হুব্বে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ২৪ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৩ হাদী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রি:, ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) মহিলাদের পাতা
খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মহাপবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন-
فَاِنْ اٰمَنُوْا بِـمِثْلِ مَا اٰمَنْتُمْ بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوْا.
অর্থাৎ আপনারা অর্থাৎ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা যেরূপ ঈমান মুবারক এনেছেন তদ্রƒপ যদি তারা (অন্য লোকেরা) ঈমান মুবারক গ্রহণ করে তাহলে তারা হিদায়েত মুবারক লাভ করতে পারবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারাহ : আয়াত শরীফ ১৩৭)
এ লিখনীতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের বেমেছাল মহব্বত মুবারক প্রকাশের কতিপয় দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হবে। ইনশাআল্লাহ!
(২৮)
মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত রসূল ও হাবীব-মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে পতাকা মুবারক দিয়েছেন
তৃতীয় হিজরীতে সম্মানিত উহুদ জিহাদ সংঘটিত হন। এ পবিত্র জিহাদ উনার জন্য মুসলমানগণ বাহ্যিকভাবে পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। সম্মানিত জিহাদ উনার পতাকাও ছিলো একাধিক। হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা ছিলো হযরত মুস‘আব ইবনে উমায়ির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে। আউস গোত্রীয় হযরত আনসার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা ছিলো হযরত উসায়েদ ইবনে হুযায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে। আর খাযরাজ গোত্রীয় হযরত আনছার ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের পতাকা ছিলো হযরত হাব্বাব ইবনে মুনযির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার পবিত্র হাত মুবারকে।
যুদ্ধ চলতে চলতে যখন কঠিন মুহূর্তে গিয়ে পৌঁছায় তখন এক পর্যায়ে একটি সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আনুষ্ঠানিক দীদার মুবারক-এ গমন করেছেন (পবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করেছেন)। তখন মুসলমানদের মধ্যে একদল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার আনুষ্ঠানিক মহাপবিত্র দীদার মুবারক-এ গমন করার পর (মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ করার পর) আমাদের বেঁচে থেকে কী লাভ? একথা বলে উনারা পবিত্র শাহাদাত মুবারক লাভের আশায় বীর বিক্রমে কাফির সৈন্যদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। আরেক দল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা ছিলেন যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চতুর্দিক সুরক্ষিত দুর্গরূপে পরিবেষ্টিত হয়ে উনার মহাসম্মানিত গোলামী মুবারক উনার আনজাম দেয়ার কাজে সর্বাত্মকভাবে নিয়োজিত ছিলেন। উনারা ছিলেন মাত্র ১৪ জন।
অটল-অনড় বীর মুজাহিদ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মধ্যে যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণের সংবাদ শুনেছিলেন, হযরত মুস‘আব ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ছিলেন উনাদের একজন।
তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক গ্রহণ উনার সংবাদ শুনে হতবিহ্বল হয়ে চিৎকার করে বললেন- মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল এবং মহাসম্মানিত হাবীব-মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দীদার মুবারক-এ গমন করেছেন, সুতরাং আমার আর বেঁচে থেকে কী হবে! মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার হাত মুবারকে পতাকা দিয়েছেন, এই পতাকা কোনো ক্রমেই লাঞ্ছিত ও ভূলুণ্ঠিত হতে দেবো না। একথা বলে তিনি এক হাত মুবারকে খোলা তরবারী এবং অন্যহাত মুবারকে পবিত্র জিহাদ উনার পতাকা ধারণ করে মালঊন কাফিরদের উপর অকুতোভয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন এবং তাদেরকে কচুকাটা করতে করতে সম্মুখভাগে অগ্রসর হতে লাগলেন।
এমন সময় ইবনে কুমাইয়্যা নামক মুশরিকদের এক অশ্বারোহী অগ্রসর হয়ে উনাকে তরবারি দ্বারা আক্রমণ করলো এতে উনার ডান হাত শহীদ হয়ে যান।
হযরত মুস‘আব ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি তৎক্ষণাৎ উনার বাম হাত মুবারকে পবিত্র পতাকা ধারণ করলেন। মালঊন ইবনে কুমাইয়্যা সে উনার বাম হাত মুবারকেও তরবারী দ্বারা আঘাত করলো, এতে উনার বাম হাত মুবারকও শহীদ হয়ে যান। তখন তিনি কর্তিত বাহুদ্বয়কে বৃত্ত করে পতাকা বুকের সাথে চেপে ধরলেন। তিনি এই সংকল্প মুবারক করেন যে, জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু থাকতে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পতাকা মুবারক উনার অবমাননা কিছুতেই হতে দেবেন না।
তিনি সম্মানিত আয়াত শরীফ তিলাওয়াত করে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদেরকে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা মুবারক স্মরণ করিয়ে দিচ্ছিলেন। এমন সময় নিকৃষ্ট মালঊন নিষ্ঠুর ইবনে কুমাইয়্যা ক্রোধে অধীর হয়ে উনার উপর এমন জোরে বর্শার আঘাত হানলো যে, উনার লৌহবর্ম মুবারক ভেঙ্গে খান খান হয়ে উনার বুকের মাঝে ঢুকে গেলো। তিনি সম্মানিত শহীদী শান মুবারক গ্রহণ করলেন। সুবহানাল্লাহ! পতাকা ভূ-লুণ্ঠিত হতে যাবে এমন সময় উনার সম্মানিত ভাই হযরত আবুররূম ইবনে উমায়ের রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র পতাকা ধারণ করেন এবং জিহাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার পতাকা ধারণ করে থাকেন। জিহাদ শেষে সেই পতাকা মুবারক হাতে নিয়েই তিনি মাসম্মানিত মহপবিত্র মদীনা শরীফ-এ প্রত্যাবর্তন করেন। সুবহানাল্লাহ!
যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের ন্যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত মুবারক করার এবং উনাদের ন্যায় পরিপূর্ণ ঈমানদার হওয়ার তাওফীক্ব দান করুন। আামীন!
-আলমগীর হুসাইন মুরাদী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতা উভয়েই দ্বীনদার হওয়া ব্যতীত দ্বীনদার সন্তান আশা করা সম্পূর্ণ বৃথা (১)
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
০৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নারী সমাজের জন্য একটি জরুরী ফিকির!
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
“মৃত্যু দেখে দেখে নসীহত হাছিল করতে হবে”
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
হযরত সালমা বিনতে হাফসা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (১৮)
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












