হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৪৪)
, ০২ ছফর শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ২০ ছালিছ, ১৩৯১ শামসী সন , ১৯ আগস্ট, ২০২৩ খ্রি:, ০৪ ভাদ্র শ্রাবণ, ১৪৩০ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
পর্দা যিনি খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার একটি ফরয হুকুম। পর্দার এই ফরযিয়াত সর্ম্পকে মুসলমানরাই আজ একেবারেই অনবহিত। অনেকে নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত ফরয হিসেবে আদায় করছে ঠিকই কিন্তু পর্দাও যে একটি ফরয হুকুম তা পালন করার প্রয়োজনীয়তা মোটেও অনুভব করছে না। এমনকি শরঈ পর্দা কাকে বলে তা তো বোঝেই না এমনকি বোঝার চেষ্টাও করে না। বরং সামাজিকভাবে প্রচলিত নিয়মানুযায়ী পর্দা করার চেষ্টা করে থাকে। যখন কোন মহিলা বাহিরে বের হয় তখন বোরকা পরিধান করে কিন্তু যখন ঘরে বা বাড়িতে পরিবারের সাথে চলাফেরা করে তখন দেবর, ভাসুর, চাচা শশুর, মামা শশুর, চাচাত ভাই, মামাত ভাই, খালাত ভাই, ফুফাত ভাই, দুলাভাই এবং পুরুষের ক্ষেত্রে শালিকা, চাচাত বোন, চাচী, ভাবী, মামাত বোন, খালাত বোন, ফুফাত বোন নিকটতম গায়রে মাহরামদের সাথে পর্দা করার কোন প্রয়োজন বা তাকীদ অনুভব করে না। মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম অমান্য করে গৃহাভ্যন্তরে এমনভাবে চলাফেরা করে যে, এই অবাধ মেলামেশা এক পর্যায়ে ব্যভিচার পর্যন্ত গড়ায়। পরিতাপের বিষয়, আজ মুসলমান মা-বোনেরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম প্রদত্ত্ব নিজেদের মান-মর্যাদা বুঝতে না পারায় পণ্য সামগ্রীতে পরিণত হচ্ছে। মডেলিংয়ের নামে আজ বিভিন্ন পণ্য সামগ্রীর বিজ্ঞাপনে নগ্নদেহ প্রদর্শন করে নিজেদেরকে ভোগের সামগ্রীতে পরিণত করছে। বেহায়াপনা এতটাই বেড়ে গেছে যে, আজ নিজের মা, বোন, স্ত্রী, মেয়ে নিয়ে রাস্তাঘাটে বের হওয়াটাই দুস্কর। এখন ঈমান বাঁচানো হাতে জলন্ত কয়লা রাখার চেয়েও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতএব ঐ সকল মা-বোনদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার দেয়া সুন্দর দেহাকৃতি আর লাবণ্যময় চেহারার আকর্ষণ দিয়ে হাজারো মানুষকে বিপথগামী করছেন এবং জাহান্নামের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন- আপনারা কি একটিবার ভেবে দেখেছেন, আপনাদের এই সুন্দর ত্বক লাবণ্য একদিন মøান হয়ে যাবে।
তাই, হে পরকালে বিশ্বাসী মা ও বোনেরা! আপনারা যেহেতু বিশ্বাস করেন মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে ফিরে যেতে হবে এবং নিজেদের বদ আমলের কারণে জাহান্নামের ভয়ঙ্কর শাস্তি পেতে হবে, তাহলে কেন এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়াতে মহান আল্লাহ পাক উনার হুকুম অমান্য করে পাপাচারে লিপ্ত হয়ে নিজেকে জাহান্নামী রূপে পরিণত করছেন?
সুতরাং ফিরে আসুন এবং এখনই প্রস্তুতি নিন নিজেকে মহান আল্লাহ পাক উনার খালিছ বান্দী হিসেবে পরিণত করতে। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হাক্বীক্বী হিদায়েত দান করুন। আমীন!
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ মহিলাদের মুখমন্ডল বা চেহারা খোলা রাখা (২)
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (১)
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












