সালাম দেয়া সম্মানিত সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত এবং অনেক ফযীলতের কারণ
, ০৫ শাওওয়াল শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২৫ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ২৫ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১১ চৈত্র, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “কথা বলার পূর্বে সালাম দাও।”
মুসলমানদের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে যে, প্রথমে সালাম দিয়ে এরপর কথা বলা শুরু করা। সম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে জানা যায় যে, যে প্রথমে সালাম দেন তিনি ৯০টা নেকী পান এবং যিনি জবাব দিবেন তিনি পান ১০টা নেকী। সুবহানাল্লাহ!
সালাম দেয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অন্তর্ভূক্ত এবং সালামের জবাব দেয়া ওয়াজিব। অর্থাৎ কেউ যদি সালাম দেন তাহলে অবশ্যই জাওয়াব দিতে হবে। না দিলে গুনাহগার হবে।
সম্মানিত হাদীছ শরীফ থেকে জানা যায় যে, কেউ যদি চান তার উপর এবং তার ঘরের মধ্যে রহমত নাযিল হোক, তাহলে তার জন্য দায়িত্ব হচ্ছে যে, ঘরে প্রবেশ করার সময় এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সালাম দেয়া। সুবহানাল্লাহ!
চিশতীয়া ত্বরীকার বিশিষ্ট বুযূর্গ হযরত খাজা উছমান হারুনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সালাম প্রসঙ্গে বলেছেন, যখন মজলিসে প্রবেশ করবে সালাম দিয়ে প্রবেশ করবে এবং যখন মজলিস ত্যাগ করবে তখন সালাম দিয়ে তারপর বেরুবে। কেননা সালাম গুনাহের কাফ্ফারা (পাপের প্রায়শ্চিত্ত) হিসেবে পরিগণিত হয়। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সালাম প্রদানকারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক তার উপর বর্ষিত হয়। তার নেকীর পরিমান বাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর আরও বললেন, আমি হযরত খাজা ইউসুফ চিশতী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার জবান মুবারকে শুনেছি, তিনি বলতেন, যে ব্যক্তি মজলিসে সালাম দিয়ে প্রবেশ করে এবং সালামের সাথে বের হয়, তার আমল নামায় হাজার নেকী লেখা হয়। মহান আল্লাহ পাক তিনি তার হাজার বাসনা পূর্ণ করেন এবং তাকে গুনাহ হতে এমনভাবে পবিত্র করেন যেন সে সদ্যভূমিষ্ট সন্তান। সুবহানাল্লাহ!
এছাড়াও এক বছরের ইবাদত এবং শত উমরাহ হজ্বের ছওয়াব তার আমলনামায় লিখা হয় ও হাজার হাজার লোকের সম্মানের পাত্র হয়। এরপর বললেন, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম ইমাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বর্ণনা করেছেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খিদমত মুবারকে আছি। সবসময় সুযোগের অপেক্ষায় থাকতাম যে, প্রথমে আমি উনাকে সালাম নিবেদন করবো এবং তিনি তার জবাব দিবেন। কিন্তু কখনও সেই সৌভাগ্য আমার হয়নি। আমি সালাম দেয়ার পূর্বেই তিনি সালাম দিতেন এবং আমাকে তার উত্তর দিতে হতো। সালাম দেয়া সমস্ত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত সুন্নত মুবারক। (আনিসুল আরওয়াহ)
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী সমস্ত আমলগুলো বিশেষ করে আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে সালামের প্রচলন করার তাওফিক দান করেন। (আমীন)
-আহমদ ফাতেমা আক্তার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কাফির-মুশরিকদের থেকে জুদা না হলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারী
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
কামিল শায়েখ উনার আদেশ মুতাবিক চলার সুদূর প্রসারী ফল হলো অত্যন্ত কল্যাণকর ও বরকতময়
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সত্যের মাপকাঠি
২৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সুলতান আব্দুল হামিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ইলদিজ প্রাসাদে ইফতার আয়োজনের স্মৃতিকথা
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৬)
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ছবি তোলা হারাম, যা জাহান্নামী হওয়ার কারণ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম ও সাইয়্যিদুনা হযরত খলীফাতুল উমাম আলাইহিস সালাম উনাদের অনবদ্য তাজদীদ মুবারক-
১৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মুসলমানদের হাঁচি সম্পর্কে জানা প্রয়োজন
১৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার)












