হীলাহ্ বিবাহ এবং তার শরয়ী ফায়সালা (৩)
, ১৮ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৫ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ২০ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
হীলাহ্ বিবাহের প্রকারভেদ (২য় অংশ):
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-
عَنْ حضرت الزُّبَيْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الزَّبِيرِ رضي الله عنه أَنَّ حضرت رِفَاعَةَ بْنَ سِمْوَالٍ رضي الله عنه طَلَّقَ امْرَأَتَهُ تَمِيمَةَ بِنْتَ وَهْبٍ رضي الله عنها فِي عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثَلَاثًا فَنَكَحَتْ حضرت عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الزَّبِير رضي الله عنه فَاعْتَرَضَ عَنْهَا فَلَمْ يَسْتَطِعْ أَنْ يَمَسَّهَا فَفَارَقَهَا فَأَرَادَ حضرت رِفَاعَةُ رضي الله عنه أَنْ يَنْكِحَهَا وَهُوَ زَوْجُهَا الْأَوَّلُ الَّذِي كَانَ طَلَّقَهَا فَذَكَرَ ذَلِكَ لِرَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَهَاهُ عَنْ تَزْوِيجِهَا وَقَالَ لَا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ.
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত যুবাইর ইবনু আবদুর রহমান ইবনু যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, সাইয়্যিদুনা হযরত রিফায়াহ্ ইবনু সিমওয়াল রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি উনার আহলিয়া তথা স্ত্রী সাইয়্যিদাতুনা হযরত তামীমা বিনতে ওয়াহাব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনাকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহু হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সময়ে তিন তালাক দিলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত তামীমা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত আবদুর রহমান ইবনু যুবাইর রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুকে বিবাহ করলেন। কিন্তু উনার সাথে মিলিত হতে বিপত্তি ঘটল। যার কারণে সাইয়্যিদুনা হযরত আবদুর রহমান রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে স্পর্শ করতে পারলেন না। তাই তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত তামীমা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনাকে ত্যাগ করলেন। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত রিফায়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু উনাকে বিবাহ করতে ইচ্ছা করলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত রিফায়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি উনার প্রথম আহাল (স্বামী) যিনি উনাকে তালাক দিয়েছিলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত রিফায়াহ্ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি এই বিষয়টি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উত্থাপন করলেন। তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত তামীমা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা উনাকে বিবাহ করতে উনাকে নিষেধ করলেন। আর বললেন, অন্য আহাল বা স্বামী নিরিবিলি অবস্থান না করা পর্যন্ত সাইয়্যিদাতুনা হযরত তামীমা রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহা আপনার জন্য হালাল হবে না।” (বুখারী শরীফ-৫৭৯২, মুসলিম শরীফ ৪১৩৩)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ مَالِك أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ حضرت الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ رحمه الله عليه سُئِلَ عَنْ رَجُلٍ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ الْبَتَّةَ ثُمَّ تَزَوَّجَهَا بَعْدَهُ رَجُلٌ آخَرُ فَمَاتَ عَنْهَا قَبْلَ أَنْ يَمَسَّهَا هَلْ يَحِلُّ لِزَوْجِهَا الْأَوَّلِ أَنْ يُرَاجِعَهَا فَقَالَ حضرت الْقَاسِمُ بْنُ مُحَمَّدٍ لَا يَحِلُّ لِزَوْجِهَا الْأَوَّلِ أَنْ يُرَاجِعَهَا.رحمه الله
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেন, একদিন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম কাশেম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে প্রশ্ন করা হল, যে ব্যক্তি তার আহলিয়াকে তিন তালাক দিলেন। তারপর অন্য এক ব্যক্তি তাকে বিবাহ করলেন। উক্ত আহলিয়া বা স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বেই সে ব্যক্তি ইন্তেকাল করলেন। এইরূপ অবস্থাতে তার প্রথম আহাল বা স্বামীর পক্ষে তাকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হবে কি? সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম কাশেম ইবনে মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, প্রথম আহাল বা স্বামীর পক্ষে সেই স্ত্রীকে পুনরায় বিবাহ করা হালাল হবে না। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক)
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, দ্বিতীয় আহাল বা স্বামীর সাথে নিরিবিলি অবস্থান না করা পর্যন্ত প্রথম আহাল বা স্বামীর সাথে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েয নেই। সেটা স্বাভাবিক বিবাহ হোক কিংবা কারো উপকারার্থে হীলাহ্ বিবাহ হোক না কেন। একইভাবে কোন অপ্রাপ্ত বয়স্ক, নাবালেগ ছেলে যদি স্বাভাবিক বিবাহও করে এবং কোন কারণঃবশত সে যদি তাকে তালাক দেয় অথবা মারা যায় তবুও প্রথম আহাল বা স্বামীর জন্য সে নারী হালাল হবেনা। এমনকি যে ব্যক্তি আহলিয়ার (স্ত্রী) সাথে নিরিবিলি অবস্থান করতে অক্ষম সে স্বাভাবিক বিবাহ করে এবং দীর্ঘদিন পর তালাক দিলেও প্রথম আহাল বা স্বামীর জন্য উক্ত নারী হালাল হবেনা। কাজেই, যে ব্যক্তি নির্জনবাস না করার শর্ত দিয়ে হীলাহ্ করবে এবং যার দ্বারা হীলাহ্ করাবে তারা উভয়ই লা’নতগ্রস্ত হবে। আর নির্দিষ্ট অর্থ ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কিংবা শুধু নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্জনবাসের শর্তে যে ব্যক্তি বিবাহ করবে এবং যে ব্যক্তি বিবাহ করাবে তারাও উভয়ে লা’নতগ্রস্ত হবে। কেননা নির্দিষ্ট অর্থ ও নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত নির্জনবাসের শর্তে বিবাহ করা সেটা মুতয়াহ্ এবং মুয়াক্কাত বিবাহের অর্ন্তভুক্ত। যা নাজায়েয ও হারাম এবং লা’নতের কারণ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত আছে-
عن حضرت علي كرم الله وجهه عليه السلام أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لَعَنَ اللهُ المُحَلِّل والمحل له ـ
অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- মহান আল্লাহ পাক তিনি বাতিল পন্থায় হালালকারী এবং যার জন্য বাতিল পন্থায় হালাল করা হয়, তাদের উভয়ের উপর লা’নত বর্ষণ করেন। নাঊযুবিল্লাহ্! (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিজী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-
عَنْ حضرت عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه قَالَ لَعَنَ رسولُ الله صلي الله عليه و سلم المحلّلَ والمُحلَّلَ لَهُ.
অর্থ: ফকীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বাতিল পন্থায় হালালকারী এবং যার জন্য বাতিল পন্থায় হালাল করা হয় উভয়ের উপর লা’নত বর্ষণ করেন। (দারিমী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো বর্ণিত আছে-
عن حضرت عُقْبَةُ بْنُ عَامِرٍ رضي الله عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَلَا أُخْبِرُكُمْ بِالتَّيْسِ الْمُسْتَعَارِ قَالُوا بَلَى يَا رَسُولَ اللهِ صلي الله عليه وسلم قَالَ هُوَ الْمُحَلِّلُ لَعَنَ اللهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ ـ
অর্থ: হযরত উকবাহ ইবনে আমির রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি কি আপনাদেরকে ভাড়াটে পাঁঠা সম্পর্কে অবহিত করবো না? উনারা বললেন, হাঁ, ইয়া রসূলাল্লাহ ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সে হলো বাতিল হীলাহ্কারী। মহান আল্লাহ পাক তিনি বাতিল হীলাহ্কারী এবং যার জন্য বাতিল হীলাহ্ করা হয় তাদের উভয়কে অভিসম্পাত করেছেন।
-আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
০৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল বিপদ-আপদে মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই স্বরণ; এবং তাতেই মুক্তি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












