ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১)
, ২৪ রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৬ ছামিন, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ৩৯ পৌষ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আইন ও জিহাদ
‘খন্দক’ অর্থ পরিখা। এই জিহাদে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার প্রবেশপথে দীর্ঘ পরিখা খনন করা হয়েছিলো বলে একে খন্দকের যুদ্ধ বলা হয়। ‘আহযাব’ অর্থ দলসমূহ। পবিত্র পবিত্র মদীনা শরীফসহ মুসলমানদের সমূলে ধ্বংস করার জন্য কুরায়েশদের মিত্র দলসমূহ এক হয়েছিলো বিধায় একে ‘আহযাবের যুদ্ধ’ বলা হয়।
পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বনু নাযীর ইহুদী গোত্রটিকে খায়বরে নির্বাসনের মাত্র ৭ মাসের মাথায় খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। খন্দকের এই জিহাদ ছিলো পবিত্র মদীনা শরীফ উনার উপরে পুরা আরবের শত্রু দলগুলির এক সর্বব্যাপী হামলা। যা ছিলো প্রায় মাসব্যাপী কষ্টকর অবরোধের এক দুঃসহ অভিজ্ঞতাপূর্ণ অভিযান। এই জিহাদে শত্রু সৈন্যের সংখ্যা ছিলো ১০,০০০। যা ছিলো পবিত্র মদীনা শরীফ উনার আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা মিলে মোট জনসংখ্যার চাইতে বেশী। মুসলিম বাহিনীর সৈন্যসংখ্যা ছিলো ৩০০০। কিন্তু তারা যে অভিনব যুদ্ধকৌশল অবলম্বন করেন, তা পুরা আরব সম্প্রদায়ের নিকটে ছিলো অজ্ঞাত। ফলে তারা হতাশাগ্রস্ত ও পর্যদুস্ত হয়ে অবশেষে পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এই জিহাদে নেপথ্যচারী ছিলো পবিত্র মদীনা শরীফ থেকে বিতাড়িত বনু নাযীর ইহুদী গোত্রের নেতারা। মুসলমানদের বিরতীহীন উন্নতি দেখে হিংসায় জর্জরিত খায়বরে বিতাড়িত বনু নাযীরের ইহুদী নেতারা ২০ জন নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিকে মক্কার কুরায়েশ নেতৃবৃন্দ এবং নাজদের বেদুঈন গোত্র বনু গাত্বফান ও অন্যান্য বড় বড় গোত্রের কাছে প্রেরণ করে। তারা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মুসলিম শক্তিকে নির্মূল করার জন্য প্ররোচিত করে। ফলে সমস্ত আরবে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সাজ সাজ রব পড়ে যায়।
অতঃপর হযরত আবু সুফিয়ান রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা (তখনও উনি মুসলমান হননি) উনার নেতৃত্বে কেনানা ও তেহামা গোত্রের মিত্রবাহিনী মিলে ৪,০০০ এবং বনু সুলায়েম ও বনু গাত্বফানের বিভিন্ন গোত্রের ৬,০০০ মোট দশ হাযার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী সমুদ্র তরঙ্গের মত গিয়ে পবিত্র মদীনা শরীফে আপতিত হয়’। (আর-রাহীক্ব ৩০১-০৩, ৩০৬ পৃষ্ঠা)
অপরপক্ষে পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মুসলমানরা হুঁশিয়ার নেতৃত্ব গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে আগেই সাবধান হয়ে যান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিরোধীদের খবর জানার জন্য হযরত যুবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা উনাকে নিয়োগ করেন। তিনি বলেন- ‘শত্রুপক্ষের খবর আনার জন্য কে আছো? যুবায়ের বললেন, আমি। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, প্রত্যেক হযরত নবী আলাইহিস সালাম উনার জন্য একজন ‘হাওয়ারী’ (নিকট সহচর) থাকে। আমার হাওয়ারী হলেন হযরত যুবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা ’অনহু তিনি। (বুখারী শরীফ হা/২৮৪৬)। শত্রুপক্ষ বলতে এখানে বনু কুরায়জাকে বুঝানো হয়েছে। তারা কুরায়েশদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করেছে কি না, তার খবর সংগ্রহের জন্য হযরত যুবায়ের ইবনুল ‘আওয়াম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে পাঠানো হয়। অতঃপর যুদ্ধ শেষে কুরায়েশ শিবিরের অবস্থা জানার জন্য হুযায়ফাকে পাঠানো হয়। (ফাতহুল বারী)
অতঃপর অভিজ্ঞ ছাহাবীগণের সাথে পরামর্শ মোতাবেক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদীনার উত্তর মুখে ওহুদের দিকে দীর্ঘ পরিখা খনন করেন এবং তার পিছনে ৩,০০০ সুদক্ষ সৈন্য মোতায়েন করেন। এর কারণ ছিলো এই যে, তিনদিকে পাহাড় ও খেজুর বাগিচা বেষ্টিত পবিত্র মদীনা শরীফ নগরী প্রাকৃতিক ভাবে সুরক্ষিত দুর্গের মত ছিলো। কেবল উত্তর দিকেই মাত্র খোলা ছিলো। যেদিক দিয়ে শত্রুদের হামলার আশংকা ছিলো। এখানে পরিখা খনন করা হয়। যার দৈর্ঘ্য ছিলো ৫০০০ হাত, প্রস্থ ৯ হাত ও গভীরতা ৭ থেকে ১০ হাত। প্রতি ১০ জনকে ৪০ হাত করে খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়’। (সীরাহ ছহীহাহ ২/৪২০-২১)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মদীনার অভ্যন্তের ভাগের সালা‘ (سَلْع) পাহাড়কে পিছনে রেখে তাঁর সেনাবাহিনীকে খন্দকমুখী করে সন্নিবেশ করেন এবং নারী ও শিশুদেরকে বনু হারেছার ফারে‘ (فَارِع) দুর্গে রেখে দেন। যা ছিলো মুসলমানদের সবচেয়ে মজবুত দুর্গ’। (সীরাহ ছহীহাহ ২/৪২৫)
-আল্লামা মুহম্মদ নাজমুল হুদা ফরাজী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৯)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৬তম পর্ব)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৮)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৭)
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৭)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়:(১৫তম পর্ব)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৬)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৬)
২০ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৪তম পর্ব)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
গাযওয়াতুল হুদায়বিয়াহ বা হুদায়বিয়ার জিহাদ (১৫)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ঐতিহাসিক সম্মানিত খন্দকের জিহাদ (১৫)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সম্মানিত উহুদ উনার পরিচয়: (১৩তম পর্ব)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












