ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে নূরুত তাশরীফে রসূলিল্লাহি হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৭১)
, ২৯ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১২ খ্বমিছ, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রি:, ২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
তারা তখন জিজ্ঞেস করল, হে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! এর পিছনে কি কারণ রয়েছে? আপনাকে আমরা এতভাবে শাস্তি দেয়ার চেষ্টা করলাম, কোনভাবে তা কার্যকরী হল না।
তিনি বললেন- দেখ, তোমরা ব্যাপারটা বুঝতে পারনি। আমি তো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে মুয়ানাকা করেছিলাম, মুছাফাহা করেছিলাম, উনার কাছে আমি কাকুতি-মিনতি, ওজরখায়ী করেছিলাম। উনাকে আমার পক্ষে যত সম্ভব তা’যীম-তাকরীম করা আমি সেটা করেছিলাম, এতটুকুই। এর চাইতে বেশি কিছু নয়। কিন্তু তোমরা যখন পাহাড় থেকে আমাকে নিচে নিক্ষেপ করলে হাত-পা বেঁধে, আমি অবশ্যই সেখানে পড়ে মারা যেতাম। কিন্তু দেখা গেল, একদল ফেরেশ্তা আমাকে ঘেরাও করে ধরল। সুবহানাল্লাহ! আমাকে ঘেরাও করে ধরে তারা ছলাত ও সালাম পাঠ করতে লাগল। সুবহানাল্লাহ! এবং বলতে লাগল, হে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু আপনি চিন্তিত হবেন না। আপনার শরীর থেকে আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুগন্ধি মুবারক আসতেছে। কাজেই আপনাকে তা’যীম-তাকরীম করা, সম্মান করা আমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হয়ে গেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, আপনাকে তা’যীম তাকরীম করে, সম্মানের সহিত যেন আমরা মাটিতে রেখে দেই এবং সেটাই উনারা রেখে দিয়েছেন।
যার কারণে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আমার শরীরে কোন ক্ষতি হয়নি। ফেরেশ্তারা তা’যীম এবং তাকরীমের সহিত আমাকে ধরে ছলাত এবং সালাম পাঠ করা অবস্থায় নিচে রেখে গেছেন। দুই নম্বর: তোমরা যখন আমাকে সেই জঙ্গলে ফেলে আসলে, হিংস্র প্রাণীগুলো আমাকে খেয়ে ফেলত সত্যিই। কিন্তু যখন আমাকে ফেলে আসলে হাত-পা বেঁধে, আমি দেখতে পেলাম, কিছুক্ষণের মধ্যে সমস্ত হিংস্র প্রাণীগুলো আমার চারদিকে ঘিরে তারা ছলাত এবং সালাম পাঠ করতে লাগল। সুবহানাল্লাহ! এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের যবান খুলে দিলেন, তারা বলতে লাগল, হে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি ভয় পাবেন না, চিন্তিত হবেন না। আপনাকে আমরা কোন ক্ষতি করব না, কারণ আপনার শরীর থেকে যিনি আখিরী নবী, যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুগন্ধি মুবারক আসতেছে। কাজেই আমাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে আপনাকে তা’যীম-তাকরীম করা, সম্মান-ইজ্জত করা। এটা বলে, তারা ছলাত-সালাম পাঠ করতে করতে উনাকে ঘেরাও করে উনার বাঁধনগুলো কেটে সকলেই উনাকে মাথায় করে জঙ্গলের কিনারে রেখে গেল।
হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, যেহেতু তারা আমাকে তা’যীম-তাকরীম করেছে, ইজ্জত-সম্মান করেছে এবং আমাকে ঘেরাও করে ছলাত ও সালাম পাঠ করতে করতে তারা আমাকে জঙ্গলের কিনারায় রেখে গেছে। কাজেই তারা আমার কোন ক্ষতি করেনি একমাত্র আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যে আমি মুছাফাহা করেছি, মুয়ানাকা করেছি সে কারণে উনার শরীর মুবারক থেকে আমার শরীরে যে সুগন্ধি মুবারক এসেছে সেই সুগন্ধির কারণে তারা আমাকে ইজ্জত-সম্মান করেছে। সুবহানাল্লাহ!
এরপর বললেন যে, তোমরা আমাকে তৃতীয়তঃ যখন পানিতে ফেলে দিলে, পানির হিংস্র প্রাণীগুলো আমাকে খেয়ে ফেলত সত্যিই এবং আমি ডুবে মারা যেতাম। কিন্তু আমাকে ফেলামাত্রই কিছু প্রাণী এসে মাথায় করে রাখল আমাকে, যাতে আমি পানিতে ডুবে না যাই। অনেক প্রাণী জমে গেল, তারা আমাকে ঘেরাও করে ছলাত এবং সালাম পাঠ করতে লাগল সুবহানাল্লাহ! তাদের যবান মহান আল্লাহ পাক তিনি খুলে দিলেন। বলতে লাগল, হে হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! আপনি চিন্তিত হবেন না, আপনাকে তা’যীম-তাকরীম করা ইজ্জত-সম্মান করা আমাদের জন্য ফরয-ওয়াজিব করা হয়েছে, আদেশ-নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেহেতু আপনি আখিরী নবী, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে তা’যীম-তাকরীম করেছেন, মুছাফাহা-মুয়ানাকা করেছেন। উনার শরীর মুবারকের সুগন্ধি মুবারক আপনার শরীর মুবারকে এসেছে। কাজেই এই কারণে আপনাকে তা’যীম-তাকরীম করার জন্য আমাদেরকে আদেশ করা হয়েছে, ফরয-ওয়াজিব করে দেয়া হয়েছে। এটা বলে তারা বাঁধন কেটে তা’যীম-তাকরীমের সহিত ছলাত এবং সালাম পাঠ করতে করতে পানির মধ্য থেকে উনাকে কিনারে এনে পাড়ে রেখে তারা চলে গেছে। সুবহানাল্লাহ! যার জন্য উনার কোন ক্ষতি হয়নি।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বিজাতীয় বিধর্মী তথা ইহুদী-নাছারাদেরকে অনুসরণ করা ইসলামী শরীয়তে হারাম-নাজায়িয
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৯তম পর্ব)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-২)
১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুসলমানদের ভালো কিছু দেখলে কাফিররা কখনই খুশি হয় না
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসী ইহুদী-খ্রিস্টানদের নজরদারী, তথ্যচুরি, ফিৎনা সৃষ্টিকারী, সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী এবং বিমান হামলার কাজে ব্যবহৃত সন্ত্রাসী আমেরিকা ভিত্তিক মুসলিম বিদ্বেষী এক তথ্যজালিকা (৩)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাদিমু রসূলিল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
ফাদ্বায়িলে উম্মাহাতিল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম (২)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহিলাদের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার বিশেষ নির্দেশনা মুবারক- পর্দা পালন করা
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মক্কা চুক্তি, ইরানের উত্থান ও বাংলাদেশের কৌশলগত ভবিষ্যৎ (পর্ব-১)
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












