম বিশে^র যুগলবন্দি (পর্ব-২)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৫১ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশে ৫০ লক্ষাধিক নিয়মিত সশস্ত্র বাহিনীর কৌশলগত অপরিহার্যতা ও সামরিক রূপরেখা (পর্ব-১)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












