সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নছীহত মুবারক:
শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
, ১২ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৯ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) মহিলাদের পাতা
আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনার আক্বীদা হলো বান্দা মহান আল্লাহ পাক উনাকে দেখুক বা না দেখুক তিনি অবশ্যই হাযির-নাযির অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে না দেখলেও বান্দাকে বিশ্বাস করতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি হাজির-নাযির তথা সব জায়গায় উপস্থিত এবং সবকিছু দেখে থাকেন। ঠিক তদ্রƒপ শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে উম্মত দেখুক বা না দেখুক তিনিও হাযির-নাযির তথা সব জায়গায় উপস্থিত এবং সবকিছু দেখে থাকেন।
اِنَّا اَرْسَلْنٰكَ شَاهِدًا
অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রত্যক্ষদর্শী তথা হাজির-নাযির হিসাবে প্রেরণ করেছি। সুবহানাল্লাহ!
সমস্ত লুগাতের মধ্যে شَاهِدًا শব্দের অর্থ প্রত্যক্ষদর্শী তথা হাজির-নাযির। আর উসূলের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, একটি শব্দের একাধিক অর্থ থাকলে ব্যক্তির শান অনুযায়ী অর্থ গ্রহণ করতে হবে। তাই শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে এমন অর্থ মুবারক গ্রহণ করতে হবে যেটা উনার শান মুবারক উনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এমন কোন অর্থ মুবারক গ্রহণ করা যাবে না যা উনার শান মুবারক উনার খিলাফ।
সুতরাং شَاهِدًا শব্দের অর্থ যদি সাক্ষ্যদাতা গ্রহণ করা হয় এবং শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ক্ষেত্রে এভাবে বলা হয় যে, যিনি সাক্ষ্যদানকারী হবেন, উনার জন্য অবশ্যই হাযির-নাজির হওয়া শর্ত। তাই তিনি হাযির-নাযির। এভাবে ঘুরিয়ে অর্থ মুবারক গ্রহণ করা উনার শান মুবারক উনার খিলাফ বরংشَاهِدًا শব্দ মুবারক উনার দ্বারা প্রত্যক্ষদর্শী তথা হাজির-নাজির, উপস্থিত অর্থ মুবারকই গ্রহণ করতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা তওবা শরীফ উনার ১০৫ নং আয়াত শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
قُلِ اعْمَلُوْا فَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُوْلَه وَالْمُؤْمِنُوْنَ.
অর্থ: (হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন, তোমরা আমল কর। অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা এবং যারা হাক্বীক্বী মু’মিন উনারাও তোমাদের আমল দেখেন। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি সূরা তওবা শরীফ উনার ৯৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
وَسَيَرَى اللهُ عَمَلَكُمْ وَ رَسُوْلُه
অর্থ: অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার রসূল শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা তোমাদের আমল দেখেন। সুবহানাল্লাহ!
এখন শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিভাবে দেখেন এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে,
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدُ اللهِ ابْنِ عُمَرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اِنَّ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ رَفَعَ لِىَ الدُّنْيَا فَاَنَا اَنْظُرُ اِلِيْهَا وَاِلى مَا هُوَ كَائِنٌ فِيْهَا اِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ كَاَنَّمَا اَنْظُرُ اِلى كَافِّىْ هَذِه
অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এ দুুনিয়াকে আমার সামনে এরূপভাবে তুলে ধরেছেন যে, এই দুনিয়া ও উনার মধ্যে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু সৃষ্টি হবে, সবকিছু এরূপভাবে দেখি, যেভাবে আমি আমার হাতের তালু মুবারক (নুরূল মাগফিরাত) উনাকে দেখে থাকি। সুবহানাল্লাহ! (তবারানি শরীফ)
এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত কায়িনাতকে এমন স্পষ্টভাবে দেখে থাকেন, যেভাবে উনার নুরুল মাগফিরাত মুবারক উনার তালু মুবারক দেখে থাকেন।
হাদীছ শরীফ উনার মাঝে আরও ইরশাদ মুবারক হয়েছে, আবু জুরাই ইবনে সুলাইম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি মদিনা শরীফ আসলাম, আমি দেখলাম লোকেরা উনার মত গ্রহণ করে চলে যাচ্ছে তিনি যে বিষয়ে ফায়সালা মুবারক দিয়েছেন, সে বিষয়ে কোন মত প্রকাশ না করে। আমি বললাম, উনি কে? তিনি বললেন, উনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি বললাম, عَلَيْكَ السَّلَامُ তিনি বললেন عَلَيْكَ السَّلَامُ বলবেন না। কারণ এটা মৃত ব্যক্তির অভিবাদন সম্বোধন। বরং বলুন اَلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ আমি বললাম, আপনি কি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম? তিনি বললেন,
اَنَا رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم اَلَّذِىْ اِنْ اَصَابَكَ ضُرٌّ فَدَعَوْتَه كَشَفَه عَنْكَ وَاِنْ اَصَابَكَ عَامُّ سَنَةٍ فَدَعَوْتَه اَنْبَتَهَالَكَ وَاِذَا كُنْتَ فِىْ اَرْضٍ قَفْرٍ اَوْ فَلَاةٍ فَضَلَّتْ رَاحِلَتُكَ فَدَعَوْتَه رَدَّهَا عَلَيْكَ .
অর্থ: আমি সেই সম্মানিত রসূল যিনি শাহিদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যদি আপনার কাছে দুঃখ-কষ্ট, বিপদ-আপদ, মুছিবত পৌঁছে আর আপনি যদি উনাকে ডাকেন বা উনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন তিনি আপনার থেকে সেই দুঃখ-কষ্ট, মুছিবত দূর করে দিবেন। আর যদি আপনার কাছে কোন দূর্ভিক্ষ, অভাব-অনটন পৌঁছে অর্থাৎ আপনি যদি দুর্ভিক্ষ অভাব-অনটনে পড়েন। আর আপনি যদি উনাকে ডাকেন বা উনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন তিনি ফসল (খাদ্য-শস্য) উৎপন্ন করে দুর্ভিক্ষ দূর করে দিবেন। যখন আপনি কোন তৃণ, পানি শূন্য মরু প্রান্তরে অর্থাৎ কোন জনমানবহীন শূন্য ময়দানে অবস্থান করেন এবং যেখানে আপনার বাহনটি হারিয়ে যায় আর আপনি যদি তখন উনাকে ডাকেন বা উনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেন, তিনি তা আপনার কাছে ফিরিয়ে দিবেন।
তাই বান্দা-বান্দী প্রত্যেকের উচিত হবে শাহিদুন নবী, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাজির-নাযির হিসাবে বিশ্বাস করা এবং সমস্ত কুফরী মূলক আক্বীদা বর্জন করা।
(সংকলনে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ বালিকা শাখা)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কোন মুসলমানের জন্য কাফির-মুশরিকদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করা জায়েয নেই
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২১)
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
২৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র আশূরা শরীফ উনার রোযার বেমেছাল ফাযায়িল-ফযীলত
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র ১০ মুহররমুল হারাম শরীফ দিনটিতে ভালো খাওয়া-পরার ব্যবস্থা গ্রহণ করুন, তাহলে সারা বছর স্বচ্ছলতা লাভ করতে পারবেন
২২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












