তালাক দেয়ার অধিকারী কে? চেয়ারম্যান-মেম্বার নাকি আহাল বা স্বামী ? (১)
, ২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) মহিলাদের পাতা
আবুল কালাম আযাদ একজন কৃষক। আম লোক। একদিন তার একটি বিষয় নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্ব হয়। সে দ্বন্দ নিরসনের জন্য উনার আহলিয়া (স্ত্রী) বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় গিয়ে লোকদেরকে বিচার দেয়। রাস্তার এক লোক তার কথা শুনে আবুল কালাম আযাদকে অপমানজনক অনেক কথা-বার্তা বলে। সে সহ্য করতে না পেরে সবার সামনেই তার আহলিয়াকে (স্ত্রী) একসাথে তিন ত্বালাক্ব¡ দেয়। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান পর্যন্ত গিয়ে পৌছে । চেয়ারম্যান সাহেব বলেন, এটা সরকারী আইন মুতাবিক ত্বালাক্ব হয়নি। চেয়ারম্যান সাহেব সালিশের মাধ্যমে আবার সংসার করতে বলে। তারা সংসার করতে থাকে। এভাবে প্রায় পাঁচ বছর সংসার করে আসছে। তবে তাদের সংসারে সুখ শান্তি নেই। সবসময় অশান্তি লেগেই আছে। এ অশান্তির কারণ খুঁজতে গিয়ে বার বার সেই ঘটনা সামনে আসছে। আযাদ ছাহেব একদিন একজন ইমাম ছাহেবকে ঘটনাটি বিস্তারিত খুলে বলে। সে আরো বলে. আমার আহলিয়া বা স্ত্রী অন্যত্র বিবাহ বসতে বা হিলা করতে একেবারে নারাজ। এবিষয়ে তাকে কিছু বললে, সে থানা পুলিশের ভয় দেখায়।
ইমাম ছাহেব বললেন. আপনার কাজটি সঠিক হয়নি। সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া মতে আপনার আহলিয়া বা স্ত্রীর উপর তিন ত্বালাক্ব পতিত হয়েছে। সম্মানিত শরীয়ত মুতাবেক আপনার আহলিয়া অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বা হিলা ব্যতিত সংসার করা শরীয়ত সম্মত হবেনা। কেননা মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَاِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَه مِنْ بَعْدُ حَتّٰى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ
অর্থ: যদি কেউ তার আহলিয়া বা স্ত্রীকে তালাক দেয়, তাহলে ঐ স্ত্রী অনত্র বিবাহ বদ্ধনে আবদ্ধ হওয়া ব্যতিত তার জন্য হালাল হবে না। (সুরা বাক্বারা শরীফ, আয়াত শরীফ ১৩০)
আপনার জন্য ফরয হচ্ছে, এখনই পৃথক বা আলাদা হয়ে যাওয়া এবং খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা। আর এ বিষয়ে সম্মানিত শরীয়ত উনার যে ফায়ছালা রয়েছে সে অনুযায়ী আমল করা।
কারণ এমতাবস্থায় আপনাদের পরস্পর দেখা সাক্ষাত করা জায়েয নেই। আপনাদের একান্তবাস ব্যভিচারের অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এমতাবস্থায় যতজন সন্তান জন্মগ্রহণ করবে সকলেই অবৈধ বলে গণ্য হবে। আপনারা লা’নতের মধ্যে রয়েছেন। বিধায় আযাব গযব পিছু ছাড়ছেনা। অশান্তি ফেতনা ফাসাদ সংসারে লেগেই আছে।
আপনারা বিগত পাঁচ বছর ঘর সংসার করে কঠিন কবীরা গুনাহে গুনাহগার হয়েছেন।
কারণ আপনারা এ ব্যাপারে সম্মানিত শরীয়তকে বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান, মেম্বার, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। তাদের ফায়ছালা মেনে নিয়েছেন। যা কুফরী হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে ত্বালাক্ব দেয়া সম্পর্কে সরকারী যে আইন রয়েছে তা সম্মানিত শরীয়ত উনার সম্পূর্ণ খিলাফ। যার কারণে তা মানা কাট্টা কুফরী। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
لَا طَاعَةَ لِـمَخْلُوقٍ فِى مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার বিরোধিতা করে কোনো মানুষের আনুগত্য করা জায়িয নেই।” (বুখারী শরীফ, মিশকাত শরীফ)
আর এ বিষয়ে থানা পুলিশকে ভয় পেলে হবে না। থানা পুলিশের দোহাই দিলেও চলবে না। ভয় পেতে হবে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে । উনাদের আদেশ-নির্দেশ মুতাবেক আমল করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِىْ وَلِاُتِمَّ نِعْمَتِى عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُوْنَ.
অর্থ: তোমরা মাখলূক্বাতকে ভয় করো না, আমাকে ভয় করো। তাহলে আমি তোমাদের নিয়ামত পরিপূর্ণ করে দিবো এবং তোমরা অবশ্যই হিদায়েতপ্রাপ্ত হবে। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫০)
নচেৎ ইহকাল ও পরকালে কঠিন কাফফারা আদায় করতে হবে।
-মুফতি সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুম উনাদের সম্পর্কে কটূক্তি করা কাট্টা কুফরী
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
২৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিন ধরনের লোক বেহেশতে প্রবেশ করবে না
২৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
বালক ইমাম উনার সূক্ষ্ম সমঝ!
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব-কর্তব্য
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
খাছ দোয়া মুবারক পাওয়ার বিশেষ মাধ্যম পবিত্র যাকাত আদায়
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পারিবারিক তা’লীম ও তার তারতীব
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
৩টি বিশেষ নেক কাজ, যা ইন্তেকালের পরও জারি থাকে
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির শুরুতেই মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে ছিলেন, আছেন এবং অনন্তকাল থাকবেন
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দুনিয়ার চাকচিক্যে মোহগ্রস্ত হয়ে বদ আমল করার কারণে মানুষকে পরকালে পাকড়াও হতে হবে (২)
১৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












