ছাহিবু লাওলাক, ছাহিবু ক্বাবা কাওসাইনি আও আদনা, ছাহিবে কাওছার, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে মুনাফিক্বদের গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের প্রামাণ্য ইতিহাস (১)
, ১৬ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আইন ও জিহাদ
সম্মানিত তাবুক প্রান্তর এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ উনাদের মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত একটি উপত্যকার নাম ‘আক্বাবা’। এই উপত্যকার উচ্চভূমির পথ ছিলো কঠিন ও দুর্গম, যা ‘আক্বাবা’ নামে পরিচিত। অপরদিকে, তার নিম্নভূমি ছিলো সমতল, সহজ ও সুগম- যেটি ‘বাতনুল ওয়াদী’ নামে পরিচিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত তাবুক জিহাদ মুবারক থেকে ফেরার পথে কিছু অভিশপ্ত মুনাফিক্ব উনার বিরুদ্ধে এক জঘন্য ষড়যন্ত্র করে। এক বর্ণনা মতে-
اَجْـمَعُوْا اَنْ يَّـقْتُـلُوْهُ
‘তারা সম্মলিতভাবে একমত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শহীদ করবে। ’ নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য কিতাবের বর্ণনা অনুযায়ী এই অভিশপ্ত মুনাফিক্বদের সংখ্যা ছিলো আনুমানিক ১২ জন। তারা পরস্পরকে বলে- ‘যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আক্বাবা পথ দিয়ে অতিক্রম করবেন, তখন আমরা উনাকে সেই দুর্গম ঢালু পথ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে শহীদ করবো। ’ নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
এদের মধ্যে মুনাফিক্ব ইবনে উইয়াইনা তার সাথীদের উদ্দেশ্যে বলেছিলো-
اِسْهَرُوْا هٰذِهِ اللَّـيْـلَةَ تَسْلَمُوا الدَّهْرَ كُلَّهٗ فَـوَاللهِ مَا لَـكُمْ اَمْرٌ دُوْنَ اَنْ يُّـقْتَلَ هٰذَا الرَّجُلُ
‘এই রাতটিতে পাহারায় থাকো, তাহলে সারা জীবন নিরাপদ থাকবে। মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! তোমাদের সামনে কোনো নিরাপত্তা নেই, যতক্ষণ পর্যন্ত এই মানুষটিকে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) শহীদ করা না হয়। ” নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ!
অপর এক অভিশপ্ত মুনাফিক্ব মুররা ইবনে রবী’ বলেছিলো-
تُـمِيْطِىْ وَالنَّعِـيْمُ لَـنَا مِنْ بَـعْدِهٖ كَائِنٌ تَـقْتُلُ الْوَاحِدَ الْمُفْرَدَ فَـيَكُوْنُ النَّاسُ عَامَّةً عَامَّةً بِقَتْلِهٖ مُطْمَئِـنِّـيْـنَ
‘এই এক ব্যক্তিকে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) সরিয়ে দাও, তাহলেই উনার পর আমাদের জন্য সুখ-শান্তি নিশ্চিত হবে। যদি এই একমাত্র ব্যক্তিকে (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) শহীদ করা হয়, তাহলে উনাকে শহীদ করার মাধ্যমে সকল মানুষই নির্ভয়ে জীবন যাপন করতে পারবে। ’ নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! তারা সুযোগের সন্ধানে থাকলো।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছাহিবে ইলমে গ¦ইব এবং হাযির-নাযির, সৃষ্টির সমস্ত কিছুই উনার জানা রয়েছেন। তারপরও স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অভিশপ্ত মুনাফিক্বদের এই ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের কথা জানিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আক্বাবা নামক ঐ দুর্গম পথের নিকট পৌঁছে একজন ঘোষণাকারীকে নিম্নোক্ত ঘোষণা মুবারক সবার মাঝে প্রচার করার জন্য নির্দেশ মুবারক দেন-
اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَخَذَ لِلْعَـقَبَةِ فَلَا يَـأْخُذْهَا اَحَدٌ وَاسْلُكُـوْا بَطْنَ الْوَادِىْ فَاِنَّهٗ اَسْهَلُ لَـكُمْ وَاَوْسَعُ
‘নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আক্বাবা পথ অবলম্বন করেছেন। অতএব, আপনারা কেউ যেন ঐ পথ অবলম্বন না করেন। বরং আপনারা সবাই উপত্যকার নিচের পথ (بَطْنُ الْوَادِىْ) দিয়ে অগ্রসর হোন। কেননা, সেটি আপনাদের জন্য অধিকতর সহজ ও প্রশস্ত। ’
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা তখন সকলেই আনুগত্যের সাথে সেই নির্দেশ মুবারক পালন করে নিচের পথ দিয়ে চলতে থাকেন। কিন্তু যারা অভিশপ্ত মুনাফিক্ব ছিলো, তারা এই স্পষ্ট ও প্রকাশ্য ঘোষণা মুবারক শুনেও তাতে কর্ণপাত করলো না। বরং তারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথেই ঐ দুর্গম আক্বাবা পথে উঠতে থাকলো। নিজেদের নিকৃষ্ট চক্রান্ত বাস্তবায়নের জন্য তারা প্রত্যেকে পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ মুখোশ পরিধান করে নিজেদের মুখম-ল ঢেকে ফেললো, যাতে কেউ তাদের চিনে না ফেলে।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন হযরত ‘আম্মার ইবনে ইয়াসির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন- ‘আপনি আমার উটনী মুবারক উনার রশি ধরে সামনে থেকে চালিয়ে নিয়ে যান। ’ আর হযরত হুযাইফা ইবনে ইয়ামান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ মুবারক দিলেন- ‘আপনি পিছন থেকে চালিয়ে নিন। ’ (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৬ষ্ঠ পর্ব)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৬)
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মুহব্বত ঈমান, আর উনাদের সমালোচনা করা লা’নতগ্রস্ত হওয়ার কারণ
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৬)
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
দ্বীন ইসলাম ব্যতিত অন্য কোন তন্ত্র-মন্ত্র নিয়মনীতি শরীয়তসম্মত নয়
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৫ম পর্ব)
২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৫)
২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৫)
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৪র্থ পর্ব)
১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (৪)
১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (৪)
১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (৩য় পর্ব)
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












