ইলমে তাছাউফ
কামিল শায়েখ উনার ছোহবত মুবারকের গুরুত্ব ও ফযীলত (৩)
, ২২ ছফর শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৮ ছালিছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ আগস্ট, ২০২৫ খ্রি:, ০২ ভাদ্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইলমে তাছাউফ
ছোহবত ইখতিয়ার প্রসঙ্গে নির্দেশ মুবারক:
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ, সম্মানিত ও মর্যাদাবান হয়েছেন। তার একমাত্র কারণ হচ্ছে, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করেছেন। সুবহানাল্লাহ! ফলে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদের মাক্বাম মুবারক সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছেন। উনাদের সম্পর্কে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করা হয়-
رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট আর উনারাও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি সন্তুষ্ট। সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছাহাবিয়াতের সর্বশ্রেষ্ঠ মাক্বামাত মুবারকে অধিষ্ঠিত হয়ে যে নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছেন তা সৃষ্টির কেউ হাছিল করতে পারেনি এবং কস্মিনকালেও হাছিল করতে সক্ষম হবে না।
আর পরবর্তীতে সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও পর্যায়ক্রমে আল্লাহওয়ালাগণ উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক হাছিল করে হিদায়েতপ্রাপ্ত হয়েছেন।
ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার গুরুত্ব:
খইরুত তাবিয়ীন, হযরত ওয়ায়েছ আল ক্বরনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সম্পর্কে বলা হয়, তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারকে এক এক করে উনার সমস্ত দাঁত মুবারক ভেঙ্গে ফেলেছিলেন। আর উনার শান মুবারকে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت عمر رضى الله تعالى عنه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان خير التابعين رجل يقال له وائس وله والدة كان به بياض فمروه فليستغفر لكم.
অর্থ: “সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমি শুনেছি, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই তাবিয়ীনদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হচ্ছেন ওই ব্যক্তি যিনি হযরত ওয়ায়িছ আল ক্বরনী রহমতুল্লাহি আলাইহি। (তিনি ক্বরন দেশের অধিবাসী। ) সেখানে উনার মা রয়েছেন “যদি তোমরা উনার সাক্ষাৎ পাও, উনাকে বলো, উনি যেন তোমাদের জন্য দোয়া করেন সুবহানাল্লাহ! (হিলইয়াতুল আওলিয়া)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত ওয়ায়িছ আল ক্বরনী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার এত বড় মর্যাদা-মর্তবা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি উনার মায়ের খিদমতে মশগুল থাকার কারণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতে পারেননি। (কোনো কোনো বর্ণনায় রয়েছে, উনি একবার এসেছিলেন কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ উনার বাহিরে ছিলেন। তাই উনার দীদার মুবারক লাভ করতে পারেননি। তিনি ফিরে গিয়েছেন। )
এখন বলার বিষয় হচ্ছে, উনার এত মর্যাদা থাকার পরেও উনি তাবিয়ী হয়েছেন, ছাহাবীয়তের মাক্বাম অর্জন করতে পারেননি। একজন ছাহাবী হচ্ছেন তিনি; যিনি একবার মাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ঈমানের সাথে দেখেছেন, ঈমানের সাথে যমীনে অবস্থান করেছেন এবং ঈমানের সাথে বিদায় নিয়েছেন। তিনি ছাহাবী। আর উনার মর্যাদা একজন তাবিয়ী থেকে লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহ!
এজন্য উনার সম্পর্কে হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার স্বরচিত মাকতুবাত শরীফ গ্রন্থে উল্লেখ করেন-
হযরত ওয়ায়িছ আল ক্বরনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারেননি। কেননা, তিনি যদি হাক্বীক্বীভাবেই ছোহবত মুবারক ইখতিয়ারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতেন, তাহলে উনার মায়ের খিদমতে অন্য কাউকে নিয়োগ করে তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতেন। (মাকতুবাত শরীফ)
তাহলে ছোহবত মুবারক উনার গুরুত্ব ও ফযীলত কত সীমাহীন তা চিন্তা কল্পনার উর্ধে। শুধু তাই নয়; কিতাবে বর্ণিত রয়েছে-
یک زمانه صحبت با اولیا--بهتر از صد سال تعات بے ریا
“কিছুক্ষণ সময় আল্লাহওয়ালা উনাদের ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করা হচ্ছে একশত বছর নফল ইবাদত থেকে বেশী ফযীলতপূর্ণ। ” (চলবে)
-মুহম্মদ হুসাইন নাফে’।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইলমে ফিক্বাহ ও ইলমে তাছাওউফ উনাদের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা
১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৫) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৪) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৩) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’জীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫২) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫১) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৯) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
২০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৪৮) শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা যখন যা আদেশ করবেন তখন তা পালন করাই মুরীদের জন্য সন্তুষ্টি লাভের কারণ
১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (৪৭)
১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র ছোহবত মুবারক গ্রহণের ফাযায়িল-ফযীলত, গুরুত্ব-তাৎপর্য ও আবশ্যকতা:
০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












