খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল উমাম,
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার মহামূল্যবান নছীহত মুবারক
(সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ মহাসম্মানিত ১২ই শরীফ)
, ১৫ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ৩০ ছালিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৯ আগস্ট, ২০২৬ খ্রি:, ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৩য় পর্ব)
আর দরুদ শরীফের যে বিষয়টা, এটাতো আমরা সবসময় বলে থাকি, অনেক ফযীলত। চারজন ফেরেশতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছে এসেছিলেন, উনারা চারটা বিষয় আরজু নিয়ে, যে কুরআন শরীফে আল্লাহ পাক নাযিল করেছেন-
وَاللهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَنْ يُرْضُوهُ إِنْ كَانُوا مُؤْمِنِينَ
এখানে যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক তিনি স্পষ্ট্য বলে দিচ্ছেন; ইরশাদ মুবারক করেন, যারা মো’মেন দাবি করে তাদের জন্য দায়িত্ব হচ্ছে, কর্তব্য হচ্ছে, হক হচ্ছে- যিনি খালিক, যিনি মালিক, যিনি রব, মহান আল্লাহ পাক যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট মুবারক করা।
এটার জন্য যখন নাযিল হলো, চারজন ফেরেশতা আসলেন, এসে উনারা চারটা আরজু করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনার কোনো উম্মত যদি প্রতিদিন সকালে এবং সন্ধ্যায় দশবার করে দরুদ শরীফ পাঠ করে। সকালে দশবার সন্ধ্যায় অর্থাৎ রাত্রে দশবার তাহলে কি হবে? হযরত মালাকুল মউত আযরাইল আলাইহিস সালাম বললেন, আমি তার রুহটা এমনভাবে কবজ করবো যেভাবে হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের এই রুহ মুবারক আমি যেভাবে নিয়ে তা’যীমের সাথে নিয়েছি সেইভাবে। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
ইসরাফিল আলাইহিস সালাম বললেন, সকালে এবং সন্ধ্যায় দশবার-দশবার দরুদ শরীফ পাঠ করলে আমি হাশরের দিন ওই বান্দার সমস্ত গুনাহ-খাতা আমি আল্লাহ পাকের কাছে বলে ক্ষমা করিয়ে দিবো। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
হযরত মিকাঈল আলাইহিস সালাম উনি বললেন, হাশরের দিন যখন মানুষ পিপাসিত হবে, পানির জন্য, অস্থির হয়ে যাবে তখন আমি আপনার যে উম্মত দশবার-দশবার দরুদ শরীফ পাঠ করবে আমি তাকে হাউজে কাওছারের পানি পান করাবো। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
আর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, যে উম্মত দশবার-দশবার দরুদ শরীফ পাঠ করবে আমি স্বয়ং নিজে নিজ হাতে তাকে চোখের পলকে পুলছিরাত পার করে জান্নাতে পৌছে দিবো। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
তাহলে একশো বার একশো বার দরুদ শরীফ পাঠ করলে কত ফযীলত? এটা পাঠ করতে হবে। আর মীলাদ শরীফ যা আছে এটাতো আমরা বলে থাকি, প্রত্যেককেই যেন প্রতিদিন কমসে কম যেন একবার মীলাদ শরীফ পাঠ করে আর যদি পারে সম্ভব হয়, পাচ ওয়াক্ত পাচ বার পাঠ করা। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
কারণ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এই ছলাত-ছালাম পেশ করলে যেটা হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হাদীছ শরীফে বলা হচ্ছে-
إِنَّ اللَّهَ فَتَحَ لَكَ أَبْوَابَ الرَّحْمَةِ، وَالْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ لَكَ، مَنْ فَعَلَ فِعْلَكَ نَجَا نَجاتَكَ
বলা হচ্ছে- যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এই বিলাদত শরীফ উপলক্ষ্যে যে বিষয়গুলি আলোচনা করবে; এটা কিন্তু মীলাদ শরীফের তাওয়াল্লুদ শরীফের মধ্যে এটা আছে। তাদের জন্য যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব, মহান আল্লাহ পাক সমস্ত রহমতের দরজাগুলি খুলে দিবেন। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করবেন। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
এবং তাদের নাজাতটা হবে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম যেভাবে নাজাত লাভ করেছেন তারাও ঠিক তদ্রুপ নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!
কাজেই এখন এটা মনে রাখতে হবে, বাদ ইশা-বাদ ফজর একশো-একশো দরুদ শরীফ পাঠ করতে হবে আর প্রত্যেকেরই মীলাদ শরীফ পাঠ করতে হবে। এখানে কোন রোখসতের সুযোগ নাই এটা মনে রাখতে হবে।
৪
আর এরপরে যেটা সুন্নত মুবারক, এটাতো আমরা সবসময় বলেই থাকি, যে আমাদের এখানে আমরা আন্তর্জাতিক সুন্নত মুবারক প্রচার কেন্দ্র করেছি, এটা আলোচনা হয়েছে অনেক। এখন এই সুন্নত মুবারক ইত্তেবা করা ছাড়া তো কোন ব্যবস্থা নাই। যেটা আমি বলে থাকি- যে, কালিমা শরীফ দুইভাগে বিভক্ত। প্রথম হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, এরপর হচ্ছে মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এখন যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার যে বিষয়টা; এটা হইলো ইলমে তাসাউফের যিকির-ফিকির করলে সমস্ত শরীরে যিকির জারী করলে তাইলে যিনি খালিক, যিনি মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার স্বরণটা দায়েমী হবে।
এখন মুখ দিয়া শুধু যিকির করলে এটা কতক্ষণ? সজাগ থাকবে যতক্ষণ বা অবসর থাকবে। মানুষের সাথে কথা-বার্তা বললে সে তো যিকির করতে পারবে না। ঘুমিয়ে থাকলে পারবে না, খাওয়ার সময় পারে না, অযূ-ইস্তেঞ্জার সময় পারে না। কিন্তু যখন যিকিরটা জারি হয়ে যাবে সমস্ত শরীরের মধ্যে, তখন ২৪ ঘন্টাই তার যিকিরটা চলতে থাকবে সুবহানাল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকুন)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিজাতীয় বিধর্মী তথা ইহুদী-নাছারাদেরকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে হারাম-নাজায়িয
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৯তম পর্ব)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-২)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৩)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-১)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












