হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (১)
, ১৯ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
হীলাহ্ বিবাহ জায়েয ও শরীয়ত সম্মত এবং ফযীলতের কারণ। তবে মুত্য়াহ্ বিবাহ ও মুওয়াক্কাত বিবাহ জায়েয নেই, হারাম এবং লা’নতের কারণ। কেউ কেউ হীলাহ্ বিবাহ, মুত্য়াহ্ ও মুয়াক্কাত বিবাহের মধ্যে পার্থক্য না বুঝার কারণে হীলাহ্ বিবাহকে নাজায়েয ও লা’নতের কারণ বলে থাকে। যা শরীয়ত সম্মত নয়।
শরীয়তের পরিভাষায়, কোন মুসলমান ভাইয়ের উপকার করার জন্য তার ত্বালাকপ্রাপ্তা আহলিয়াকে (স্ত্রী) শর্ত-শারায়েত ব্যতীত বিবাহ করে, ঘরÑসংসার করে তথা একান্ত নির্জনবাসের পর ত্বালাক্ব দেয়, তাকে হীলাহ্ বিবাহ বলা হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَه مِنْ بَعْدُ حَتّٰى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
অর্থ: অতঃপর যদি সে তার আহলিয়াকে (স্ত্রী) তিন ত্বালাক্ব দেয়, তবে সে আহলিয়া (স্ত্রী) যে পর্যন্ত না তাকে ছাড়া অপর কোন আহাল বা স্বামীর সাথে বিবাহ বসবে, সে পর্যন্ত তার জন্য হালাল হবে না। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩০)
পক্ষান্তরে, নির্দিষ্ট মাল- সম্পদ ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উপভোগ করার জন্য যে বিবাহ করা হয় তাকে মুত্য়াহ্ বিবাহ বলে। আর যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পূর্বে বলে যে, আমি তোমাকে এক মাস কিংবা পনের দিন অথবা দশ দিনের জন্য, এই পরিমাণ মাল-সম্পদের বিনিময়ে বিবাহ করলাম। এরূপ বিবাহকে মুয়াক্কাত বিবাহ বলে। এই দুই ধরনের বিবাহই হারাম ও নাজায়েয এবং লা’নতের কারণ। যদিও সম্মানিত ইসলাম উনার প্রথম দিকে কিছু সময়ের জন্য তা বৈধ ছিল। কিন্তু পরে তা নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খাইবরের সম্মানিত জিহাদে মুত্য়াহ্ বিবাহ করতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
حيلة (হীলাহ্) শব্দটি আরবী। শাব্দিক অর্থ: কৌশল, উপায়, হিকমত। এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় রূপান্তর হওয়াকেও হীলাহ্ বলা হয়। হীলাহ এর অপর নাম হিকমত।
حيلة (হীলাহ্) শব্দের পারিভাষিক অর্থ: যে কৌশল বা উপায় অবলম্বন করে অপছন্দ ও মাকরূহ কাজ পরিহার করতঃ পছন্দনীয় কাজের দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় তাকে হীলাহ্ বা হিকমত বলে। আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-
الحيلة وهي ما يتوصل به الي المقصود خفي
অর্থ: যে কৌশল বা উপায় অবলম্বন করলে গোপন উদ্দেশ্যে উপনীত হওয়া যায় তাকে হীলাহ্ বলে। (উমদাতুল ক্বারী ২৪/১৪৩)
মূলতঃ হারাম এবং গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য যে কৌশল বা উপায় অবলম্বন করা হয় তার নামেই হীলাহ। এরূপ হীলাহ্ বা কৌশল জায়েয। আর যে হীলাহ্ বা কৌশল দ্বারা হারাম এবং গোনাহের কাজে লিপ্ত হয় সে হীলাহ্ বা কৌশল জায়েয নেই।
মহান আল্লাহ পাক তিনি স্বয়ং নিজেই হীলাহ্ বা কৌশল শিক্ষা দিয়েছেন। এজন্য মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَخُذْ بِيَدِكَ ضِغْثًا فَاضْرِب بِّهِ وَلَا تَحْنَثْ ۗ إِنَّا وَجَدْنَاهُ صَابِرًا ۚ نِّعْمَ الْعَبْدُ ۖ إِنَّهُ أَوَّابٌ ﴿٤٤﴾
অর্থ: আর আপনি স্বীয় হাতে এক মুঠো তৃণশলা নিন এবং তা দ্বারা নিজের আহলিয়া বা স্ত্রীকে প্রহার করুন। আর কসম ভঙ্গ করবেন না। (পবিত্র সূরা ছোয়াদ শরীফ-৪৪)
উল্লেখ্য যে, জলীলুল কদর রসূল হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালাম তিনি একদিন স্বীয় অনুগতা আহলিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত রহীমা আলাইহাস সালাম উনাকে একশত বেত্রাঘাত করার কসম করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি নিরপরাধ আহলিয়া বা স্ত্রীকে অযথা কষ্ট দেয়া থেকে মুক্তিদান এবং কসম ভঙ্গের কাফফারা থেকে বেঁচে থাকার জন্য উনাকে এই পদ্ধতি শিক্ষা দিলেন। সুবহানাল্লাহ!
আসলে সাইয়্যিদাতুনা হযরত রহীমা আলাইহাস সালাম উনার কোন দোষ ছিলনা। তবুও যেহেতু সাইয়্যিদুনা হযরত আইয়ূব আলাইহিস সালাম তিনি কসম করেছেন সেহেতু কসম পূর্ণ করার নির্দেশ মুবারক দান করেছেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত রহীমা আলাইহাস সালাম তিনি যাতে বেশী কষ্ট না পান তার জন্য হীলাহ্ বা কৌশল করার পদ্ধতি মুবারক বলে দিয়েছেন।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৪)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
১১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তওবা
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২৩)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












