ইলমে তাছাউফ
কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকের গুরুত্ব ও ফযীলত (৬)
, ১৪ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১০ রবি’, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ২৩ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
ছোহবত (সংসর্গ) ক্রিয়া করে:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَطَاءٍ الْـخُرَاسَانِىْ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَصَافَحُوْا يَذْهَبِ الْغِلُّ وَتَـهَادَوْا تَـحَابُّوْا وَتَذْهَبِ الشَّحْنَاءُ.
অর্থ: হযরত আতা খুরাসানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পরস্পর মুছাফাহা করো। এতে অন্তরঙ্গতা বৃদ্ধি পায়, মনের কালি দূর হয়। একে অন্যকে হাদিয়া দাও। এতে মুহব্বত গভীর হয় এবং হিংসা-বিদ্বেষ দূরীভূত হয়। ” (মুয়াত্তা ইমাম মালিক, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ থেকে বুঝা যায় যে প্রতিটি বিষয়ের আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। অর্থাৎ প্রতিটি জিনিস তাছির করে, ক্রিয়া করে।
যেমন এখানে হাদিয়া দেয়ার সাথে মুহব্বত বৃদ্ধি হওয়ার বিষয়টি সংযুক্ত। মুসাফাহা করার সাথে অন্তরঙ্গতা বৃদ্ধি হওয়াটা সম্পৃক্ত। ঠিক একইভাবে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের সাথে রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার বিষয়টি সম্পৃক্ত। কাজেই প্রত্যেকটি বিষয়ের আলাদা আলাদা ক্রিয়া রয়েছে।
এজন্যই হযরত শেখ সা’দী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, তোমাদের সন্তান যখন চলাচলের উপযোগী হয় তখন তাকে কোন হক্কানী-রব্বানী আল্লাহওয়ালা উনার ছোহবতে পাঠাও। তাকেও আল্লাহওয়ালা বানানোর জন্য। আর যদি সে আল্লাহওয়ালা নাও হয় তবুও সে কখনও গোমরাহ হবে না। তা না হলে গোমরাহ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সুতরাং যারা হক্কানী রব্বানী আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত ইখতিয়ার করবেন উনারা কামালিয়াত অর্জন করতে সক্ষম হবেন। পাশাপাশি উনারা সহজেই মুহব্বত মা’রিফাত, রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করতে পারবেন।
ছোহবত ইখতিয়ার করা ব্যতীত কস্মিনকালেও ইলমে তাছাউফ অর্জন করা সম্ভব নয়:
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْل اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ وَ مُسْلِمة
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, প্রত্যেক মুসলমান নর-নারী সকলের জন্য ইলম অর্জন করা ফরয। (বায়হাক্বী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ, লুময়াত, তা’লীকুছ্ ছবীহ্, শরহুত্ ত্বীবী, মোযাহিরে হক্ব, আশয়াতুল লুময়াত)
আর সম্মানিত ইল্ম উনাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অর্থাৎ ইল্ম দুই প্রকার। যেটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ رحمة الله عَلَيْهِ الْعِلْمُ عِلْمَانِ عِلْمٌ فِي الْقَلْبِ وَعِلْمٌ عَلَى اللِّسَانِ فَعِلْمُ الْقَلْبِ هُوَ الْعِلْمُ النَّافِعُ وَعِلْمُ اللِّسَانِ حُجَّةُ اللَّهِ عَلَى عِبَادِهِ
অর্থ: “হযরত হাসান বসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইল্ম দু’প্রকার- ১. ক্বলবী ইল্ম অর্থাৎ ইল্মে তাছাউফ। আর এটাই মূলতঃ উপকারী ইল্ম। ২. যবানী ইল্ম অর্থাৎ ইল্মে ফিক্বাহ্, যা মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে বান্দার জন্য দলীল। ” (দারিমী, তারগীব ওয়াত তারহীব, তারীখ, আব্দুল বার, দাইলামী, বায়হাক্বী, মিশকাত, মিরকাত,শরহুত্ ত্বীবী)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আদেশ মুবারক করা হয়েছে সম্মানিত ইলিম মুবারক অর্জন করার জন্য। আর ইল্ম উনার দুটি শাখা রয়েছে সেটাও সু-স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এখন যেটা ইল্মে ফিক্বাহ সেটা সচরাচর অনেকের নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করা যায়। কিন্তু যেটা ইল্মে তাছাউফ তাই হক্কানী রব্বানী আল্লাহওয়ালা উনাদের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা ব্যতীত হাছিল করা সম্ভব নয়।
কাজেই, সকলেই একমত যে, ইল্মে তাছাউফ অর্জন করার মাধ্যমে অন্তর পরিশুদ্ধ করতঃ হুযূরী ক্বলব হাছিল করা তথা অন্ততঃপক্ষে বিলায়েতে আম হাছিল করা ফরয। এ ফরয ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করা সম্ভব হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত একজন কামিল মুর্শিদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত না হবে এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার না করবে।
সুতরাং ইল্ম অর্জন করা ফরয। আর এই ফরয আদায় করার জন্য বাইয়াত হয়ে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করাও ফরয। বাইয়াত হওয়া ব্যতীত কখনই হাক্বীক্বী ইল্ম অর্জন করা সম্ভব নয়। (চলবে)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












