জীবনী মুবারক
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (৫)
বিলাদত শরীফ: ৬০৮ খৃ: বিছাল শরীফ: ৭৪ হিজরী (৬৯৪ খৃ:) বয়স মুবারক: ৮৭ বছর।
, ১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
ফযীলত ও মর্যাদা:
হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার একান্ত খাদেম হযরত নাফে’ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার তাবেয়ী ছাত্রদের বলতেন, এ যুগে যদি হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বেঁচে থাকতেন, তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক অনুসরণের ক্ষেত্রে উনার কঠোরতা দেখে তোমরা বলতে, লোকটি পাগল। তিনি ৮৪ বছর, অন্য বর্ণনায় ৮৭ বছর জীবিত ছিলেন এবং শৈশবকালেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারক অর্থাৎ হাত মুবারকে বাইয়াত হয়েছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে তিনি বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুল মাগফিরাত মুবারকে বাইয়াতের পর থেকে আমার আজকের এই দিনটি পর্যন্ত তা ভঙ্গ করিনি বা তাতে কোন পরিবর্তন করিনি। শুধু ইবাদত-বন্দেগী, আমলের ক্ষেত্রেই নয়, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সমস্ত সুন্নত মুবারক পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করতেন তিনি।
যেমন, হজ্জের সফরে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেখানে যেখানে রাত্রি যাপন করতেন, পরবর্তীকালে তিনিও একইস্থানে রাত্রি যাপন করতেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে সকল স্থানে নামায আদায় করতেন, তিনিও সেখানে নামায আদায় করতেন। যে রাস্তা দিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি চলতেন তিনিও সে রাস্তা দিয়ে চলতেন। এমনকি যে সকল স্থানে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ওযু-গোসল করেছেন, তিনিও সেখানে একই কাজ সম্পাদন করতেন। সুবহানাল্লাহ! মোটকথা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতিটি পদক্ষেপ তিনি হুব্হু অনুসরণ-অনুকরণ করতেন। উনার প্রতিটি কথা ও কাজকে লোকেরা মনে করত প্রকৃতপক্ষে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কথা ও কাজ মুবারক। যেহেতু লোকে উনাকে অনুসরণ করত, তাই ব্যক্তিগত কারণে কোন ক্ষেত্রে সুন্নত মুবারকের অনুসরণ করতে না পারলে তিনি স্পষ্ট করে বলে দিতেন, এটা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাজ বা আমল মুবারক নয়। বিশেষ ওজর বশতঃ আমি এমন করেছি। তাতে মানুষের বিভ্রান্তি দূর হয়ে যেত। সুবহানাল্লাহ!
সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি উনার ইত্তিবায়ে সুন্নত মুবারক সম্পর্কে বলেছেন, ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মত আর কেউ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক অনুসরণ করেন না।
তাফাক্কুহ ফিদ্দীন (تَفَقُّهْ فِىْ الدِّيْنِ) বা দ্বীন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মধ্যে পরিপূর্ণতা লাভ করেছিল। সারাটা জীবন উনার ইলিম চর্চা ও ফতওয়া দিয়েই কাটে। পবিত্র মদীনা শরীফের প্রখ্যাত মুফতী ছাহাবী উনাদের মধ্যে তিনিও একজন। উনার যুগের শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিশেষজ্ঞরা উনার নিকট বিভিন্ন মাসয়ালার সমাধান চাইতেন। হযরত সাঈদ ইবনে যুবাইর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিসহ সমসাময়িক অনেকেই উনার কাছ থেকে বিভিন্ন মাসয়ালার সমাধান নিতেন। পরবর্তীকালে মালেকী মাযহাব মূলতঃ হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার এসব ফতওয়ার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে।
হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলতেন, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি দ্বীনের অন্যতম ইমাম। উনার ফতওয়াসমূহ সংগৃহীত হলে তা বৃহদাকার গ্রন্থে পরিণত হত। তিনি ফতওয়া দেয়ার ব্যাপারে ভীষণ সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
হাফেজ ইবনে আবদিল বার বলেন, হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ফতওয়া ও আমল উভয় ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতেন। খুব ভাবনা চিন্তা করে যেমন কথা বলতেন, তেমনি কাজও করতেন ভেবে চিন্তে।
এ কথা সত্য যে, সকল হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য মুবারকের ছাপ পড়েছিল, তবে যাঁদের উপর গভীরভাবে এই ছাপ পড়েছিল হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ছিলেন উনাদের মধ্যে অন্যতম। উনার প্রতিটি কথা ও আচরণে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্বভাব-বৈশিষ্ট্য মুবারকের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠত। (অসমাপ্ত)
-আল্লামা সাঈদ আহমদ গজনবী।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাফরমানীমূলক কাজ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
কারবালার ঘটনার জন্য মালউন ইয়াযিদ লানতুল্লাহি আলাইহি দায়ী এবং সে কাফির (২)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন মুবারক করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদব-শরাফত বজায় রাখতে হবে
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
হযরত মাওলানা শাহ ছুফী আবুল খায়ের মুহম্মদ ওয়াজীহুল্লাহ নানুপূরী যাত্রাবাড়ীর হযরত মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার সংক্ষিপ্ত সাওয়ানেহ উমরী মুবারক (৭ম পর্ব)
১৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
তিনটি আক্বীদাহ বিশুদ্ধ করা আবশ্যক
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ যে বিছালী শান মুবারকের পরও জীবিত, তার ঈমানদীপ্ত ঘটনা
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












