ইলমে তাছাউফ
কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকের গুরুত্ব ও ফযীলত (৪)
, ৩০ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৬ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ১০ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইলমে তাছাউফ
ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার গুরুত্ব ও ফযীলত সম্পর্কে মাযহাব ও তরীক্বার ইমাম উনাদের কওল শরীফ:
হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি:
হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
لولا سنتان لهلك ابو نعمان
অর্থ: “আমি ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, আমি যদি দুটি বছর না পেতাম, তাহলে অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেতাম। ” অর্থাৎ হিদায়েতের উপর অটল থাকা আমার জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে যেতো।
এখানে ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে দু’বছরের কথা উল্লেখ করেছেন, সে দু’বছর তিনি উনার সম্মানিত শায়েখ, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে যিনি ষষ্ঠ ইমাম, হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম জাফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ইমাম জাফর ছাদিক্ব আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক হাছিল করে হাক্বীক্বী হিদায়েত মুবারক লাভ করেন। অর্থাৎ হাক্বীক্বী ইখলাছ অর্জন ও মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনাদের হাক্বীক্বী রেযামন্দি-সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করেন।
কাজেই, ছোহবত উনার গুরুত্ব কত বেশী তা বলার উর্ধ্বে। কেননা, হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সকল ইমাম উনাদের ইমাম, তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ আলিম, ফক্বীহ, ওলীআল্লাহ পাশাপাশি তিনি হযরত তাবেঈ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মধ্যে একজন বিশিষ্ট তাবেঈ হওয়া সত্ত্বেও হযরত ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা ব্যতীত কামালিয়াত অর্জন করতে পারেননি।
হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি:
ইমামে রব্বানী, মাহবুবে সুবহানী, কাইয়্যুমে আউওয়াল, হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে একবার বলা হলো, আপনি এত বড় নিয়ামত কিভাবে হাছিল করলেন? তখন তিনি জবাবে বললেন, আমার শায়েখ উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের মাধ্যমে আমি নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছি। আমি যখন শায়েখ উনার ছোহবতে উপস্থিত হতাম তখন আমি নিজেকে শূণ্য মনে করতাম। আর শায়েখ উনার প্রতি এমন আক্বীদা পোষণ করতাম যে, মহান আল্লাহ পাক এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের পরই আমার সম্মানিত শায়েখ উনার অবস্থান। সুবহানাল্লাহ! এজন্যই আমি এই মর্যাদা লাভ করতে সক্ষম হয়েছি।
হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি:
গাউছুল আ’যম, মাহবুবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, বড়পীর হযরত আব্দুল ক্বাদির জিলানী রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি ওলীয়ে মাদারজাত ও মাতৃগর্ভ থেকেই যিনি অর্ধেকেরও বেশী পবিত্র কুরআন শরীফ হিফয করে দুনিয়ায় তাশরীফ এনেছেন। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ নৈকট্যশীল বান্দা হওয়া সত্ত্বেও হক্কানী ওলীআল্লাহ উনার কাছে বাইয়াত হয়ে, ছোহবত ইখতিয়ারের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার মা’রিফত, মুহব্বত লাভ করেন।
তিনি স্বীয় কিতাব ফতহুর রব্বানী ও সিররুল আসরারের মধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, “প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য হক্কানী আল্লাহওয়ালা লোকের কাছে বাইয়াত হওয়া ফরযে আইন। ” আর অন্যান্য সকল ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও এর উপরে ঐক্যমত পোষণ করেছেন।
হযরত জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি:
কিতাবে এসেছে, বিশিষ্ট বুযূর্গ হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রুমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন-
ہر کے خواہد ہمنشینی باخدا +گو ناشیند در حضور اولیاء
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি চায় মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উঠা-বসা করতে, তাহলে সে যেন মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের সাথে উঠা-বসা করে। ” সুবহানাল্লাহ!
যেটা আরবীতে বলা হয়েছে-
من اراد ان يجلس مع الله فليجلس مع اهل التصوف
অর্থ: “কেউ যদি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে উঠা-বসা করতে চায়, সে যেন আহলে তাছাউফ বা আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে, উনাদের সাথে যেন উঠা-বসা করে, তাহলে সে প্রকৃতপক্ষে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথেই উঠা-বসা করলো। ” সুবহানাল্লাহ! (চলবে)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ
১৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭২)
১৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭১)
১৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৭০)
১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৯)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৬)
১২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৮)
১১ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৭)
১০ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ কিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৬৬)
০৮ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (৫)
০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












