পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে রোযা অবস্থায়- ইনজেকশন, ইনহেলার, স্যালাইন ও টিকা নেয়া অবশ্যই রোযা ভঙ্গের কারণ (৭)
, ১৩ রমাদ্বান শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৪ আশির, ১৩৯৩ শামসী সন , ০৪ মার্চ, ২০২৬ খ্রি:, ১৯ ফাল্গুন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এ পর্যন্ত আলোচনায় তাহলে আমরা যে ধারণা পেলাম তা হচ্ছে-
১. ইনজেকশন কত প্রকার এবং কত রকম পদ্ধতিতে দেয়া হয়।
২. তা কিভাবে রক্ত স্রোতের মাধ্যমে শরীরের সর্বাংশে ছড়ায়।
৩. বিশেষত মগজের অভ্যন্তরে কি করে ইনজেকশনের পর ওষুধ প্রবেশ করে।
এতক্ষণের আলোচনায় এটাই দেখা যাচ্ছে যে, যত প্রকারের ইনজেকশন হোক না কেন, তা এক সময় রক্ত স্রোতে মিশবে এবং মগজে পৌঁছে যাবে।
অতএব চিকিৎসা বিজ্ঞানের তথ্যবহুল আলোচনা দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হলো যে, ইনজেকশন ইত্যাদি মগজে পৌঁছে। সুতরাং রোযা অবস্থায় ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। কারণ, ফিক্বাহের কিতাবে উল্লেখ রয়েছে যে-
وَمَا وَصَلَ اِلَى الْـجَوْفِ اَوْ اِلَى الدِّمَاغِ مِنْ مَّـخَارَقَةِ الْاَصْلِيَّةِ كَالْاَنْفِ وَالْاُذْنِ وَالدُّبُرِ....... فَسَدَ صَوْمَهٗ
অর্থ: “যা নাক, কান, ইস্তেঞ্জার রাস্তা ইত্যাদি দ্বারা মগজ অথবা পেটে পৌঁছবে, তাতে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।” (বাদায়েউছ ছনায়ে)
এ প্রসঙ্গে কিতাবে আরো উল্লেখ করা হয়-
وَمَا وَصَلَ اِلَى جَوْفِ الرَّأْسِ وَالْبَطْنِ مِنَ الْاُذْنِ وَالْاَنْفِ وَالدُّبُرِ فَهُوَ مُفْطِرٌ بِالْاِجْـمَاعِ.
অর্থ: “কান, নাক ও ইস্তেঞ্জার রাস্তা দিয়ে ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছা সকলের নিকটেই রোযা ভঙ্গের কারণ।” (খুলাছাতুল ফতওয়া, হিদায়া, আইনুল হিদায়া, মাবসূত, বাহ্রুর রায়িক, রদ্দুল মুহ্তার)
উপরোক্ত কিতাবসমূহে যদিও ওষুধ ইত্যাদি মূল রাস্তা অর্থাৎ নাক, কান, মুখ ইত্যাদি দিয়ে মগজ অথবা পেটে পৌঁছার কথা বলা হয়েছে কিন্তু ইমামগণের নিকট মূল রাস্তা শর্ত নয়, যেমন এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ আছে যে-
وَاَبُوْ حَنِيْفَةَ رَحِـمَهُ اللهُ تَعَالٰى يَقُوْلُ اَلْـمُفْسِدُ لِلصَّوْمِ وُصُوْلُ الْـمُفْطِرِ اِلٰى بَاطِنِهٖ فَالْعِبْرَةُ لِلْوَاصِلِ لَا لِلْمَسْلَكِ.
অর্থ: “হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রোযা ভঙ্গের কারণ হলো- রোযা ভঙ্গকারী কোন কিছু ভিতরে প্রবেশ করা। সুতরাং পৌঁছাটাই গ্রহণযোগ্য, মূল রাস্তা নয়।” (মাবসূত লিস সারাখসী)
আর ‘ফতহুল ক্বাদীর’ ২য় খ- ২৬৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-
وَاَبُوْ حَنِيْفَةَ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ يُعْتَبَرُ الْوُصُوْلُ.
অর্থ: “হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট পৌঁছাটাই গ্রহণযোগ্য।”
অতএব, মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করুক অথবা মূল রাস্তা ব্যতীত অন্য কোন স্থান দিয়েই প্রবেশ করুক না কেন, যদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছে, তবে অবশ্যই রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে।
[বিশেষ দ্রষ্টব্য: ওষুধ ইত্যাদি মূল রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করা ও মূল রাস্তা ব্যতীত অন্য কোন রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা সম্মুখে আসছে]
উপরোক্ত বক্তব্য দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, রোযা ভঙ্গকারী কোন কিছু যেমন ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছালে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ফিক্বাহবিদগণের নিকট রোযা ভঙ্গ হওয়ার জন্যে ওষুধ ইত্যাদি মগজ অথবা পেটে পৌঁছা শর্ত।
আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের বক্তব্যের দ্বারা যেহেতু স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে যে, ইনজেকশন মগজে পৌঁছে যায়, সেহেতু ইনজেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে। অতএব ইমদাদুল ফতওয়ায় যেটা বলা হয়েছে অর্থাৎ ইনজেকশন মগজে পৌঁছে না সেটা সম্পূর্ণই ভুল।
ইমদাদুল ফতওয়ায় দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে যে, “ইনজেকশনের দ্বারা ওষুধ ইত্যাদি শিরার ভিতর পৌঁছানো হয় এবং শারাঈন (অর্থাৎ যে রগ দিয়ে রক্ত চলাচল করে) ও আভেরদা (অর্থাৎ যে রগ দিয়ে রক্ত চলাচল করে না) এর ভিতর দিয়ে গিয়ে রক্তের সাথে মিশে যায়। মগজ অথবা পেটে ওষুধ প্রবেশ করে না।
সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার আলোকে খন্ডনমূলক জাওয়াব:
ইমদাদুল ফতওয়ার উপরোক্ত বক্তব্যটিও ভুল, কারণ এখানে রগ বলতে কি বুঝিয়েছে তা অস্পষ্ট। কেননা চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় রগ বলতে যেখানে যেটি প্রযোজ্য, সুনির্দিষ্টভাবে সেটাকেই বোঝানো হয়ে থাকে।
যদি ইন্ট্রাভেনাস (Intravenous) ইনজেকশনের কথা ধরা হয়, তবে সেক্ষেত্রে শিরা হলো রগ। তাহলে এমন কোন শিরা পাওয়া যাবে না, যার মাধ্যমে রক্ত চলাচল করে না। এখন তাহলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রগ সম্পর্কে একটু আলোচনা করা যাক।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রগের বর্ণনা:
বলা হয়ে থাকে, রগে টান পড়া, রগ কেটে দেয়া, রগ ফুলে যাওয়া, রগ ছিড়ে যাওয়া, রগ টনটন করা, রগ দপদপ করা। এক্ষেত্রে সব রগ এক নয়। কোনটি শিরা (vein), কোনটা ধমনী (aretery), কোনটা বা টেনডন (Tendon) কিন্তু আমরা সবগুলোকেই রগ বলছি। এভাবে রগ ১০ প্রকার।
১. ধমনী (Aretery): এটা এক প্রকার রক্তনালী যা সাধারণতঃ পরিশোধিত রক্ত বহন করে।
২. শিরা (Vein): দূষিত রক্ত বহনকারী রক্তনালী।
৩. লসিকা নালী (Lymph Vessel): লসিকা (Lymph) বহনকারী নালী, লসিকা মানবদেহের জন্য রক্তের মতই একটি অতীব প্রয়োজনীয় দুধের মত সাদা পানীয় পদার্থ। লসিকা নালী লসিকা তন্ত্র (Lymph System)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই লসিকা তন্ত্রের প্রধান প্রধান কাজ হলো-
(ক) শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে ফ্যাট এবং বড় আকৃতির প্রোটিন কতা মিশ্রিত বিশেষ পানীয় পদার্থ অর্থাৎ লসিকা হৃদপিন্ডের দিকে বহন করা।
(খ) রোগ প্রতিরোধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করা।
৪. পেশী (Muscle): এক প্রকার সংযোগ কলা যা মানুষের অস্থিসমূহকে আবৃত করে রাখে এবং মানব দেহকে সুন্দর আকৃতি দানে সহায়তা করে। অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ চলাচলে মূল ভূমিকা পালন করে এই পেশী। বিভিন্ন প্রকার রক্তনালী, লসিকা নালী ও লসিকা গ্রন্থি, স্নায়ু ইত্যাদি পেশীর মধ্য দিয়ে অতিক্রমকালে তাদের স্ব স্ব কাজ সম্পাদন করে। গোশ্তপেশীর অভ্যন্তরভাগ ফাঁপা নয়।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মসজিদে ইবাদত করতে বাধা দেয়া বা মসজিদ উচ্ছেদ করা কুফরী
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র সূরা দুখান শরীফে বর্ণিত লাইলাতুম মুবারকাই হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত; যে রাত্রি মুবারকে সমস্ত প্রজ্ঞাময় বিষয়সমূহের ফায়ছালা করা হয় (৬)
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৪ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা অবশ্যই সত্যের মাপকাঠি; অস্বীকারকারীরা কাট্টা কাফির (১২)
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
শরীয়ত বিরোধী কাজ দেখলেই বাধা দেয়া ঈমানের আলামত
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী তাহযীব-তামাদ্দুন উনার অপরিহার্য অংশ- ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডার “আত তাক্বউইমুল কামারী” {১}
০৩ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
০২ মার্চ, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












