সিন্ডিকেটের নতুন কারসাজিতে রোজা আসার আগ থেকেই বাড়ানো হচ্ছে দ্রব্যমূল্যের দাম
তিন স্তরে ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে বাড়ছে ভোগ্যপণ্যের দাম পণ্যমূল্যে কারসাজি সিন্ডিকেট নির্মূলে- সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও নিষ্ক্রিয়তা এবং নিষ্ফল অভিযান জনগণের বরদাশতের বাইরে।
, ২৯শে রজবুল হারাম শরীফ, ১৪৪৪ হিজরী সন, ২৩ তাসি, ১৩৯০ শামসী সন , ২১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রি:, ০৭ ফাল্গুন, ১৪২৯ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) মন্তব্য কলাম
সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। সভায় আমদানি পণ্যের দাম বাড়ার বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের উপ-পরিচালক জানান, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এবার রোজায় আমদানি করা পণ্যের দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি থাকবে। এর বেশি বাড়বে না। কিন্তু টিসিবির গতকালের মূল্য তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বছরের ব্যবধানে আমদানি করা প্রতি কেজি রসুন ৬৩.৬৪ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি আমদানি করা শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬৩.৯৩ শতাংশ বেশি দরে। পাশাপাশি প্রতি কেজি আমদানি করা আদা সর্বোচ্চ ১১১.১১ শতাংশ, জিরা ৯৪.৪৪ শতাংশ, লবঙ্গ ৩৯.৫৩ শতাংশ, গুঁড়া দুধ ৪০ শতাংশ, চিনি ৫০.৩৩ শতাংশ, অ্যাঙ্কর ডাল ৪৭.৯৬ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোলা প্রতি কেজি ১৬.৬৭ শতাংশ বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। গড়ে ৫৯ শতাংশ বেশি।
জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার সব ধরনের পণ্যের দাম বেশি। তারও কিছু যৌক্তিক কারণ আছে। তবে অযৌক্তিক কারণও আছে। তার মধ্যে আছে এত দাম বৃদ্ধি হচ্ছে মূলত ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা করার প্রবণতা। রোজা এলেই বাজারে তারা অস্থিরতা তৈরি করে। রোজা শুরুর দুই মাস আগেই পণ্যের দাম বাড়ায়। এবারও সেটা করেছে। ক্রেতাকে জিম্মি করে তারা অতি মুনাফা লুটতে শুরু করেছে। এবার রোজায় পণ্যমূল্যে বাড়তি দর ক্রেতাকে অতিষ্ঠ করে তুলবে। তাই এখন থেকেই উদ্যোগ না নিলে মূল্য স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।
নানা অজুহাতে পণ্যের দাম বাড়িয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। এ ধরনের সিন্ডিকেটের হাতেই জিম্মি সাধারণ ক্রেতা। রমজানের পণ্য আনতে যাতে সমস্যা না হয় সেজন্য সরকার বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলোকে এ সংক্রান্ত এলসি খোলার জন্য বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সুফল ব্যবসায়ীরা ভোগ করছেন। কিন্তু বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। নিত্যপণ্যের দাম শুধু বাড়ছেই।
দৈনিক আল ইহসানের অনুসন্ধানে জানা গেছে রমজান মাস সামনে রেখে তিন স্তরে ব্যবসায়ীদের যোগসাজশের কারণে বাড়ছে নিত্যপণ্যের দাম। পণ্যের মূল্য নিয়ে লুকোচুরি করতে পাকা রসিদ, চালান, মেমো কিংবা ইনভয়েস ছাড়াই উৎপাদনকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যিক কর্মকা- পরিচালনা করছেন। মূল্য নির্ধারণের ফাঁকফোকরে উৎপাদনকারী থেকে খুচরা কারবারি একে অপরের কাছ থেকে দাম বেশি নিচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে সরাসরি ভোক্তার ওপর। কারণ, দিনশেষে ভোক্তাকে বেশি দাম পরিশোধ করে পণ্যসামগ্রী কিনতে হচ্ছে। এ ছাড়া সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে চিনি, ভোজ্যতেলসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী। এমনকি, মুদি দোকানে প্রতিদিনের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার বিধান থাকলেও খোদ রাজধানীর বেশিরভাগ ভোগ্য ও নিত্যপণ্যের দোকানে সেটি অনুসরণ করা হচ্ছে না। দাম বাড়াতে বিভিন্ন অপতৎপরতা শুরু করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা।
সম্প্রতি দ্রব্যমূল্য, পণ্যমজুত, আমদানি ও রমজানের প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠক করে ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। ওই বৈঠকে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক দাম নিয়ে উৎপাদনকারী ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মুখোমুখী আলাপে বেরিয়ে আসে বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণের ফাঁকফোকর। এ ছাড়া বৈঠকে নিত্যপণ্যের দাম সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি কেন, তা নিয়ে ব্যবসায়ীরা একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। এ নিয়ে বচসাও হয়েছে।
মিল গেটে বেশি দাম রাখা, চালানে যে দর লেখা হয় তার চেয়ে বেশি নেওয়া, বিভিন্ন পর্যায়ে কেনা দর লুকিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো নিজেদের বক্তব্যেই তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।
পাইকারি থেকে খুচরা ব্যবসায়ী পর্যন্ত ব্যবসা চলছে অনেকটা মৌখিক অথবা গোপন নথির মাধ্যমে। মূলত দাম বাড়াতে তাদের এই অপকৌশল। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না করা। দিনশেষে এর প্রভাব পড়ছে ভোক্তার ওপর। কারণ তাকেই বেশি মূল্য দিয়ে নিত্যপণ্য কেনাকাটা করতে হচ্ছে।
চিনি ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল হাশেম বলেন, সরকার যে দর নির্ধারণ করে দিয়েছে, মিল থেকে সেই দরে চিনি পাওয়া যায় না। তারা রসিদও দেয় না। তাহলে আমরা কিভাবে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করব? এ সময় সেখানে উপস্থিত সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি মেঘনা গ্রুপের সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট জেনারেল ম্যানেজার তসলিম শাহরিয়ার দাবি করেন, পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি সঠিক নয়। তারা অবশ্যই ইনভয়েস দেন। সেখানে বিক্রির তথ্য উল্লেখ থাকে।
তখন ব্যবসায়ী গোলাম মাওলা বলেন, ইনভয়েস বলেন আর যাই বলেন, যেটা দেওয়া হয়, সেখানে প্রকৃত দামের চেয়ে অনেক কম লেখা থাকে। কাগজে যে দাম লেখা থাকে, নেওয়া হয় তার চেয়ে বেশি। এ সব কথা বলতে গেলে ব্যবসা করা যাবে না। মিল থেকে আমাদেরকে আর পণ্যও দেওয়া হবে না। এ প্রসঙ্গে সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, যারা পণ্য ক্রয় করেন, তারা রসিদ পান। যিনি রসিদ পান না, তিনি তো পণ্যই নেন না। কারণ, রসিদ ছাড়া পণ্য বিক্রি হয় না। এ সময় এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আপনারা এ সব নাটক-সিনেমা বন্ধ করেন। এক কোটি মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। মাত্র কয়েকজন লোকের জন্য পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে অসাধু বলা হয়। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্যই অনিয়মগুলো করছে। সেই সভায় ট্যারিফ কমিশনের এককজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যে মূল্য ঘোষণা করা হয়, সেটা ব্যবসায়ীরাই ঠিক করেন। আমাদের বিভিন্ন রকম প্যারামিটার আছে। ব্যবসায়ীরা ওই সব খাতে তাদের খরচের হিসাব ট্যারিফ কমিশনে জমা দেন। সূত্র অনুযায়ী, তাদের তথ্যগুলো যাচাই-বছাই করে আমরা দামটা ঘোষণা করি। এই মূল্য কেন কার্যকর হয় না, সেটা বলতে গেলে অনেক ভেতরের খবর চলে আসবে।
ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজের হোসাইন বলেন, ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য একেক সময় একেক বাহানা সামনে নিয়ে আসেন। একসময় বলেন, ডলার সমস্যা। আবার এর মধ্যে বলেছেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি দাম বাড়াচ্ছে। এখন আবার এলসি সমস্যাকে অজুহাত হিসাবে এনেছেন। তিনি বলেন, রমজানের জন্য যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রয়োজন, সেগুলো ইতোমধ্যেই এলসি করা হয়েছে। কারণ পণ্য আসার দুই থেকে তিন মাস আগে এলসি করতে হয়। সে অনুসারে রমজানের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য ইতোমধ্যেই বন্দরে এসে পৌঁছেছে। এলসি ইস্যুটা একটা অজুহাত মাত্র।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রশাসনের বাজার মনিটরিংয়ের কারণে গত কয়েক বছর ধরে রমজানে দ্রব্যমূল্য তেমন একটা বাড়ানোর সুযোগ পান না পাইকারি ব্যবসায়ীরা। তারা এখন কৌশল পালটেছেন। রমজান আসার আগেই তারা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেন, যাতে পরে এ নিয়ে আর প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়। এবারও রমজানের ঠিক আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে।
বাজার পরিস্থিতি যাই হোক, এবারও রমজানে নিত্যপণ্যের দাম বাড়বে না বলে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছে সরকারের বিভিন্ন মহল। কিন্তু রমজান শুরুর আগেই দ্রব্যমূল্যের আগাম ঊর্ধ্বগতির কারণে এমন আশ্বাসে ভরসা নেই জনগণের। তারা বলছেন, বিগত কয়েক বছরের মতো এ রমজানেও অসাধু ব্যবসায়ী চক্র পুরোনো ছকে চলছে। রমজাননির্ভর পণ্যের দাম তারা আগেই বাড়াতে শুরু করেছে, যাতে রমজানে নতুন করে বাড়ানোর প্রয়োজন না পড়ে।
-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অপসংস্কৃতি রোধ করতে হলে কথিত ফ্যাশন হাউজগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উগ্র হিন্দুত্ববাদী ভারত এবং পতিত আওয়ামীলীগ চাচ্ছে বাংলাদেশে তথাকথিত জঙ্গী তৎপরতা প্রমাণ করতে।
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মুসলমানকে ‘মুসলমানিত্ব’ বুঝতে হবে। ‘আশহাদু আন্না মুহম্মাদার রসূলুল্লাহ’ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাক্বীক্বীভাবে বলতে হবে ও আমলে আনতে হবে।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রতি বছর শুধু অসুস্থতার কারণে প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হচ্ছে।
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
প্রধানমন্ত্রী নিজেই ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেয়া শুরু করেছেন। বাতিল হয়েছে ‘রাষ্ট্রপতির’ সাথে ‘মহামান্য’ শব্দ ব্যবহারও।
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বাংলাদেশের সামরিক ব্যয় গত দশকগুলোতে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি মূলত বেতন, স্থায়ী খরচ এবং চলমান পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়েছে। তবে সামরিক আধুনিকায়ন, সমরাস্ত্র ক্রয় এবং নতুন প্রযুক্তি সংযোজনের জন্য মোট বাজেটের মাত্র ২-৪ শতাংশ ব্যয় হয়েছে।
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ্র পরিক্রমায় চললেই সে প্রজ্ঞা পাওয়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক বৈদ্যুতিক সংকটকে আরো ঘণীভূত করেছে, দেশকে টাল-মাটাল করেছে আমেরিকান কোম্পানী এক্সিলারেট এনার্জি। তাদের ২০৪০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ এবং বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা লুটতরাজের টেকসই পরিকল্পনা।
০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!!!!
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
আর ড্রোন সক্ষমতা বাড়াতে বাজেট মাত্র ৫৭০ কোটি টাকা!!!!!!!!!!!
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সরকারের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ কোটি টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












