মহিলাদের পাতা
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
(রাজারবাগ শরীফ উনার সম্মানিত মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার ওয়াজ শরীফ থেকে সংকলিত)
, ১৬ মুহররম শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ০৩ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ০২ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) মহিলাদের পাতা
(ধারাবাহিক)
মূলতঃ মাতার আলাদা হক্ব রয়েছে। যেটা আমি পূর্বেও বলেছি, পিতার এক হক্ব, মাতার তিন হক্ব রয়েছে। যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের হক্ব অর্থাৎ মাতার হক্ব বা পিতার হক্ব যদি সন্তান আদায় করে তাহলে অবশ্যই পিতা-মাতার দোয়া লাভ করবে যা সন্তানের জন্য নির্ঘাত কবুলযোগ্য।
কোন পিতা-মাতা যদি সন্তানকে দোয়া করে তবে অবশ্যই একশতে একশ তার দোয়া কবুল হবে এবং সন্তানও যদি পিতা-মাতার জন্য দোয়া করে সেটাও একশতে একশ কবুল হবে। কোন শক, শোবা বা সন্দেহ নেই।
এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, সন্তান যদি পিতার হক্ব আদায় করে তাহলে তার সন্তানেরাও তার হক্ব আদায় করবে। যেটা হাদীছ শরীফে রয়েছে-
قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَفُّوا عَنِ النِّسَاءِ النَّاسِ، تَعِفَّ نِسَاؤُكُمْ، وَبَرُّوا آبَاءَكُمْ، يَبَرَّكُمْ أَبْنَاؤُكُمْ
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَفُّوا عَنِ النِّسَاءِ النَّاسِ
“তোমরা অন্যের স্ত্রী যারা রয়েছে, তাদের দিকে দৃষ্টি করো না। বরং তাদের মান-ইজ্জত, সম্ভ্রম রক্ষা করো। মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের যারা স্ত্রী রয়েছেন, তাদের মান-সম্মান, সম্ভ্রম রক্ষা করবেন কুদরতীভাবে।”
দুই নম্বর হচ্ছে-
وَبَرُّوا آبَاءَكُمْ، يَبَرَّكُمْ أَبْنَاؤُكُمْ
“তোমরা তোমাদের পিতা-মাতার সহিত সদ্ব্যবহার করো, অবশ্যই তোমাদের সন্তান যারা হবে, তারা তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে।”
এ হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, এক লোক ছিল, তার ঘর-সংসার ছিল এবং সন্তান-সন্ততি ছিল, তার পিতাও ছিল।
ছেলে যখন পিতাকে যা-তা বলতো, তখন পিতাও ছেলেকে যা-তা বলতো। ছেলে যুবক হওয়ায় তার শরীরে যথেষ্ট শক্তি ছিল। আর বিপরীতে পিতা বৃদ্ধ হওয়ায় তার শরীরে তেমন শক্তি ছিলো না। তাই সেই ছেলে একদিন করলো কি! তার পিতাকে জোর করে একটা বস্তায় ভরলো। বস্তায় ভরে অনেক দূরে নিয়ে গেল; এক কূয়ায় নিক্ষেপ করার জন্য।
যখন কূয়ার কাছে নিয়ে পৌঁছলো, সেই সন্তান তার পিতাকে বস্তায় ভরে, তখন তার পিতা বলতে লাগলো যে, “দেখ বাবা! তুমি আমাকে এই কূয়ায় নিক্ষেপ করো না।” জিজ্ঞাসা করা হলো, কেন?
জবাবে বললো, “আমার পিতাকে একদিন আমি এই কূয়ায় নিক্ষেপ করেছিলাম। কাজেই আমি চাই না এ কূয়ায় আমি যাই। তুমি আমাকে অন্য কূয়ায় নিক্ষেপ করো।” নাউযুবিল্লাহ!
যখন একথা সে সন্তান শুনলো, শুনে তার হুঁশ ফিরে আসলো। সে চমকে উঠলো যে, “আপনি বলেন কি!”
তিনি বললেন, “হ্যাঁ, আমি একদিন আমার পিতাকে এই কূয়ায় নিক্ষেপ করেছিলাম বস্তায় ভরে। আজকে তুমি আমাকে এনেছ বস্তায় ভরে এখানে নিক্ষেপ করার জন্য। তবে অবশ্যই পর্যায়ক্রমে তোমার সন্তানরাও তোমাকে বস্তায় ভরে একদিন নিক্ষেপ করবে। যেটা আমি নিক্ষেপ করেছিলাম। সে জন্য তুমি আমাকে বস্তায় ভরে নিয়ে এসেছ নিক্ষেপ করার জন্য।”
তখন সে সন্তান, তার হুঁশ ফিরে এলো, সে তওবা করলো। তার পিতাকে ছেড়ে দিল। তা’যীম-তাকরীমের সহিত সে তার পিতাকে বাড়ীতে নিয়ে গেল, সম্মান রক্ষা করলো, ইজ্জত রক্ষা করলো, সন্তানের হক্ব সে আদায় করলো। ফলে তার পরবর্তী সিলসিলা অর্থাৎ তার আল-আওলাদরা তারও মান-ইজ্জত সম্মান রক্ষা করেছিল।
এখানে আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে- সন্তান তার পিতার সাথে ঝগড়া-ঝাটি করে, বস্তায় ভরে যখন তাকে কূয়ায় নিক্ষেপ করতে গেল তখন তার পিতা বলে উঠলো, আমাকে এ কূয়াতে নিক্ষেপ করো না। কারণ আমি আমার পিতাকে এ কূয়াতে নিক্ষেপ করেছি। তুমি আমাকে অন্য কূয়ায় নিক্ষেপ করো।” কত কঠিন কথা!
কাজেই কোন সন্তান যদি তার পিতার সহিত সদ্ব্যবহার করে, অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি তার যারা সন্তান আসবে, তাদের মাধ্যমে তার সাথে সদ্ব্যবহার করাবেন। আর যদি কোন সন্তান তার পিতার সহিত অসদাচরণ করে বা অসদ্ব্যবহার করে তবে অবশ্যই তার সন্তানরাও তার সাথে অসদ্ব্যবহার, অসদাচরণ করবে। কোন সন্দেহ নেই। এই ছেলে যেমন তার পিতা সম্পর্কে জানতো না যে, তার পিতা তার দাদার সাথে কেমন আচার-আচরণ করেছে, কিন্তু মহান আল্লাহ পাক তিনি তা জাহির করে দিলেন।
সেটাই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খতামুন্নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন যে, “তোমরা তোমাদের পিতার সহিত সদ্ব্যবহার করো। তোমাদের সন্তানরাও তোমাদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে। অন্যথায় তার বিপরীত হবে।”
كَمَا تَدِينُ تُدَانُ
অর্থাৎ যেমন কর্ম করবে তেমন ফল পাবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
০২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সকল বিপদ-আপদে মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই স্বরণ; এবং তাতেই মুক্তি
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
২৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শাহিদুন্ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ক্বলবী যিকির জারী না থাকলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












