সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (২০)
, ০৪ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২০ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ০৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ
হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বেনযীর দৃষ্টান্ত মুবারক
হযরত খাব্বাব ইবনে আরাত রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ছিলেন শুরুর দিকে সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণকারী হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তখন উম্মে আম্মার বিনতে সিবা’ খুজাইয়্যাহ্-এর অধীনে ছিলেন। সে যখন জানতে পারলো যে, তিনি সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন, তখন উনাকে সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম থেকে ফিরানোর জন্য উনার উপর সে কঠিন যুলুম-নির্যাতন চালাতে লাগলো। সে লোহা উত্তপ্ত করে তা উনার মাথা মুবারক উনার উপর চেপে ধরতো। ফলে, উনার মাথা মুবারক দগ্ধ হয়ে যেতেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! এছাড়া মুশরিকগুলো আগুন জ্বালিয়ে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে সেই জ্বলন্ত আগুনের উপর নিক্ষেপ করতো। শুধু তাই নয়; উনাকে জ্বলন্ত অঙ্গারের উপর ফেলে একজন উনার বক্ষ মুবারক উনার উপর চড়ে বসতো। যাতে, তিনি কোনো রকম নড়াচড়া করতে না পারেন। অতঃপর উনার পিঠ মুবারকের গোশত হাড় পর্যন্ত পুড়ে খসে পড়ত। তারপর উনার পিঠ মুবারক উনার গলিত চর্বি দ্বারাই সেই আগুন নিভে যেতো। কিন্তু তিনি তো ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক-এ ফানা ও বাক্বা। যার কারণে এমন কঠিন যন্ত্রণাও উনার অন্তর মুবারক-এ কখনোই কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি উনার আরো অত্যধিক বেমেছাল মুহব্বত মুবারক উনার বহিঃপ্রকাশ মুবারক ঘটেছেন। সুবহানাল্লাহ! নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার সংবাদ পেশ করা হলে তিনি উনার জন্য মহাসম্মানিত মহাপবিত্র দো‘আ মুবারক করেন-
اللَّهُمَّ انْصُرْ حَضْرَتْ خَبَّابًا رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ
অর্থ: “আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! আপনি হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে গায়িবী মদদ করুন, সাহায্য করুন।” সুবহানাল্লাহ!
فاشتكت مولاته أم أنمار رأسها فكانت تعوي مثل الكلاب
‘মহাসম্মানিত মহাপবিত্র দো‘আ মুবারক করার সাথে সাথেই উম্মে আম্মার বিনতে সিবা’ খুজাইয়্যাহ্-এর মাথায় প্রচ- ব্যথা শুরু হলো। কঠিন ব্যথার কারণে সে কুকুরের মতো ঘেউ ঘেউ করতে লাগলো।’
একজন তাকে পরামর্শ দিলো যে, ‘মাথায় গরম লোহার সেঁক দিলে মাথা ব্যথা কমতে পারে।’ তখন সে তার মাথায় গরম লোহার সেঁক দেয়ার জন্য হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে নিয়োগ করলো। তখন থেকে হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ঐ মুশরিক মহিলার মাথায় গরম লোহার সেঁক দিতে থাকলেন। সুবহানাল্লাহ! (উসদুল গ¦বাহ্)
অন্য বর্ণনায় রয়েছেন, একবার কাট্টা কাফির আবূ জাহিল এবং ওয়ালীদ ইবনে মুগীরাহ্সহ আরো বড় বড় মুশরিকগুলো মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার সামনে একত্রিত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আলোচনা করলো। তারা দেখলো যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান মুবারক দিন দিন আরো ব্যাপকভাবে প্রকাশ পাচ্ছেন, সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ব্যাপক প্রচার-প্রসার হচ্ছেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছেন। তারা বিষয়টি আর বাড়তে না দিয়ে এখনই মূলোৎপাটনের জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করে সিদ্ধান্ত নিলো যে, আজ থেকে প্রতিটি গোত্র, সেই গোত্রের হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের উপর যুলুম-নির্যাতন চালাতে শুরু করবে। এতে হয় উনারা সম্মানিত ও পবিত্র দ্বীন ইসলাম ত্যাগ করবেন; অন্যথায় শাহাদাত মুবারক গ্রহণ করবেন। না‘ঊযুবিল্লাহ!
হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার উপর যুলুম-নির্যাতন করার দায়িত্ব অর্পিত হলো সিবা’ ইবনে আব্দিল উযযা ও তার গোত্রের উপর। দুপুরবেলা প্রচ- গরমে যখন মরুভূমির বালুকারাশি দাউদাউ আগুনের ন্যায় জ্বলে উঠত, তখন তারা হযরত খাব্বাব রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে টেনে-হিঁচড়ে সেই উত্তপ্ত মরুভূমিতে নিয়ে আসত। তারপর উনার শরীর মুবারক থেকে কাপড় খুলে লোহার বর্ম পরাতো। প্রচ- গরমে পিপাসায় তিনি কাতর হয়ে পড়তেন, তবুও এক ফোঁটা পানি দেওয়া হতো না। কঠিন পিপাসায় তিনি যখন ছটফট করতে থাকতেন, তখন উনাকে তারা বলতো- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?’ এই কঠিন অবস্থাতেও তিনি বলতেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব এবং উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। কুফরী-শিরকী থেকে হিদায়াত মুবারক উনার দিকে নেওয়ার জন্য তিনি সত্য ও সঠিক দ্বীন সহকারে আমাদের নিকট মহাসম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিয়েছেন।’ সুবহানাল্লাহ!
এরপর আবারও উনাকে তারা যুলুম-নির্যাতন করা শুরু করতো। তারপর জিজ্ঞাসা করতো- ‘লাত ও উযযা সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কি?’ তিনি বলতেন- ‘ক্ষতি বা উপকার করার কোনো ক্ষমতা এই বোবা-বধির মূর্তিদের নেই।’ আবার তারা পাথর আগুনে গরম করে সেই পাথরের উপর উনাকে শুইয়ে দিত। না‘ঊযুবিল্লাহ!
(অপেক্ষায় থাকুন)
-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৬)
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাপবিত্র নাম মুবারক আযানে শুনে অঙ্গুলি চুম্বন করা ও চোখে বুছা দেয়ার সীমাহীন ফযীলত
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৫)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৯)
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করার বেমেছাল ফযীলত মুবারক (২৪)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
আল হাদিয়্যাতুল ইলাহিয়্যাহ ফী সীরাতি হাবীব ওয়া মাহবূবিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (৮)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চার খানা বিশেষ খুছূছিয়ত মুবারক (৩)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিজেদের মতো ‘বাশার’ বা মানুষ বলা কাট্টা কুফরী
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১৯)
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে কতিপয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লফয বা পরিভাষা মুবারক
১৫ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাঝে ফানা ও বাক্বা সারা কায়িনাত (১৮)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












