সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (২)
, ১৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
হযরত বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হাদীছটি ছহীহ
كان الصدقة تعطى على عهد رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وأبي بكر وعمر نصف صاع من حنطة.
অর্থ: হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যামানায় এবং আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম, খলীফাতুল মুসলিমীন, ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাদের শাসনামলে ছদক্বাতুল ফিতর দেওয়া হতো আধা সা গম। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০)
আল্লামা ইবনে আবদুল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেছেন, এটি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে ছিকা রাবীগণ বর্ণনা করেছেন। হাদীছটির সকল রাবী ছিকা ও নির্ভরযোগ্য।
সালাফী লা’মাযহাবীরাদের ১ম আপত্তি: অর্ধ সা’ গম বা আটা দিয়ে ফিতরার কোনো দলীল নেই।
হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের আমল:
হযরত আবু কিলাবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, স্বয়ং ঐ ব্যক্তি আমাকে বলেছেন, যিনি আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট এক সা’ গম দ্বারা দুই ব্যক্তির ছদক্বাতুল ফিতর আদায় করেছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০০; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৩/৩১৬)
অন্য বর্ণনায় এসেছে-
كنا نخرج زكاة الفطر على عهد عمر بن الخطاب عليه السلام نصف صاع.
অর্থ: হযরত ছালাবা ইবনে আবু সুআইব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার খেলাফত আমলে ছদক্বাতুল ফিতর দিতাম আধা সা’ গম। (শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫০; শরহু মুশকিলুল আছার ৯/৩৯)
أدوا زكاة الفطر مدين من حنطة.
অর্থ: হযরত আবুল আশআছ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। ঐ খুতবায় তিনি বলেছেন, তোমরা যাকাতুল ফিতর আদায় করো দুই মুদ (আধা সা’) গম। (শরহু মুশকিলিল আছার ৯/৩৯)
হযরত আল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ ছহীহ ও শক্তিশালী। এই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ ইমাম হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার শর্তে উত্তীর্ণ।
হযরত তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের আমল:
হযরত ইমাম শুবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত হাকাম ও হাম্মাদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদেরকে ছদক্বাতুল ফিতরের পরিমাণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। উত্তরে উনারা বলেছেন,نصف صاع حنطة আধা সা’ গম। ইমাম হযরত শুবা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত আবদুর রহমান ইবনুল কাসেম রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত সাআদ ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদেরকেও এ প্রশ্ন করেছি, فقالا مثل ذلك উনারাও একই কথা বলেছেন। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০৩; শরহু মাআনিল আছার ১/৩৫১)
عن الصغير والكبير، والحر والعبد، عن كل إنسان نصف صاع من قمح.
হযরত ইবরাহীম নাখাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছোট-বড়, গোলাম-স্বাধীন প্রত্যেকের পক্ষ থেকে প্রদেয় হচ্ছে আধা সা’ গম। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০১)
হযরত আবু হাবীব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে ছদক্বাতুল ফিতর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। উত্তরে তিনি বলেছেন-نصف صاع من حنطة أو دقيق ن আধা সা’ গম বা আটা। (মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৬/৫০৩)
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের বক্তব্য:
ইমাম হযরত ত্বহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি আধা সা’ গম সম্পর্কে অনেকগুলো পবিত্র হাদীছ ও আছার শরীফ রেওয়ায়েত করার পর বলেন-
هذا كل هذا كل ما روينا في هذا الباب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وعن أصحابه من بعده وعن تابعيهم من بعدهم كلها على أن صدقة الفطر من الحنطة نصف صاع ومما سوى الحنطة صاع، وما علمنا أن أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ولا من التابعين روي عنه خلاف ذلك، فلا ينبغي لأحد أن يخالف ذلك، إذ كان قد صار إجماعا في زمن أبي بكر وعمر وعثمان وعلي إلى زمن من ذكرنا من التابعين.
অর্থ: এ পরিচ্ছেদে আমি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে, তারপর হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদের থেকে এবং উনাদের পর হযরত তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের থেকে যেসব রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছি, তা প্রমাণ করে যে, ছদক্বাতুল ফিতরের পরিমাণ হলো গম থেকে আধা সা’ আর গম ছাড়া অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী থেকে এক সা’। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কোনো ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও কোনো তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত আছে বলে আমাদের জানা নেই। সুতরাং এর বিরোধিতা করার অবকাশ কারো নেই। কারণ তা ছিলো ইজমায়ী ও সর্বসম্মত বিষয়, আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, হযরত ছিদ্দীকে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি, খলীফাতুল মুসলিমীন, হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি ও আমীরুল মু’মিনীন হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনাদের যামানা থেকে উপরোক্ত হযরত তাবেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের যামানা পর্যন্ত। (উমদাতুল ক্বারী শরহে সহীহুল বুখারী ১৪/১৬২) (চলবে....)
-খাজা মুহম্মদ নূরউদ্দীন পলাশ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযাদারের জন্য তিনটি বিশেষ ফযীলত
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার বিশেষ তিনটি পবিত্রতা এই মাসের সম্মানার্থে-
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১০)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












