গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম কে স্থায়ী করা হোক
, ২১ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৬ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৫ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ২১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) বিশেষ প্রতিবেদন
একটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি কেবল সাংবিধানিক প্রধানই নন, তিনি জাতীয় ঐক্য, রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের প্রতীক। এমন একটি পদে এমন ব্যক্তিত্বের প্রয়োজন, যার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় দেশপ্রেম, নেতৃত্ব, অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতার সাক্ষ্য বহন করে। সেই বিবেচনায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রমের নাম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হতে পারে।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ একাধারে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনা কর্মকর্তা, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ¯স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি ১৯৬৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। সেক্টর ৮ ও ১১-এর বিভিন্ন দায়িত্ব এবং জেড ফোর্সের অধীনে কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বীরত্বসূচক খেতাব ‘বীর বিক্রম’ লাভ করেন।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধিকারী। একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য, মুক্তিযুদ্ধবিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সংসদ পরিচালনার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছেন। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রশাসনিক দক্ষতা, শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব এবং ব্যক্তিগত সততার ভাবমূর্তি তাঁকে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বর্তমান বৈশি^ক বাস্তবতায় জাতীয় নিরাপত্তা আর শুধু সীমান্তে অস্ত্র মোতায়েন বা সামরিক সক্ষমতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আজকের বিশে^ একটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নির্ভর করে তার সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা, কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, দক্ষ কূটনীতি, জাতীয় ঐক্য, সুশাসন এবং জনগণের আস্থার ওপরও। দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানিবায়ুজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক কৌশলগত পরিবর্তনের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাষ্ট্রের প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা যখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রপতির পদও কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সাংবিধানিক অবস্থান নয়; এটি রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা, স্থিতিশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অভিজ্ঞতা শুধু ইতিহাসের গৌরব নয়; এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে প্রত্যক্ষ উপলব্ধির প্রতীক। একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার অভিজ্ঞতা তাঁকে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, সংকট মোকাবিলা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং কমান্ড কাঠামোর বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর ধারণা দেয়। একই সঙ্গে দীর্ঘ সংসদীয় জীবন, মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন এবং সংসদের স্পিকার হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে সংবিধান, আইন, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান প্রদান করে। এছাড়া সংগঠন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বিশ^পরিসরে দেশের প্রতিনিধিত্ব, কূটনৈতিক শিষ্টাচার এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সর্বাধিনায়ক। যদিও দৈনন্দিন সামরিক কার্যক্রম সরকার ও বাহিনীর পেশাদার নেতৃত্ব পরিচালনা করে, তবুও রাষ্ট্রপতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। তিন বাহিনীর প্রধান নিয়োগে সাংবিধানিক ভূমিকা, সামরিক কমিশন প্রদান, রাষ্ট্রীয় ও সামরিক অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সাংবিধানিক অভিভাবক হিসেবে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ কারণে সামরিক কাঠামো, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও প্রশাসন সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন ব্যক্তির উপস্থিতি এই পদে মূল্যবান বিবেচিত হতে পারে।
মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, সামরিক নেতৃত্ব, রাষ্ট্রবিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, দীর্ঘ সংসদীয় অভিজ্ঞতা, মন্ত্রিত্ব, সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম রাষ্ট্রপতির পদের জন্য আলোচনাযোগ্য ও অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তিত্ব।
-ফিয়াদ নওশাদ ইয়ামিন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
আপনি কতটুকু মুসলমান...?
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রকান্ড কিছু দেখলেই অবনত হওয়া নত হওয়া একটি বদ খাছলত
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সমন্বিত অক্ষ ও বাংলাদেশের অবস্থান
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শক্ত মানসিকতার দৃঢ়চিত্ত শাসন: বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পার্বত্য চট্টগ্রামে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করা সরকারের জন্য ফরজ
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (২)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো জরুরি (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উপজাতিগুলোকে যেভাবে উস্কানি দিচ্ছে এনজিওগুলো
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আপনি কি শুকরের চর্বিযুক্ত সাবান দিয়ে গোসল করে ইবাদত বন্দেগী করছেন?
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী মূল্যবোধহীন সরকার ব্যবস্থায় ‘ভেজাল খাদ্য’
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থের চরম বিসর্জন-ভারতের উচ্চভোল্টেজ করিডর কার স্বার্থে?
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
অমান্য করলেই কাটা পড়বে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি
০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












