পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (১০)
, ১৮ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৮ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৮ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মলমের বর্ণনা:
সবশেষে আমরা বলতে পারি- Untill recently, dermal application of drugs was intended for local effects only. As transport of substances through skin is better understood, however lipophillic drugs that are reasonably potent are being incorporated into transdermal dosage forms with the intent of establishing therapentic blood levels of drug.
অর্থাৎ এখন পর্যন্ত ত্বকের উপর ওষুধ প্রয়োগ করা হয় স্থানিক প্রভাব পাওয়ার জন্য। যেহেতু ত্বকের মধ্য দিয়ে ওষুধের প্রবেশের ঘটনা ভালভাবে জানা হয়েছে, সেহেতু তৈলাসক্ত এবং উপযুক্তভাবে সক্রিয় ওষুধসমূহ ত্বকের উপর এ কারণেই প্রয়োগ করা হয়, যাতে রক্তে ওষুধের প্রয়োজনীয় মাত্রা পাওয়া যায়।
আমরা জানি রোযা রেখে গোসল করলে অথবা শরীরে তেল মালিশ করলে রোযা ভাঙ্গে না। সুতরাং শরীরে প্রবেশ করতে পারে এমন কোন তৈলাক্ত উপাদান যেমন পেট্রোলিয়াম জেলি, কোল্ড ক্রীম, ভেনিশিং ক্রীম ইত্যাদি ব্যবহারেও রোযা ভাঙ্গবে না। যেহেতু এগুলোর সঙ্গে কোন ওষুধ মিশ্রিত থাকে না। কিন্তু যদি উপরোক্ত তৈলাক্ত উপাদানসমূহে (ক্রীম বা অয়েন্টমেন্ট নির্ভর) ওষুধ থাকে, বিশেষতঃ যেগুলো তৈলাসক্ত এবং যা ষ্ট্রেটাম করনিয়াম ভেদ করবে জানা যায়, তবে রোযা ভঙ্গ হবে।
উপরোক্ত চিকিৎসা বিজ্ঞানের বক্তব্য দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হলো যে, ওষুধ ইত্যাদি (যেমন মলম, মালিশ ইত্যাদি) লোমকূপ দ্বারা ঘামের রন্ধ্র দ্বারা বা অন্যান্য যখম দ্বারা ভিতরে প্রবেশ করে থাকে। সুতরাং মলম ইত্যাদি লাগালে যদি জানা যায়, তা রক্তে শোষণ ঘটেছে এবং মগজে বা পেটে পৌঁছেছে, তবে রোযা ভঙ্গ হবে।
সুতরাং যেকোন স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন যদি তা মগজ অথবা পেটে পৌঁছে, তবে সকলের মতেই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। তাছাড়া এ মতের স্বপক্ষে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনারও সমর্থন পাওয়া যায়।
যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اُمِّ الْمـُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ الصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ دَخَلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ هَلْ مِنْ كِسْرَةٍ؟ فَأَتَيْتُهٗ بِقُرْصٍ فَوَضَعَهٗ عَلٰى فِيْهِ قَالَ يَا عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ هَلْ دَخَلَ بَطْنِيْ مِنْهُ شَيْءٌ؟ كَذٰلِكَ قُبْلَةُ الصَّائِمِ اِنَّـمَا الْاِفْطَارُ مِـمَّا دَخَلَ وَلَيْسَ مِـمَّا خَرَجَ.
অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার নিকট আসলেন এবং বললেন, আপনার নিকট কোন কাঠের টুকরা তথা মিসওয়াক আছে। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি একটি ছোট মিসওয়াক নিয়ে আসলেন এবং তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মুখ মুবারকে দিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহাস সালাম! এর কোন অংশ আমার জিসিম মুবারক-এ প্রবেশ করেছে কি? এটা তো রোযাদারের জন্য বুছা দেয়ার মতো। নিশ্চয়ই রোযা ভঙ্গ হবে শরীরের ভিতর কিছু প্রবেশ করলে, বের হলে নয়।” (আহমদ ইবনে মানী, আবূ ইয়ালা শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ الله بْنِ مَسْعُوْدٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ مِنْ قَوْلِهٖ اِنَّـمَا الْوُضُوْءُ مِـمَّا خَرَجَ وَلَيْسَ مِـمَّا دَخَلَ وَالْفَطْرُ فِى الصَّوْمِ مِـمَّا دَخَلَ وَلَيْسَ مِـمَّا خَرَجَ.
অর্থ: “হযরত ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে- ওযূর ব্যাপারে নিয়ম হলো- শরীর হতে কিছু বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে, প্রবেশ করলে ভঙ্গ হবে না। আর রোযার ব্যাপারে নিয়ম হলো- শরীরের ভিতর কিছু প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে, বের হলে নয়।” (বায়হাক্বী শরীফ, ত্ববারানী শরীফ, মুওয়াত্বা মালিক শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَاسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰـى عَنْهُ اَلْفَطْرُ مِـمَّا دَخَلَ وَالْوُضُوءُ مِـمَّا خَرَجَ.
অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন, কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে, বের হলে রোযা ভঙ্গ হবে না। শরীর হতে কিছু বের হলে ওযূ ভঙ্গ হবে, প্রবেশ করলে ভঙ্গ হবে না।” (ত্ববারানী শরীফ, আবূ শায়বা শরীফ)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, শরীরের ভিতর কোন কিছু প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে মূল রাস্তাকে শর্ত করা হয়নি। তবে সর্বক্ষেত্রেই ভিতরে কিছু প্রবেশ করালে রোযা ভঙ্গ হয় এবং বের হলে রোযা ভঙ্গ হবে না তা নয়- যেমন সাপে কাটলে রোযা ভঙ্গ হয় না। অথচ সাপের বিষ ভিতরে প্রবেশ করে থাকে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যায় অথচ ওটা বের হয়ে থাকে। অনুরূপ শরীর হতে রক্ত বের হলে বা বের করা হলেও রোযা ভঙ্গ হয় না।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র নামাযের আহকাম সম্পর্কিত মাসয়ালা :
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
রোযাদারের জন্য তিনটি বিশেষ ফযীলত
০৯ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (২)
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস উনার বিশেষ তিনটি পবিত্রতা এই মাসের সম্মানার্থে-
০৮ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে- ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১২)
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
পর্দা পালন করা নারী-পুরুষ সকলের জন্যই শান্তি ও পবিত্রতা হাছিলের কারণ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৭ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সম্মানিত হানাফী মাযহাবে ছদক্বাতুল ফিতর উনার অকাট্য দলীল (১)
০৬ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার)












