শিশুদের জন্য নছীহত:
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
, ০৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১১ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) মহিলাদের পাতা
বালাদুল আমীন বা নিরাপদ শহর পবিত্র মক্কা শরীফ। এই মুবারক শহরের একটি মাদরাসা। ছোট বালকদের তা’লীম দিচ্ছেন একজন বয়স্ক উস্তাদ বা শিক্ষক। তা’লীম মুবারক শেষে বালকদের হাতে একটি করে খেজুর তুলে দিলেন তিনি। পবিত্র মক্কা শরীফ ও পবিত্র মদিনা শরীফবাসী সবার প্রিয় সুন্নতি খাবার হলো খেজুর। হাতে খেজুর দিয়ে উস্তাদ নছীহত মুবারক করলেন, আগামীকাল সকালে আপনারা তা’লীমে আসার আগে নিজ নিজ খেজুর কোন একটি গোপন জায়গায় লুকিয়ে আসবেন, যেন কেউ না দেখে, বুঝতে পেরেছেন? বালকরা সবাই জবাব দিলেন, জি হুযূর!
শেষ হলো সেদিনের ক্লাস। পরের দিন সকালের কথা। উস্তাদ সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা সবাই নিজ নিজ খেজুর লুকিয়ে এসেছেন তো? একজন ছাড়া সবাই বললেন- জি হুযূর! লুকিয়ে এসেছি। সেই বালক ইমাম তিনি চুপ করে বসে রইলেন। কোনো কথা বললেন না।
উস্তাদ উনার কাছে জানতে চাইলেন, হে বালক! আপনার সহপাঠিরা খেজুর লুকিয়ে রেখে আসতে পারলেন, আপনি কেন পারলেন না?
অতঃপর তিনি আস্তে আস্তে উত্তর দিলেন, হুজুর! বেয়াদবি ক্ষমা চাই! আপনি এমন একটি জায়গায় খেজুর লুকাতে বলেছেন, যেন কেউ না দেখে। আমার এমন গোপন কোনো জায়গা নেই!
উনার কথা শুনে তা’লীমের সবাই অবাক হলেন। বালক ইমাম তিনি বলতে লাগলেন, আমি গতকাল থেকে আজ মাদরাসায় আসার আগ পর্যন্ত বিছানার নিচে, উঠানের গর্তে, মায়ের তোষকের কোণা সহ অনেক জায়গায় আমার খেজুর লুকানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এমন কোনো জায়গা খুজে পাইনি- যেখানে লুকালে খালিক-মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক তিনি দেখতে পাবেন না। সবকিছুই তো তিনি দেখতে পারেন! সুবহানাল্লাহ!
বালক ইমাম উনার অসাধারণ ইলিম ও সূক্ষ্ম সমঝ দেখে অত্যন্ত খুশী হলেন উস্তাদ। খুশিতে চোখে পানি এসে গেল উনার। বালক ইমাম উনাকে তিনি পরম মমতায় জড়িয়ে ধরলেন। তিনি বুঝতে পারলেন, এই বালক তিনি একদিন অনেক বড় ফক্বীহ্ হবেন। পৃথিবীর মানুষ উনাকে যুগ যুগ ধরে অনুসরণ করবে। বালক ইমাম তিনি উনার উস্তাদের কথা সত্যি প্রমাণ করেছিলেন।
সেই বালক ইমাম উনার নাম ছিল, মুহম্মদ ইবনে ইদরিস রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনিই হলেন, বিখ্যাত শাফেয়ি মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম, সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত আবু আব্দুল্লাহ মুহম্মদ ইবনে ইদরিস আশ শাফেয়ি রহমতুল্লাহি আলাইহি।
নছীহত :
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা বন্ধু তিনি ওলীই, যদিও তিনি শিশু হননা কেন?” সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত শাফেয়ি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু বা ওলী এবং পরবর্তিতে তিনি শাফেয়ী মাযহাবের ইমাম হবেন সেটা শিশুকালেই উনার সূক্ষ্ম সমঝের মাধ্যমে জাহির হয়েছিল।
পাশাপাশি এটাও শেখার বিষয় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিতো হাজির ও নাজির; তাই আমাদেরকে যে কোন গুণাহ ও বদ আমল থেকে সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশ্তে প্রবেশ করবে না
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ মেহমানদারী করার মাধ্যমে উদযাপনে শাফায়াত মুবারক লাভ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাট্টা কাফির (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
যে ৪ শ্রেণীর লোকদের জন্য ক্বিয়ামতের দিন সুপারিশ ওয়াজিব হবে
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মহিলাদের সুন্নতী লিবাস, অলংকার ও সাজ-সজ্জা (২০)
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হাশরের ময়দানে যে ৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককেই দিতে হবে
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা বেমেছাল ফযীলত মুবারকের অধিকারী
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বক্ষেত্রে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে প্রাধান্য দিতে হবে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












