সৌদি ওহাবিবাদের ইহুদি-ব্রিটিশ উৎস:
ইরাকি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আলোকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্যের উন্মোচন
, ২৮ যিলক্বদ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৭ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৭ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) বিদেশের খবর
ইতিহাসের সত্য কখনো কখনো কল্পকাহিনীর চেয়েও ভয়ঙ্কর হয়। গত কয়েক দশক ধরে মুসলিম বিশে^র অনৈক্য, চরমপন্থা এবং ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গার মূলে যে মতবাদটি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় রয়েছে, তা হলো নজদ থেকে উদ্ভূত ‘ওহাবি’ মতবাদ। অভিশপ্ত দেওহিন্দু কর্তৃক সুদীর্ঘকাল ধরে এই মতবাদকে দ্বীন ইসলাম উনার একটি সংস্কারপন্থী ধারা হিসেবে অপপ্রচার করা হলেও, ইরাকি গোয়েন্দা সংস্থার এক টপ সিক্রেট প্রতিবেদন ভয়াবহ সত্য প্রকাশ করেছে। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সাদ্দাম এর শাসনামলে ইরাকের জেনারেল মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টরেট কর্তৃক প্রণীত একটি অতি গোপনীয় নথিতে ওহাবিবাদের জন্মের পেছনে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইহুদি বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির গভীর ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল-The Emergence of Wahhabism and its Historical Roots। সাদ্দাম সরকারের পতনের পর খোদ আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর এই নথির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে, যা বর্তমানে ফেডারেল অ্যাকুইজিশন সার্ভিসের মাধ্যমে বিশ^বাসীর কাছে উন্মুক্ত। এই প্রতিবেদনের প্রতিটি লাইন মুসলিম মিল্লাতের জন্য এক সতর্কবার্তা। কর্ণেল সাঈদ মাহমুদ নাজম আল-আমিরি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত এই দলিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওহাবিবাদের প্রতিষ্ঠাতা ইবন আব্দুল ওহাবের দাদা সুলায়মান ছিল মূলত তুরস্কের বুরসা শহরের একজন ইহুদি ব্যবসায়ী। তার আসল নাম ছিল ‘শুলম্যান’, যে তথাকথিত ‘দোঁনমে’ বা ক্রিপ্টো-জু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইহুদিদের এই বিশেষ দলটি বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণ করে দাড়ি ও পাগড়ি রাখলেও গোপনে ইহুদি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করত। এই শুলম্যান নজদ অঞ্চলে এসে নিজেকে আরবের সম্ভ্রান্ত বংশের লোক হিসেবে দাবি করে এবং তার পৌত্র ইবন আব্দুল ওহাবের মাধ্যমে ইসলামের মূল ধারায় বিষবৃক্ষ রোপণ করে।
প্রতিবেদনটির তথ্যমতে, ওহাবিবাদের উত্থান কোনো আধ্যাত্মিক বিপ্লব ছিল না, বরং এটি ছিল তৎকালীন উসমানীয় খিলাফতকে ভেঙে দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই-৬’ এর একটি ভূ-রাজনৈতিক অপকৌশল। ব্রিটিশ গোয়েন্দা হেমপার -এর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সাথে ইরাকি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এই তথ্যগুলো হুবহু মিলে যায়। অভিশপ্ত ওহাবিরা দ্বীন ইসলামের নামে এমন এক উগ্র ধারা তৈরি করেছে, যা হযরত আহলে বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম ও হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের মর্যাদাহানি করা এবং মুসলমানদের রক্ত হালাল করার সাথে সাথে মাজার শরীফ-খানকাহ শরীফ ধ্বংস করার মাধ্যমে সুন্নী ইসলামের মূল শক্তিকে ভেতর থেকে পঙ্গু করে দিয়েছে। আজ যখন আমরা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরব বিশে^র রহস্যময় নীরবতা দেখি, তখন ইরাকি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের এই ‘ইহুদি শেকড়ের’ তত্ত্বটি নতুন করে প্রাণবন্ত হয়।
এই প্রতিবেদনে আরও প্রমাণ দেওয়া হয়েছে যে, সৌদি রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ইবনে সউদ এবং ওহাবি মতবাদের প্রতিষ্ঠাতা ইবনে আব্দুল ওহাবের মধ্যে আঁতাত ছিল, যা মূলত পশ্চিমা শক্তির সাথে করা একটি গোপন চুক্তি। যার লক্ষ্য ছিল পবিত্র হারামাইন শরীফাইনকে মুসলমানদের দ্বীনি অনুভূতি থেকে সরিয়ে একটি বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত করা। ওহাবি মতবাদ প্রচারের জন্য পেট্রো-ডলারের যে বিশাল বিনিয়োগ গত ৫০ বছরে করা হয়েছে, তা কেবল মুসলিম উম্মাহকে বিভক্তই করেনি, বরং বিশ^জুড়ে ‘ইসলামোফোবিয়া’ বা ‘ইসলামভীতি’ ছড়িয়ে দিতে পশ্চিমা শক্তিকে রসদ জুগিয়েছে।
পরিশেষে এটি স্পষ্ট যে, ওহাবিবাদের নামে যে বিকৃত ধর্মতত্ত্ব আজ বিশ^জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, তার উদ্দেশ্য হেদায়েত নয়-বরং ইসলাম উনার প্রাণকেন্দ্রকে ইহুদি-ব্রিটিশ নীল নকশার অধীনস্থ করা। ইরাকি গোয়েন্দা প্রতিবেদনটি আজ ফেলে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই; কারণ ইতিহাসের সত্যগুলো যখন দালিলিক রূপ নেয়, তখন তা মিথ্যার প্রাসাদে ফাটল ধরাবেই। এখন প্রশ্ন হলো- আমরা কি দ্বীন ইসলামের প্রকৃত নূরে আলোকিত হবো, নাকি ইহুদি শুলম্যানের বংশধরের তৈরি করা ‘ওহাবী’ ফাঁদে পা দিয়ে ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে যাবো? অবশ্যই ওহাবী-ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।
মনে রাখা প্রয়োজন, যে বৃক্ষের শেকড়ে বিষ রয়েছে, তার ডালে কখনো অমৃত ফল ধরবে না- আর ওহাবিবাদের শেকড় যেহেতু ইহুদি শুলম্যানের দোঁনমে হয়, তবে তার ফল যে ‘জায়নবাদের’ পদলেহন হবে, তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে।
-মুহম্মদ কুররাতুল আইন হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
‘হিজবুল্লাহ না থাকলে সন্ত্রাসী ইসরায়েল বৈরুতে পৌঁছে যেতো’
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইরান ও পাকিস্তান ১০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভারতে পুষ্টিকর খাবারের প্যাকেটে মিললো মৃত সাপের বাচ্চা
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
যুদ্ধবিরতি ভাঙতে চাইছে সন্ত্রাসী ইসরায়েল, অভিযোগ হামাসের
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়ার দ্বারপ্রান্তে ইরান’
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সন্ত্রাসী ইসরায়েলের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বেলজিয়ামের শিক্ষাবিদদের আহ্বান
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
‘হরমুজ প্রণালিই এখন ইরানের পারমাণবিক বোমা’
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ভূমিকম্পে কাঁপলো ভারতের হিমাচল
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসরাইলের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয়
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হামাসের বীরত্ব:
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসরাইলের অর্থনীতিতে চরম বিপর্যয়
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
গাজায় ব্যারেল বিস্ফোরক ডিভাইসের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ইসরায়েলি সামরিক যান ধ্বংস করার পরের দৃশ্য ।
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












