বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান:
মুসলিম স্বর্ণালী যুগের লাইব্রেরির ধরণ ও পরিচালনা
, ১৬ই রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৬ হিজরী সন, ২০ ছামিন, ১৩৯২ শামসী সন , ১৭ জানুয়ারী, ২০২৫ খ্রি:, ০৩ মাঘ, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) বিজ্ঞান মুসলমান উনাদেরই অবদান
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
এটা লক্ষ্যণীয় যে ইবনে আন-নাদিমের ফিহরিস্ত (গ্রন্থপঞ্জি) ইসলামী গ্রন্থাগারগুলিতে গৃহীত কিতাব শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতির একটি উদাহরণ। ইবন আন-নাদিম এই দশটি প্রধান শ্রেণীর তালিকাভুক্ত করেছেন: পবিত্র কুরআন শরীফ, ব্যাকরণ, ইতিহাস, কবিতা, নীতিশাস্ত্র, আইনশাস্ত্র, দর্শন, হালকা সাহিত্য, ধর্ম এবং আলকেমি। এই প্রধান শ্রেণীগুলি একটি গ্রন্থাগারের প্রয়োজন অনুসারে উপবিভক্ত ছিল। মধ্যযুগীয় যুগে ইসলামী গ্রন্থাগারগুলিতে গ্রন্থাগারিকদের অবস্থান অবশ্যই একটি সম্মানজনক স্থানে ছিল। কারণ অনেক গ্রন্থাগার প্রায়শই বিখ্যাত স্কলারদের দ্বারা পূর্ণ ছিল, যা স্পষ্টতই উনাদের বিখ্যাত কাজ বা কিতাবের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। বড় বেসরকারী লাইব্রেরিগুলির পাশাপাশি, পাবলিক লাইব্রেরিগুলির নিজস্ব গ্রন্থাগারিক ছিল। অনেক বড় লাইব্রেরিতে প্রধান গ্রন্থাগারিকের অধীনে এক বা একাধিক সাব-লাইব্রেরিয়ান, আনুলিপিকারক এবং অ্যাটেনডেন্ট থাকতেন। বৃহৎ লাইব্রেরিগুলোতে এমনকি বিষয় ভিত্তিক বিশেষজ্ঞও ছিলেন। বেশিরভাগ ইসলামিক লাইব্রেরিতে সাধারণত কিতাব ব্যবহার এবং কিতাব বন্টন বা ধার, বিশেষ করে পরিচিত ছাত্র ও প-িতদের জন্য, বেশ উদার ছিল বলে মনে করা হয়।
এমনকি প্রাইভেট লাইব্রেরিও অনেক ক্ষেত্রে উৎসাহী ছাত্র ও গবেষকদের জন্য বেশ উদার ছিল। উপরন্তু, ইতিহাসের অনেক সূত্রে উল্লেখ আছে যে কিছু লাইব্রেরি ব্যবহারকারীদের বিনামূল্যে কলম, কালি, কাগজ এবং অনুবাদের জন্য অন্যান্য পরিষেবা প্রদান করত।
এই ধরণের লাইব্রেরিগুলির প্রশাসনের জন্য প্রচুর খরচ হত। কায়রোতে আল-হাকিমের লাইব্রেরির বার্ষিক বাজেটের পরিমাণ ছিল ২০০ দিনারের বেশি। বিস্তারিত ব্যয় নিম্নরূপ ছিল:
আরবী-ইসলামী গ্রন্থাগারগুলির স্বর্ণযুগ অপেক্ষাকৃত সংক্ষিপ্ত ছিল। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অদূরদর্শী খলীফার অধীনে অনেক ইসলামী গ্রন্থাগার অবহেলার শিকার হয়। খলীফা ও লাইব্রেরিয়ানদের অবহেলার পাশাপাশি মুসলিম খিলাফতের মধ্যে যুদ্ধ বিগ্রহে মুসলিম ভূখন্ডকে ছোট ছোট বিক্ষিপ্ত সালতানাতে বিভক্ত হওয়াতে লাইব্রেরিসহ সমস্ত অধিবাসীদের জীবনযাপন ব্যবস্থায় মারাত্মক প্রভাব ফেলেছিল। উদাহরণস্বরূপ, কর্ডোভার বিখ্যাত গ্রন্থাগারটি উমায়িদ রাজবংশের শেষ অবধি অক্ষত ছিল কিন্তু যখন বিভিন্ন সালতানাত স্পেনকে নিজেদের মধ্যে বিভক্ত করে নিয়েছিল তখন এই গ্রন্থাগারের কিতাবগুলি সারা স্পেনে ছড়িয়ে পড়েছিল।
খ্রিস্টানরা স্পেন, সিরিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার অনেক গ্রন্থাগার ধ্বংসের জন্য দায়ী, এটা গ্রন্থাগারগুলো লুপ্ত হওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ক্রুসেডের সময় খ্রিস্টানরা জনপদের সাথে লাইব্রেরির প্রতি ধ্বংসাত্মক ছিল। যেমন: গ্রানাডার লাইব্রেরী হতে খ্রিস্টানরা সমস্ত ইতিহাসের বই পুড়িয়ে ফেলে আর জ্ঞান-বিজ্ঞানের বই চুরি করে নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে নেয়। আবার ইসলামিক লাইব্রেরিও দুর্ঘটনাবশত অগ্নিকা-ে ধ্বংস হয়ে যায়, যেমন সবুর ইবনে আরদাশির বাগদাদে স্থাপিত বিখ্যাত গ্রন্থাগার। হিজরী ৬৫৪ (৬২৪ শামসী, ১২৫৭ খ্রিস্টাব্দ) সালে, পবিত্র মদিনা শরীফ উনার একটি একাডেমিক কেন্দ্রের লাইব্রেরী, যা ইবনে জুবায়ের তার লিখনীতে এই লাইব্রেরির বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন, বজ্রপাতের দরুন অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছিল।
ছবি: কালইয়ান মিনারাত মসজিদ, বুখারা (৫২০ হিজরী; ১১২৭ ঈসায়ী)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা (ধারাবাহিক) ৪. যমীন থেকে মেঘের দিকেঃ এটা বিরল প্রকৃতির।
০৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানরাই আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা: মহাকাশ বিজ্ঞানে মুসলমানদের অবদান
০৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বিদ্যুৎ চমকানোর বিস্ময়কর বর্ণনা
৩০ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৮)
১৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৭)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৬)
০১ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৫)
১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিখ্যাত মুসলিম প্রকৌশলী রিদওয়ান আল-সাতীর আবিষ্কার করা উমাইয়া মসজিদের ঘড়ি
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সভ্যতার বিকাশে মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার উইন্ডমিল বা বায়ুকল
০৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (৩)
০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা (২)
২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
হালাল-হারাম পণ্য ও তার উপাদান নিয়ে কথা
১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












