ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
ইসলামী আক্বীদার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও আহকাম (৫৬)
, ২৬ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৫ হিজরী সন, ০৫ ছানী, ১৩৯২ শামসী সন , ০৩ জুলাই, ২০২৪ খ্রি:, ১৯ আষাঢ়, ১৪৩১ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
কারো কবরে কিন্তু কেউ যাবে না এটা মনে রাখবেন। যার যার কবরে তাকে যেতে হবে।
হযরত উছমান যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি যখন কোন কবর দেখতেন কাঁদতে কাঁদতে উনার দাড়ী মুবারক ভিজে যেতো। উনাকে জিজ্ঞাসা করা হতো, হে হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম! আপনি হাশর-নশর সবই শুনেন তখনতো আপনি কাঁদেন না? তাহলে কবরের কথা শুনলে, কবর দেখলে কেন আপনি কাঁদেন?
তিনি বললেন যে, দেখ বাবা! কবর হচ্ছে প্রথম মনযিল। কবর হচ্ছে প্রথম মনযিল, এখানে যে পাকড়াও হবে, সব জায়গায় সে পাকড়াও হবে। আর এখানে যে নাজাত পাবে, সে সব জায়গায় নাজাত পাবে।
কাজেই এক হচ্ছে কবর প্রথম মনযিল। দ্বিতীয় হচ্ছে এখানে একা একা থাকতে হবে, নিরিবিলি থাকতে হবে এখানে কেউ থাকবে না সঙ্গী-সাথী। হাশরের ময়দানে তো লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি লোক থাকবে। এখানে একা একা থাকতে হবে, কেউ কারো কবরে যাবে না।
কাজেই সে যদি ভালো কাজ করে তাহলে তার ভালো ফায়সালা হবে, মহান আল্লাহ পাক না করুন সে যদি হারামকে-হালাল ফতওয়া দিয়ে থাকে তাহলে তার জাহান্নাম ছাড়া কোন গতি থাকবে না। খুব ফিকির করতে হবে। নিজের আমল-আক্বীদা শুদ্ধ করতে হবে। আক্বীদা শুদ্ধ করলেই আমলটা শুদ্ধ হয়ে যাবে ইচ্ছায় অনিচ্ছায়। প্রথম হচ্ছে আক্বীদা শুদ্ধ করা এটা মনে রাখতে হবে। যত প্রকার কুফরী রয়েছে, হারাম রয়েছে এটাকে হারাম জানতে হবে। হারামকে হারাম জেনে থাকতে হবে। এখন কেউ যদি হারাম কাজ, হারাম জেনে করে, সে ফাসিক ঈমানদার। কিন্তু হালাল মনে করলে, সে কিন্তু কাফির হয়ে যাবে।
এটা কিন্তু খুব ফিকির করতে হবে, চিন্তা করতে হবে। যার জন্য আমরা জোড় দিয়ে থাকি। আক্বীদা বিশুদ্ধ করা ফরয-ওয়াজিব। এটা পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কথা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার কথা। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ
যারা ঈমান এনেছে আমলে ছলেহ করেছে। তারা ব্যাতীত যারা ঈমান এনেছে, আমলে ছলেহ করেছে। অর্থাৎ ঈমান ব্যতীত আমলে ছলেহ সেটা হবে না।
গিরিশ চন্দ্র পবিত্র কুরআন শরীফ উনার অনুবাদ করেছে সেটা আমলে ছলেহ হয়নি। সেতো ঈমান আনতে পারেনি।
কাজেই এটা খুব ফিকির করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আমরা দোয়া করবো যাতে তিনি আমাদের ঈমান, আমল বিশুদ্ধ করে দেন। এসব উলামায়ে ‘সূ’, বিভ্রান্ত শাসক এদের ওয়াসওয়াসার কারণে যেনো ঈমান নষ্ট না হয়। যেটা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে তিন প্রকার লোক পবিত্র ইসলাম উনার ক্ষতি করবে। এক নাম্বার-
زَلَّةُ العَالِمِ،
উলামায়ে সূ। দু’নাম্বার
وَجِدَالُ المُنَافِقِ بِالكِتَابِ،
মুনাফিক। পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে যারা চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করে। আর তিন নাম্বার-
وَحُكْمُ الأَئِمَّةِ المُضِلِّيْنَ
বিভ্রান্ত শাসকের বিভ্রান্তিমূলক আদেশ-নির্দেশ। যেমন ছবি তুলতেই হবে। নাউযূবিল্লাহ! সে বিভ্রান্তিমূলক একটা আদেশ করে মানুষদেরকে হারাম কাজে মশগুল করে দিলো। নাউযূবিল্লাহ! কাজেই বিভ্রান্ত শাসকের আদেশ নির্দেশ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার ক্ষতি করবে। এর থেকে মুসলমানদের সাবধান থাকতে হবে। ঈমানী কুওওয়াতকে দৃঢ় রাখতে হবে মজবুত থাকতে হবে।
এজন্য প্রত্যেকের যিকির-ফিকির সবক ঠিকমত করতে হবে। ক্বলবী যিকির করতে হবে। ঈমানী কুওওয়াত বৃদ্ধি করতে হবে। ঈমানী কুওওয়াত বৃদ্ধি হলে তখন আক্বীদা শুদ্ধ রাখতে পারবে। ঈমানী কুওয়াত বৃদ্ধি না হলে কস্মিনকালেও আক্বীদা শুদ্ধ রাখতে পারবে না।
এই উলামায়ে ‘সূ’ আর বিভ্রান্ত শাসক আর মুনাফিকরা যা বলবে সেটা কখনোই করা যাবে না। তাদের ব্যাপারে খুব সাবধান থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেনো আমাদেরকে হক্বের উপর ইস্তিকামাত থাকার তাওফীক্ব দান করেন।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যাকাত সম্পর্কিত আহকাম, মাসায়িল ও ফাযায়িল (১৪)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
যে নিজে পর্দা করে না ও অধীনস্থদের পর্দা করায় না সে দাইয়ূছ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৮)
০৫ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












