প্রসঙ্গ: সশস্ত্র বাহিনী দিবস ও সেনাপ্রধানকে ‘সেনাবাহিনী পদক’ প্রদান- সেনাবাহিনীর সম্মান- দেশ জনতার সম্মান কিন্তু পিনাকী-ইলিয়াস-এনসিপি গংরা ভারত বিরোধিতার নামে মিথ্যাচারিতা ও অপবাদ যুক্ত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবমাননা করতে চায়
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ।
, ২২ নভেম্বর, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মন্তব্য কলাম
সেনাবাহিনীর সম্মান- দেশ জনতার সম্মান
কিন্তু পিনাকী-ইলিয়াস-এনসিপি গংরা ভারত বিরোধিতার নামে
মিথ্যাচারিতা ও অপবাদ যুক্ত করে
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবমাননা করতে চায়
তা মূলত: ভারতের কূট উদ্দেশ্যই সফল করে (নাউযুবিল্লাহ)
সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং ক্যান্টনমেন্ট, ডি.জি.এফ.আই অফিস ঘেরাও করার ঘোষণা
একদিকে চরম দেশদ্রোহী
পাশাপাশি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অপদস্থ করার হীণ ষড়যন্ত্র।
সেনাবাহিনীকে দক্ষ ও সমৃদ্ধ করার জন্য সেনাপ্রধানের প্রয়াস প্রশংসনীয়।
বাংলাদেশের জনগণ এখন সেনাবাহিনীর দিকে তাকিয়ে আছে।
সেনাবাহিনীকে জনগণের অন্তর বুঝতে হবে। দেশ-পরিচালনায় সত্ত্বর সক্রিয় ভূমিকা তথা সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে হবে ইনশাআল্লাহ
সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে ‘সেনাবাহিনী পদক’ দিয়েছেন ইউনূস।
এ দিবস উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এই পদক দেন ইউনূস।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস। যে দিনটিকে বলা হয় সম্মান, সাহস আর দেশরক্ষার প্রতীক। ১৯৭১ সালে এ দিনেই একসঙ্গে যুদ্ধে নামে সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী। এই সমন্বিত অভিযানই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে যায় বিজয়ের আরও কাছে। সেই থেকেই এই দিনটিকে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়।
১৯৭১- বাংলার স্বাধীনতাকামীদের নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। দেশমাতৃকাকে স্বাধীন করতে সেই আঁধারের মধ্যেই প্রতিরোধের দ্বীপ জ্বেলে দেন তিন বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা। তাদের সমন্বিত আক্রমণে ভেঙে পড়তে থাকে পাকিস্তানিরা।
নৌবাহিনীর দুঃসাহসিক ‘অপারেশন জ্যাকপট’, শত্রুপক্ষের ওপর আকাশপথে বিমানবাহিনীর একের পর এক আঘাত আর সেনাবাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধ- সব মিলিয়েই তৈরি হয় বিজয়ের পথ।
আজ সশস্ত্র বাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই করছে না, সন্ত্রাস দমন, দুর্যোগ মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা মিশন কিংবা যেকোনো সংকটে সাহসের সঙ্গে এগিয়ে আসে। নতুন প্রযুক্তি, আধুনিক অস্ত্র, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সব মিলিয়ে সশস্ত্র বাহিনী এখন আরও ক্ষিপ্র, আরও দক্ষ।
যুদ্ধবিমান চালানো থেকে শান্তিরক্ষা মিশনে নেতৃত্ব, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান, নির্বাচনে নিরাপত্তা, মহাসড়ক থেকে পাহাড়, সমুদ্রের উত্তাল পানিরাশি- যেখানেই দরকার, সেখানেই সরব তিন বাহিনী।
বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন মিশনগুলোতেও বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা রাখছে অসাধারণ ভূমিকা। অনেক দিন ধরেই বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর অন্যতম।
সাহস, শৃঙ্খলা আর দায়িত্ব- এই তিন স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী।
এতো গৌরবোজ্জল ভূমিকা এবং সাহসী ঐতিহ্যের পরও বেশ কিছুদিন ধরে নব্য গঠিত এনসিপির নেতা-নেত্রীরা সেনাবাহিনী নিয়ে অনেক বাজে মন্তব্য করছেন। কেউ বলেছেন ডিজি এফ আই অফিস ভেঙ্গে দেয়া হবে। কেউ বলেছেন সেনা ব্যারাক ঘেরাও হবে এসব।
যা দেশপ্রেমিক জনগণের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করছে। বিষয়টি বহির্বিশ্বেও, বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা চরম ক্ষুন্ন করছে।
এনসিপি এবং পিনাকী থেকে ইলিয়াসের মত ইউটিউবারেরা দৃশ্যত ভারত বিরোধী প্রচার করলেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের চরম নেতিবাচক বক্তব্যগুলো মূলত: ভারতের খাহেশ এবং কূট কৌশলগুলোই বাস্তবায়ন করে।
এক্ষেত্রে পিনাকী গং যে আসলে ভারতেরই এজেন্ট তা আরো একবার গভীরভাবে প্রতিপন্ন হয়।
তবে এনসিপিকে অত্যন্ত চৌকষ ও বুদ্ধিবৃত্তিক জবাব দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান। এতে করে এনসিপির মূলত: দাফন হয়েছে। কিন্তু সে বোধটুকু তাদের আছে কীনা তা নিয়েও নেটিজনরা প্রশ্ন তুলেছেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে নানা ধরনের কটূক্তি প্রসঙ্গে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, এসব গালিগালাজ শুনে অখুশি হওয়ার কিছু নেই। যারা এসব করছে, তারা আমাদের সন্তানের বয়সী। ওরা বড় হলে নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে, তখন লজ্জিত হবে।
অর্থাৎ এনসিপি যে আসলে নাবালক আর নাবালকের বালখিল্যতা দেশ জাতির গর্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে স্পর্শ করে না- এটাই সেনাপ্রধানের বক্তব্যে প্রনিধানযোগ্য হয়ে উঠেছে।
গত মঙ্গলবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসে ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেছে।
সেনাবাহিনী দীর্ঘ সময় ধরে মাঠে দায়িত্ব পালন করছে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আগে এত দীর্ঘ সময় মাঠে থাকতে হয়নি। তাই সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে, দূরত্ব থাকলে তা দূর করতে হবে।
সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনী একটি পেশাদার সংগঠন। মাঠে দায়িত্ব পালনে সেই পেশাদারত্ব দেখাতে হবে। প্রতিশোধমূলক কাজে নিজেদের জড়ানো যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ছড়ানো এসব বার্তা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। সব সময় সতর্ক থাকবেন, যাতে কেউ বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে না পারে।
উল্লেখ্য জালিম হাসিনা সরকারকে পতনের পর বাংলাদেশকে একটি অনিবার্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করে দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় কাজ করছে সশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী এক গুরুত্বপূর্ণ এবং গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করছে নিরলসভাবে। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সব সময় জনগণের পক্ষে, জনগণের মঙ্গলে নিবেদিতপ্রাণ এবং জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। গত এক বছরে এটি প্রমাণিত হয়েছে।
যদি ২০২৪-এর জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর যে পাশবিক বর্বরতা এবং পৈশাচিকতা চালানো হয়েছিল, সেটি প্রতিরোধে প্রথম এগিয়ে আসে সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনীর সর্ব স্তরের অফিসার এবং সৈনিকরা আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন। সশস্ত্র বাহিনী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে আন্দোলনকারীদের ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হবে না, গুলি করা হবে না। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আন্দোলনের মোড় ঘুরে যায়। স্বৈরাচার পতনে ছাত্র-জনতার আন্দোলন পায় গতি।
এই আন্দোলনের ধারায় শেষ পর্যন্ত সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরশাসনের পতন হয়। কাজেই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সশস্ত্র বাহিনী মূল অংশীদার। শুধু অংশীদার নয়, সশস্ত্র বাহিনী এই আন্দোলনের বিজয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে মূল ভূমিকা পালন করেছিল।
৫ আগস্ট যখন শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যান, তখন দেশে একটি সরকারহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কী ধরনের সরকার হবে- এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা দেয় মতবিরোধ। কেউ জাতীয় সরকারের পক্ষে, কেউ বিপ্লবী সরকারের পক্ষে- এ রকম নানা মত, নানা পথে বাংলাদেশে সৃষ্টি হয়েছিল একটি সাংবিধানিক শূন্যতা এবং অচলাবস্থা। এই সময়ও ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী।
সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষক প্রতিনিধিদের ক্যান্টনমেন্টে আমন্ত্রণ জানান। দীর্ঘ বৈঠক করেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে সক্ষম হন। সব পক্ষ তার নেতৃত্ব মেনে রাষ্ট্রপতির কাছে যান। রাষ্ট্রপতি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার মাধ্যমে দেশের জনগণ আশ্বস্ত হয়। দেশ একটি অনিবার্য সাংবিধানিক শূন্যতা থেকে মুক্তি পায়। মূলত সশস্ত্র বাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান, পৃষ্ঠপোষকতা এবং দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক মনোভাবের কারণে শেষ পর্যন্ত কোনো রকম সংঘাত ছাড়াই সাংবিধানিকভাবে একটিঅন্তর্বর্তী সরকার গঠনে সক্ষম হয় বাংলাদেশ।
এই সরকার নেতৃত্বে এক বছর পার হয়েছে, যেখানে সশস্ত্র বাহিনী পেছনে থেকে নিরলসভাবে সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে। বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ রাখছে এবং বাংলাদেশে যেন শান্তি, স্থিতিশীলতা থাকে সে জন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকছে।
নতুন সরকার একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে তাদের যাত্রা শুরু করে। বিশেষ করে সেই সময় পুলিশ বাহিনী ছাত্র-জনতার আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। জুলাই আন্দোলনে কিছু কিছু পুলিশ সদস্যের ভূমিকার কারণে তাদের ওপর জনরোষ একটি ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল। আর সে কারণেই পুলিশ হয়ে পড়েছিল নিষ্ক্রিয়।
এই সময় যদি সশন্ত্র বাহিনী না থাকত, দেশে একটি অরাজক-বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি থেকে দেশকে উদ্ধার করা এবং জনগণের জানমাল হেফাজতের দায়িত্ব তুলে নেয় সশস্ত্র বাহিনী। সশস্ত্র বাহিনী মাঠের সদস্যরা দিন-রাত একাকার করে কঠোর পরিশ্রম করে জনগণের জানমালের হেফাজত করেছেন।
এ রকমও দেখা যাচ্ছে যে দিনের পর দিন সশস্ত্র বাহিনীর মাঠে কর্মরত সদস্যরা নিদ্রাহীন অবস্থায় থেকে মানুষের জানমালের হেফাজত করেছেন। মানুষ যেন শান্তিতে ঘুমাতে পারে সে জন্য তারা রাতের পর রাত কাজ করে গেছেন। এভাবেই সশস্ত্র বাহিনী বাংলাদেশের মানুষকে আগলে রেখেছে। দেশের পরিস্থিতি যেন স্বাভাবিক হয় সে জন্য কঠোর পরিশ্রম করে গেছে।
নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণহীন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি তৈরি হয় আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা। যে যার মতো করে আইন হাতে তুলে নিতে শুরু করে। কেউ বাড়ি-ঘর জ্বালিয়েছে, কেউ মব জাস্টিসের নামে প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করার চেষ্টা করেছে। এই সব ভয়াবহ প্রবণতা কখনোই বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; বরং এ ধরনের ঘটনা বিপ্লবের মূল আকাক্সক্ষা এবং চেতনাকেই নষ্ট করে দেয়। আর এ জন্যই সশস্ত্র বাহিনী তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে এই ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য চেষ্টা করেছে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, কোথাও সশস্ত্র বাহিনী এ ক্ষেত্রে বল প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করেনি। তারা জনগণের পাশে থেকে, জনগণকে বুঝিয়ে, জনগণের সত্যিকারের আপনজন হয়ে তাদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সহায়তা করেছে। এটি বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর একটি অনন্য দৃষ্টান্ত। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বে শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে চব্বিশে গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা একটি মডেল হয়ে থাকবে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, ৫ আগস্টের পর ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তারা ভয়ে ছিলেন, আতঙ্কে ছিলেন। অনেক কলকারখানায় আগুন দেওয়া হয়েছে। অনেকে দেশের পরিস্থিতি বোঝার জন্য তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিল্প-কারখানা বন্ধ রেখেছেন। ফলে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবড়ে পড়ার শঙ্কার সৃষ্টি হয়।
এ জন্যই সশস্ত্র বাহিনী চুপচাপ বসে থাকেনি; বরং তারা নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছে। ব্যবসায়ীদের দিয়েছে নির্ভরতা। তারা যেন ব্যবসা-বাণিজ্যে সাহায্য করতে পারে সে জন্য তাদের একদিকে যেমন নিরাপত্তা দিয়েছে, অন্যদিকে দিয়েছে সহায়তা। মূলত বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা যে আবার সচল হয়েছে, ব্যবসায়ীরা যে কিছুটা হলেও ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে তাদের স্বাভাবিক ব্যাবসায়িক কর্মকা-ে অংশ নিতে পারছেন, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস পরিশ্রম, অতন্দ্র প্রহরীর মতো তাদের নিরাপত্তা বিধান এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের পাশে দাঁড়ানো।
আমরা জানি যেকোনো দেশে বিপ্লবের পর একটা প্রতিবিপ্লব সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল নানা রকম নাশকতা এবং অপতৎপরতার মাধ্যমে দেশের স্থিতিশীলতা, শান্তি বিঘিœত করার চেষ্টা করে। ৫ আগস্টের পর এ ধরনের বহু ঘটনা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি।
কথায় কথায় আন্দোলন, সচিবালয় ঘেরাও বা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি দিয়ে দেশের স্থিতিশীলতাকে ধ্বংসের একটি প্রচেষ্টা সব সময় ছিল। এটির ফলে একদিকে যেমন জনজীবনে সৃষ্টি হয় আতঙ্ক, অন্যদিকে তেমনি সরকার দুর্বল হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলার ক্ষেত্রেও সশস্ত্র বাহিনী ছিল মানুষের আশা-ভরসার আশ্রয়স্থল। সশস্ত্র বাহিনী দৃঢ়ভাবে এই ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছে।
আনসার বিদ্রোহ কিংবা বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা, হানাহানি দমনের ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনী শান্তিপূর্ণ পথ অবলম্বন করে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। যার কারণে ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর কোনো ষড়যন্ত্রই শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। বাংলাদেশ তার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
একটা দেশে যখন একটি বিপ্লব হয়, তারপর দেশের সার্বভৌমত্ব নানা কারণে ঝুঁকিতে পড়ে। বাংলাদেশ এই সময় এক ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে মায়ানমারে আরাকান আর্মির তৎপরতা এবং আরাকান আর্মিকে ঘিরে পার্বত্যাঞ্চলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বাংলাদেশকে উদ্বিগ্ন করেছিল। এই সময় সশস্ত্র বাহিনী সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে।
বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব এবং অখ-তা রক্ষার জন্য দৃঢ় অবস্থান নেয়। তারা মায়ানমারকে করিডর দেওয়ার প্রস্তাবে তাদের সুস্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে দেয়। এভাবে গত এক বছর বাংলাদেশের বিপ্লবোত্তর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে যে সশস্ত্র বাহিনী যেন পুরো দেশটাকে আগলে রেখেছে। সশস্ত্র বাহিনী যেন এই দুর্যোগপূর্ণ সময় সত্যিকারের কা-ারি। তারা যেন আলোকবর্তিকা হয়ে আছে, মানুষকে পথ দেখাচ্ছে। আর সে কারণেই সশস্ত্র বাহিনী মানুষের আশা-ভরসার কেন্দ্র হিসেবে আছে।
দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদের সুশিক্ষিত, সৎ ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। শুধু স্বাধীনতাযুদ্ধ ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমই নয়, সশস্ত্র বাহিনী দেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা করে দেশের অখ- সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে। দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আজ অনস্বীকার্য। জাতির প্রয়োজনে যে কোনো কঠিন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতা অনন্য।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে প্রথম স্থানে অবস্থানকারী সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আজ চিনতে পেরেছে সারা বিশ্বের মানুষ। শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে এ মুহূর্তে বাংলাদেশের সদস্য সংখ্যা বিশ্বের সর্বোচ্চ। জাতীয় উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল অবদান আজ সর্বজনস্বীকৃত। এটি এমনি এক বাহিনী যার প্রতি এ দেশের জনগণের রয়েছে অগাধ আস্থা, বিশ্বাস ও ভালবাসা।
* বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী পেশাগত দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে দেশ ও জাতির উপর অর্পিত দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সব সময়ই দুর্গত মানুষের পাশে থেকেছে। ২০০৭ সালে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় সিডর, ২০০৯ সালে আইলা এবং অতিসম্প্রতি আম্ফানের সময় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা হয়েছে জনগণের কাছে প্রশংসিত।
* সশস্ত্র বাহিনী নানা ধরনের সামাজিক কর্মকা- অত্যন্ত সফলভাবে মোকাবিলা করে জনগণের মধ্যে আস্থা অর্জন করেছে।
* সেনাবাহিনীর প্রতি জনগণের আস্থাও বিশ্বাস পূনরুদ্ধার হয়েছে।
* সেনাবাহিনী বাংলাদেশের আশার আলো।
* সেনাবাহিনী আমাদের গর্ব ও ঐক্যের প্রতীক।
তাই সেনাবাহিনী নিয়ে কোন অপপ্রচার বরদাশত করা হবে না। দেশ প্রেমিক জনগণ এবং দ্বীনদার মুসলমান এ বিষয়ে বিশেষভাবে একমত ইনশাআল্লাহ।
২০ই আগস্টের ভাষণে সেনাবাহিনী প্রধান, সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “দেশের মানুষ এখন তোমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থাকতে হবে এবং বাহিনীর চেইন অব কমান্ড অক্ষুণœ রাখতে হবে।”
নেটিজনরা মন্তব্য করেছেন আসলে দেশের জনগণ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অরাজাকতায় ত্যাক্ত বিরক্ত জনগণ এখন সেনাশাসন চায়।
এটা সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে। তাই মহান আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করে তাদের সে পবিত্র দায়িত্ব পালন শুরু করা উচিত। ইনশাআল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইহুদী-খ্রিষ্টান-হিন্দুরা কোন মুসলিম দেশ ধ্বংস ও দখল করার আগে সে দেশে তাদের অপসংস্কৃতি চাপিয়ে দেয়। চলচ্চিত্র নামক বিধ্বর্মীদের জাহান্নামী সংস্কৃতির ফাঁদে মুসলিম উম্মাহ।
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ : জ্বালানিসংকট সামলাতে প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পর থেকেই হাঁটছে বাংলাদেশ গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান ও উৎপাদনের বিকল্প নেই
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
“বিশ্বের সব মুসলমান একটি দেহের ন্যায়”- এ হাদীছ শরীফের শিক্ষা মুসলমানেরা নেয়নি। কিন্তু কাফিররা এ হাদীছ শরীফের ফায়দা নিয়ে এত শক্তিশালী।
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আপনারা যুক্তরাষ্ট্রের দম্ভকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দেবেন: ইরানের জনগণকে উদ্দেশ্য করে ইয়েমেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সবেমাত্র আগ্রাসী ইসরায়েলকে শাস্তি দেয়া শুরু করেছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইরানই ঠিক করবে যুদ্ধ কখন শেষ হবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে: খামেনি ২ সপ্তাহের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে পরাজিত করেছে ইরান
১৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বহুমুখী সমস্যায় পতিত দেশের আগর-আতর শিল্প পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে আতর শিল্পে নেই আধুনিক প্রযুক্তির সন্নিবেশ সঙ্কট ও সমস্যা সমাধান করে আগর-আতর শিল্প থেকে ইনশাআল্লাহ রফতানি হতে পারে ৩৫ হাজার কোটি টাকা।
১৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
অন্তর্বর্তী সরকারের আঠারো মাসে ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট বলছে, ২০২৬ সালের প্রথম দেড় মাসে, অর্থাৎ ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৪৫ দিনে সরকার ৩৬টি অধ্যাদেশ জারি করে।
১২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুশরিক ভারতের প্রতি লা’নত ওদের জনসংখ্যা দিন দিন নিম্নমুখী পক্ষান্তরে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমানের দেশ বাংলাদেশে খোদায়ী রহমত। (সুবহানাল্লাহ) বাংলাদেশে জনসংখ্যার এখন ৬৫ ভাগই কর্মক্ষম এবং জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার উর্ধ্বগামী বাংলাদেশ ভোগ করছে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের নিয়ামত। সুবহানাল্লাহ!
১১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আফ্রিকার দৈত্য মুসলিম প্রধান দেশ- ‘নাইজেরিয়ায়’ আছে- ‘অফুরন্ত তেলের উৎস’ আছে- সবচেয়ে দামী খনিজ ‘লিথিয়াম’, ‘উচ্চ মানের লৌহ আকরিক’ সহ দুর্লভ সব খনিজ। বিশ্ব লুটেরা, হায়েনা, আমেরিকার- লোলুপ দৃষ্টি এখন ‘নাইজেরিয়ার’ উপর খ্রিস্টান নিধন চলছে এই মিথ্যা অজুহাতে- নাইজেরিয়া আক্রমনের ঘোষণা দিয়েছে, বিশ্ব ডাকাত সর্দার- ট্রাম্প।
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী টালমাটাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সুলতানুন নাছীর হযরত মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার বদ দোয়ার কারণে আমেরিকা এখন চরমভাবে ক্ষতবিক্ষত, বিপর্যস্ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং মৃত আমেরিকা শুধু দাফন করা বাকি কিন্তু ভোগবাদে মক্ত চরম চরিত্রহীণ, পশ্বাধম আমেরিকাবাসী তালমাতাল হওয়ার কারণেই এখনো তা উপলব্ধি করতে পারছে না
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












