সুওয়াল-জাওয়াব:
হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাদেরকে ‘নাফরমান’ বলা চরম বেয়াদবী ও কুফরী (৩)
, ১১ জুমাদাল ঊলা শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৫ সাদিস, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৩ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রি:, ১৮ কার্তিক, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) শিক্ষামূলক জিজ্ঞাসা
সুওয়াল:
ছারছিনা থেকে প্রকাশিত পাক্ষিক পত্রিকা ৬০ বর্ষ ১লা সংখ্যা ১৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ রয়েছে, হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিষেধাজ্ঞা না মেনে নাফরমান হয়ে বেহেশত থেকে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক উনার নবী ও রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালাম এবং উনার সম্মানিতা আহলিয়া হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনাদের শান মুবারকে বেয়াদবীমূলক উক্ত বক্তব্যের শরঈ ফায়ছালা জানতে ইচ্ছুক।
জাওয়াব: (৩য় অংশ)
পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ إِلَّا رِجَالًا نُوحِي إِلَيْهِمْ
অর্থ: আমি আপনার (নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পূর্বে প্রত্যেক রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি ওহী মুবারক প্রেরণ করেছি। (পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৫)
অর্থাৎ হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যাবতীয় কার্যাবলী সম্মানিত ওহী মুবারক দ্বারা তথা মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে পরিচালিত হতো।
যার পরিপ্রেক্ষিতে আক্বায়িদ শাস্ত্রের সমস্ত কিতাবে উল্লেখ রয়েছে-
اَلْأَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كُلُّهُمْ مَعْصُومُونَ
অর্থ: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই মা’ছূম বা নিস্পাপ। সুবহানাল্লাহ! (শরহে আক্বায়িদে নাসাফী, তাকমীলুল ঈমান ইত্যাদি)
আরো উল্লেখ রয়েছে-
اَلْأَنْبِيَاءُ عَلَيْهِمُ الصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ كُلُّهُمْ مُنَزَّهُوْنَ عَنِ الصَّغَائِرِ وَالْكَبَائِرِ وَالْكفْرِ وَالْقَبَائِحِ
অর্থ: হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ছগীরা, কবীরা, কুফর-শিরক এবং অপছন্দনীয় কাজ থেকেও পবিত্র। সুবহানাল্লাহ! (আল ফিক্বহুল আকবর)
কাজেই, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের আলোকে পবিত্র আক্বায়িদ শাস্ত্র অনুযায়ী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি আক্বীদা পোষন করতে হবে। অন্যথায় কারো পক্ষে মু’মিন-মুসলমান থাকা সম্ভব হবে না।
যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ কিতাব মুসলিম শরীফ ও মিশকাত শরীফ ইত্যাদি কিতাব সমূহের মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার বিছাল শরীফ গ্রহনের পর হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাক্ষাৎ মুবারক হলো। তিনি হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার যথাযথ প্রশংসা করে বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে সৃষ্টি করে জান্নাতে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। অতঃপর আপনিই মানব জাতিকে যমীনে নিয়ে আসার কারণ ঘটিয়েছেন। উত্তরে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি এটা কিভাবে জানলেন? বললেন, তাওরাত শরীফ-এ পেয়েছি। হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সৃষ্টির কতকাল পূর্বে তাওরাত শরীফ লিপিবদ্ধ করেছেন তা আপনি জানেন?
হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, চল্লিশ বৎসর পূর্বে। তখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যে বিষয়টি আমাকে সৃষ্টির চল্লিশ বৎসর পূর্বে মহান আল্লাহ পাক তিনি লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন সে বিষয়টি সম্পর্কে কেন আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন? অতঃপর নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার উপর জয়ী হলেন। সুবহানাল্লাহ!
স্মরণযোগ্য যে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্বপ্ন মুবারকও যেখানে ওহী মুবারকের অন্তর্ভুক্ত সেখানে উনাদের জাগ্রত অবস্থার বিষয়গুলো কি ওহী মুবারকের বাইরে ছিল? কখনই নয়। যদি তাই হয় তাহলে ওহী মুবারকের ফায়সালাকৃত বিষয়ের জন্য উনাদেরকে দোষারোপ করা কি করে শুদ্ধ হতে পারে?
কাজেই, উনাদের সাথে যদি ভুল বা গুনাহ্র বিষয়টি সম্পৃক্ত করা হয় তাহলে একইসাথে এটাও সম্পৃক্ত হয়ে যায় যে, মহান আল্লাহ পাক তিনিই ওহী মুবারক নাযিলে ভুল করেছেন এবং তিনিই উনাদেরকে গুনাহ করিয়েছেন। নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! নাঊযুবিল্লাহ! যা চিন্তা-কল্পনা করাও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
অনুরূপ অন্যান্য হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঘটনাও। মানুষ সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান মুবারকে বেয়াদবিমূলক কুফরী কথা-বার্তা বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
প্রসঙ্গ গান-বাজনা হারাম (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায় ও সংশ্লিষ্ট মাসয়ালা-মাসায়িল
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র রোযা সম্পর্কিত জরুরী সুওয়াল-জাওয়াব
২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: তারাবীহ নামায আদায়ের শরয়ী তারতীব
১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: ছোয়াচে রোগ
২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (৩)
২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (২)
১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মি’রাজ শরীফের তারিখ নিয়ে মতভেদ (১)
০৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রসঙ্গ: পবিত্র মসজিদের ভিতরে চেয়ার স্থাপন নব্য বিদয়াত
৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












