ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৭০)
, ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যখন হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদের কাছে আসলেন। তারা বলল, হে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনারা অর্থাৎ আপনার পিতা এবং অন্যান্য যারা সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছে তারাই আইন করে থাকে, আবার তারাই অর্থাৎ আপনারাই ভঙ্গ করে থাকেন। আইন করা হলো, কোন ব্যক্তি যদি হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, তা’যীম-তাকরীম করে তাহলে তার একমাত্র শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদন্ড। আপনি তো সেটা করেছেন। এখন আপনি আবূ জাহিলের ছেলে, এখন আপনার কি ফায়ছালা হবে?
হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, ঠিক আছে, তোমাদের যে আইন করা হয়েছে মৃত্যুদন্ড, তাহলে সেটা আমাকে দিতে পার, কোন অসুবিধা নেই। যেহেতু আইন ভঙ্গ করা হয়েছে, তাহলে আইন ভঙ্গ করার যে শাস্তি সেটা দিতে পার তোমরা। তারা সেটা আলোচনা করল। যেহেতু হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদের অর্থাৎ কুরাইশদের আইন ভঙ্গ করেছেন, উনার শাস্তি হচ্ছে একমাত্র মৃত্যুদন্ড।
এখন সেই মৃত্যুদন্ড কিভাবে দেয়া যেতে পারে? উনাকে সরাসরি কতল না করে তারা বললো যে, নতুন পদ্ধতিতে আপনাকে শাস্তি দেয়া হবে। সেটা কি? তারা সকলে মিলে পরামর্শ করলো যে, হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর হাত-পা বেঁধে শক্ত করে উঁচু পাহাড় থেকে মাটিতে নিক্ষেপ করা হবে বা ছেড়ে দেয়া হবে। তিনি নিচে পড়ে হাড়গোড় ভেঙ্গে মারা যাবেন। সেটা সিদ্ধান্ত নেয়া হল। সেই সিদ্ধান্ত মুতাবিক তাই করা হলো। হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-এর হাত-পা বেঁধে শক্ত করে উঁচু পাহাড় থেকে নিচে ফেলে দেয়া হলো।
কিন্তু মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত বুঝা মুশকিল।
فِعْلُ الْحَكِيمِ لَا يَخْلُو عَنِ الْحِكْمَةِ
মহান আল্লাহ পাক উনার কোন কাজ হিকমত থেকে খালি নয়।
দেখা গেল, হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উপর থেকে ঠিকই পড়তেছিলেন। যখন মাটির কাছাকাছি এসে গেলেন মনে হলো, উনাকে কেউ আস্তে করে মাটিতে বসিয়ে দিলেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উনার কিছুই হলো না, তিনি সুস্থ শরীরে থাকলেন, বহাল তবীয়তে বসে রইলেন। কুরাইশরা দৌড়ে আসল। তারা তো মনে করেছিল যে, তিনি হাড়গোড় ভেঙে মাথা ফেটে একাকার হয়ে ইন্তিকাল করবেন। কিন্তু দেখা গেল বিপরীত, তিনি বহাল তবীয়তে সুস্থ শরীরে বসে রয়েছেন। তারা দেখে তায়াজ্জুব হলো যে, ব্যাপারটা কি হল!
তাহলে আরো নতুন পদ্ধতিতে আপনাকে শাস্তি দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। কি নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে? সকলে মিলে চিন্তা-ফিকির করে বলল যে, এক কাজ করা যেতে পারে, উনাকে গভীর জঙ্গলে ফেলে দেয়া যেতে পারে বা ফেলে আসা যেতে পারে। হাত-পা বেঁধে, সেখানে বাঘ, ভল্লুক, সিংহ যা রয়েছে হিংস্র প্রাণী তারা উনাকে খেয়ে ফেলবে। সেটা তারা চিন্তা-ভাবনা করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাত-পা বেঁধে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুকে গভীর জঙ্গলে ফেলে আসল।
কিন্তু দেখা গেল, কিছুক্ষণ পর সেই জঙ্গলের হিংস্র প্রাণীগুলো উনার বাঁধন কেটে তারা স্বয়ং নিজেরা মিলে উনাকে মাথায় করে তা’যীম-তাকরীমের সহিত জঙ্গলের কিনারে রেখে তারা চলে গেল। সুবহানাল্লাহ! এটা দেখে কুরাইশ কাফিররা দৌড়ে আসল, ব্যাপারটা কি হল? জঙ্গলের প্রাণী উনাকে খেল না কেন? তারা তায়াজ্জুব হলো, আশ্চর্য হলো।
তারা বলল, তাহলে উনাকে আরো নতুন পদ্ধতিতে শাস্তি দেয়া যেতে পারে। তখন সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিল, উনার হাত-পা বেঁধে গভীর সমুদ্রে ফেলে দেয়া হবে। সেখানে পানিতে তিনি হাবুডুবু খেয়ে মারা যাবেন।
আর সেই পানির নিচে যে হিংস্র প্রাণী রয়েছে সেগুলো উনাকে খেয়ে ফেলবে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাই করা হলো, গভীর সমুদ্রে ফেলা হলো। এখানেও মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত বুঝা মুশকিল। দেখা গেল, সত্যিই সেই পানির প্রাণীগুলো উনাকে উনার বাঁধন কেটে তা’যীম-তাকরীমের সহিত মাথায় করে সেই সমুদ্রের কিনারায় রেখে তারা চলে গেল। সুবহানাল্লাহ!
একে একে তিনটা ঘটনা ঘটে গেল। কুরাইশরা তায়াজ্জুব হয়ে গেল, ব্যাপারটা কি? যেখানে উপর থেকে মানুষ নিচে পড়লে, অল্প নিচে পড়লেই মারা যায়, হাত-পা ভেঙ্গে যায়, উনার কিছুই হল না। বনের হিংস্র প্রাণীগুলো উনাকে খেল না। পানিতে তিনি ডুবে মারা গেলেন না অথবা পানির হিংস্র প্রাণীগুলো উনাকে খেলো না। তার কি কারণ?
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৩)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-১)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পবিত্রতা সম্পর্কিত মাসয়ালা-মাসায়িল (১০)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিধর্মী-অমুসলিমরা কখনো মুসলমানদের ভাই/বন্ধু নয়, বরং তারা মুসলমানদের চির শত্রু (২য় পর্ব)
০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (১)
০৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












