ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা বেমেছাল মর্যাদার অধিকারী (৮৩)
, ২৩ শাবান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১৪ তাসি, ১৩৯৩ শামসী সন , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রি:, ২৯ মাঘ, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَللهُ الصَّمَدُ
মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কিছু থেকে বেনিয়াজ। মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি একমাত্র যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ছাড়া সমস্ত কিছু থেকে বেনিয়াজ। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আর হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা একমাত্র যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং যিনি মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অর্থাৎ উনারা ছাড়া সবকিছু থেকে বেনিয়াজ। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! তাহলে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক মানুষ কি বর্ণনা করবে, কতটুকু উপলদ্ধি করবে। বান্দার বিন্দু থেকে বিন্দুমাত্রও জানা নেই। অর্থাৎ এরা গ-মূর্খ হওয়ার কারণে চু-চেরা, কীল-কাল করে। মূর্খ লোক চু-চেরা, কীল-কাল করে, না জানার কারণে। এই বিষয়টা হচ্ছে এরকমই। উনাদের শান-মান মানুষ উপলদ্ধি করতে পারে না, যার জন্য চু-চেরা, কীল-কাল করে। নাউযুবিল্লাহ!
মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যত ছিফত মুবারকে, যত গুণে গুনাম্বিত সে সমস্ত গুণে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারাও গুনাম্বিত। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কাজেই উনাদের বিষয়গুলি উপলদ্ধি করতে হবে। উনাদের সম্মানার্থে উম্মত অনেক নিয়ামত মুবারক হাছিল করেছে, করছে এবং অনন্তকাল ধরে করতেই থাকবে। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কাজেই এগুলি উপলদ্ধি করতে হবে। আমরা সামনেও আলোচনা করবো। উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফের অনেক স্থানে বর্ণনা করা হয়েছে, পবিত্র হাদীছ শরীফের অসংখ্য স্থানে উনাদের শান-মান মুবারক ইরশাদ মুবারক হয়েছে, যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা সাধারণভাবে মহাসম্মানিত একখানা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ اَنَّهٗ قَالَ وَهُوَ آخِذٌ بِبَابِ الْكَعْبَةِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ أَلاَ إِنَّ مَثَلَ أَهْلِ بَيْتِي فِيكُمْ مَثَلُ سَفِينَةِ نُوحٍ عليه السلام، مَنْ رَكِبَهَا نَجَا، وَمَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا هَلَكَ"
হযরত আবূ গিফারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি পবিত্র কা’বা শরীফ উনার দরজা মুবারক ধরে বললেন, আমি শুনেছি। মহাসম্মানিত হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, কি বলেছেন?
أَلاَ إِنَّ مَثَلَ أَهْلِ بَيْتِي فِيكُمْ
সাবধান হয়ে যাও! তোমরা সৃষ্টির সকলেই! আমার আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মেছাল হচ্ছেন তোমাদের কাছে
مَثَلُ سَفِينَةِ نُوحٍ عليه السلام، مَنْ رَكِبَهَا نَجَا، وَمَنْ تَخَلَّفَ عَنْهَا هَلَكَ.
হযরত নূহ আলাইহিস সালাম উনার কিস্তির অনুরূপ। যারা সেই কিস্তিতে উঠেছিলেন তারা নাজাত পেয়েছেন। ঠিক যারা, উম্মতরা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মহব্বত মুবারক করতে পারবে তারাই নাজাত পাবে, এছাড়া অন্য কেউ নাজাত পাবে না। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বিষয়গুলো ফিকির করতে হবে। উনাদের শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক বেমেছাল। ভাষা দিয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না। যতটুকু কালামুল্লাহ শরীফ, সুন্নাহ শরীফে বর্ণনা রয়েছে সেটাই বলা যাবে, এর চেয়ে বেশি বলা সম্ভব না। তবে উনাদের শান-মান এর চাইতেও লক্ষ কোটি গুণ বেশি। সুবহানাল্লাহি ওয়া রসূলিহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
যিনি খ্বালিক যিনি মালিক যিনি রব মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন দুনিয়ার সমস্ত লোকদেরকে হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের শান-মান উপলদ্ধি করার এবং উনাদেরকে মুহব্বত মুবারক করে অনন্তকাল উনাদের গোলামী করার যেন তাওফীক্ব দান করেন। আমীন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযাদারের জন্য তিনটি বিশেষ ফযীলত
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (২)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার বিশেষ তিনটি পবিত্রতা এই মাসের সম্মানার্থে-
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১০)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












