ইসলামী বিশ্বকোষের আলোকে বালাকোট শহরের স্থাপত্য ও বালাকোট যুদ্ধের ইতিহাস (৩)
, ০৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ০২ আউওয়াল, ১৩৯৩ শামসী সন , ০১ জুন, ২০২৫ খ্রি:, ১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) ইতিহাস
হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেহেতু এই যুদ্ধের প্রধান ও হেড কমান্ডার। এবং উনার নির্দেশনায় ও পৃষ্ঠপোষকতায় এই জিহাদ সংঘটিত হয়েছিলো; তাই বলাই যায় তিনি সম্মানিত ইসলাম উনার ইতিহাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। উনার বিছাল শরীফের পর স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন আসতে পারে, উনার মাজার শরীফ কোথায় অবস্থিত। তবে বিভিন্নজনদের মতে, উনার মাজার শরীফ কোথায় তা চিহ্নিত করা নেই। কেউ কেউ উনার মাজার শরীফ এখনো তালাশ করে।
এই কথা বলা অনাবশ্যক যে, প্রথমত এত বছর পর এসে দুই গজ লম্বা ও এক গজ চওড়া একটি স্থানে নির্ভুলভাবে নির্দেশ করতে পারা প্রায় অসম্ভব অথবা বলা যায় যে, এই বিষয়ে নিশ্চিত নির্ভুলতায় পৌঁছানোর দাবিকে বিবেচনা বহির্ভূত মনে করা উচিত। দ্বিতীয়ত যদি এই কথা স্বীকার করেও নেয়া হয় যে, উক্ত চিহ্নিতকরণ সঠিক ও নির্ভুল ছিলো, তথাপি এটা নিশ্চিত যে, হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জিসিম মুবারক চিহ্নিত করবে এমন কেউ বর্তমানে নাই। কারণ উনাকে দাফন করার স্বপক্ষে কোনও বর্ণনা ইতিহাসে পাওয়া যায় না।
বালাকোটের যুদ্ধ:
সর্বশেষে বালাকোট যুদ্ধের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয়া হলো- হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যে পাঞ্জতার (খাদ্দ ওয়াখায়ল) নামক স্থানে অবস্থিত মুজাহিদ কেন্দ্র ত্যাগ করে হাযারা জেলার উচ্চ ভূমির দিকে গমন করেছিলেন, উনার উদ্দেশ্য ছিলো কাশ্মীরের দিকে অগ্রসর হয়ে কাশ্মীরকেই কেন্দ্র বানিয়ে উপমহাদেশকে বিধর্মী ও বিদেশীদের যবর দখলদারী হতে মুক্ত করার পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা। এই সময়ে কাশ্মীর গমনের পথে খান ও সামন্তগণ মুজাফফারাবাদের শাসনকর্তা যবরদস্ত খান, ঘুড়ী অঞ্চলের সামন্ত নাজাফ খান, দেরাবা অঞ্চলের সামন্ত মানসুর খান ও গাঢ়ী অঞ্চলের সামন্ত হাবীবুল্লাহ খানের পক্ষ হতে সাহায্য প্রার্থনা করে উনার নিকট আবেদন আসলো। এমনকি যবরদস্ত খানের সাহায্যার্থে মাওলাবী খায়রুদ্দীন শেরকূটী-এর নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ মুজাফফারাবাদে প্রেরিতও হলো।
এদিকে যখন জানা গেলো যে, শিখ সেনাপ্রধান শের সিং বিরাট এক বাহিনী নিয়ে পাখলী নামক স্থানে পৌঁছে গেছে, তখন উক্ত বাহিনী কোন দিকে অগ্রসর হয় তা দেখে শুনে পরবর্তী করণীয় স্থির করা আবশ্যক বলে বিবেচিত হলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি শের সিং এর বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদে লিপ্ত না হয়েই সম্মুখে কাশ্মীরের দিকে অগ্রসর হতে পারতেন; কিন্তু তিনি এরূপ করলে এই সুযোগে শিখ বাহিনী হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে ধর্মীয় ভিত্তিতে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে সম্পৃক্ত অত্র অঞ্চলের খানদেরকে জুলুম-অত্যাচারের শিকার বানাতো। তাই তিনি উল্লেখিত খানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হাযারা জেলাতেই অবস্থান করা যুক্তিযুক্ত মনে করলেন। তিনি যখন শুনতে পেলেন যে, শের সিং ভূগাড়মুঙ্গ গিরিপথ আক্রমণ করার পরিকল্পনা করেছে, তখন তিনি নিজে রাজ দাওরান হতে সাচ্চূণ পৌঁছলেন এবং হযরত শাহ ইসমাঈল শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বালাকোটে পাঠিয়ে দিলেন।
অতঃপর জানা গেলো যে, শিখ সৈন্যরা বালাকোট আক্রমণ করতে পারে। ফলে তিনি ভূগাড়মুঙ্গের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে নিজে বালাকোট চলে আসলেন। সেই সময়ে শের সিং-এর শিবির কুনহার নদীর পূর্ব তীরে অবস্থিত শোহাল নাজাফ খান গ্রামের সম্মুখে ময়দান নামক স্থানে স্থাপিত ছিলো। শিখ বাহিনীর জন্য বালাকোটে মুসলিম বাহিনীর উপর আক্রমণ চালাবার বাহ্যত দুটি পথ ছিলো। প্রথম পথ এই যে, মুসলমানরা কুনহার নদীর পূর্ব তীর বরাবর উত্তর দিকে অগ্রসর হবার পর নদী পার হয়ে বালাকোটে পৌঁছতেন। দ্বিতীয় পথ এই যে, তারা ভূগাড়মুঙ্গ গিরিপথের মধ্য দিয়ে বালাকোটে পৌঁছতেন। বস্তুত: বালাকোটে পৌঁছার জন্য তাদের সম্মুখে কোনও সোজা পথ ছিলো না।
কয়েক দিন অপেক্ষা করার পর শিখ শিবিরে অগ্রযাত্রার তৎপরতার চিহ্ন লক্ষ্য করা গেলো। তারা নিকটেই নদীর উপর কাঠের পুল নির্মিত করে রেখেছিলো। উক্ত পুলের উপর দিয়ে শিখ সৈন্যরা নদী পার হলো। তাদের এই কার্যক্রম দেখে অনেকটা ধারণা পাওয়া গেলো যে, তারা হয় ভূগাড়মুঙ্গ গিরিপথের দিকে অগ্রসর হয়েছে অথবা ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকৃত ঘটনা ছিলো এই যে, শিখ সৈন্যরা পার্বত্য বক্র পথ দিয়ে মেট্টী কোটে পৌঁছার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো।
উল্লেখ্য যে, তাদের এই কাজ করার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ ছিলো। যাই হোক শিখরা সোহাল নাজাফ খান গ্রামের দক্ষিণ দিক দিয়ে এবং সোহাল পশ্চাতে পৌঁছেছিলো। হযরত সাইয়্যিদ আহমদ শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বালাকোটের কয়েকটি স্থানে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রেখেছিলেন। তিনি বালাকোটের দক্ষিণাংশে খাড়িয়ানের কাছে এবং পূর্বদিকে পুলের কাছেও সেনাবাহিনী মোতায়েন করে রেখেছিলেন। এভাবে তিনি মেট্টী কোটে ও এর পাহাড়ি রাস্তায়ও একেকটি করে সামরিক চৌকি বসিয়ে রেখেছিলেন। সেই দিকের সর্বাগ্রে স্থাপিত চৌকির নেতা ছিলেন মীর্জা আহমদ বেগ খান। অকস্মাৎ উনার চৌকির দিক হতে গুলির শব্দ শোনা গেলো। জানা গেলো যে, শিখ সৈন্যরা সেই দিক দিয়ে বালাকোটের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। (মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত। )
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হাজিব আল মানসুর: যে সেনাপতি পরাজিত হননি কোনো যুদ্ধে
২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পবিত্র আযানের জন্য ২২ জন মুসলমানের শহীদ হওয়ার ঈমানদীপ্ত ঘটনা
১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাহাদুর শাহ জাফর: ব্রিটিশবিরোধী শেষ মোঘল শাসক
১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিরি রইস: বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ মানচিত্র অঙ্কনকারী উসমানীয় এডমিরাল
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৬)
০১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তাতার বিরোধী যুদ্ধে হযরত আমীর খসরু দেহলভী চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মুসা বিন আবী গাসসান: হার না মানা এক অকুতোভয় মুসলিম সিপাহী
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৭)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আফগানিস্তানেও উগ্রতাবাদী ওহাবী-সালাফীদের অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বঙ্গ, বাংলা, বাঙ্গালী শব্দের উৎপত্তি মুসলমানদের মাধ্যম দিয়েই (৪)
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে মুহব্বত করা পবিত্র ঈমানের অন্তর্ভুক্ত
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের বিচার ব্যবস্থা চুরি করেই গড়ে উঠেছে ব্রিটিশ, গ্রীক ও রোমানদের আইন ব্যবস্থা
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












