ছহিবু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ, আস সাফফাহ, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ তথা পবিত্র ঈদে বিলাদতে রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয (৪৩)
, ২৯ রবীউল আউওয়াল শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৪ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ ভাদ্র, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
এটা তো সোজা কথা নয়। খুব ফিকির করতে হবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা। তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেদিন এসেছেন, সোমবার দিন, ১২ রবীউল আউওয়াল শরীফ সেটা কত বড়
يَوْمٌ عَظِيمٌ
(ইয়াওমুন আযীম) মহান দিন, কত বড় ঈদ, কত বড় খুশী, মানুষের সেটার ভাষা জানা নেই।
ঠিক আরেকটা উদাহরণ দিলে বুঝা যাবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা। মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ.
অর্থাৎ আমি আপনার যিকিরকে বুলন্দ করেছি। আলোচনা বৃদ্ধি করেছি। ইজ্জত, সম্মান, বৃদ্ধি করেছি, কতটুকু? আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকের সাথে সংযুক্ত করে দিয়েছেন।
আরেকটা উদাহরণ দিলে বুঝা যাবে সেটা হচ্ছে, একবার হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মর্যাদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ যিনি হাদীছ শরীফে আমীরুল মু’মিনীন। তিনি হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার যাহিরী-বাতিনী খলীফা। হযরত আব্দুল্লাহ বিন মুবারক রহমতুল্লাহি আলাইহি আর হযরত মুয়াফা বিন ইমরান রহমতুল্লাহি আলাইহি বিশিষ্ট মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী, বুযূর্গ, আলিম, ফকীহ।
এই দু’জন ফকীহকে, আল্লাহ পাক উনার ওলীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। মানুষতো বলে থাকে, হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি, যিনি খলীফা। উমাইয়াদের বিশিষ্ট খলীফা। উমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনাকে অনেকে পঞ্চম খলীফা বলে থাকে। এ কথাটা ভুল। এটা মনে রাখবে।
পঞ্চম খলীফা হচ্ছেন হযরত ইমামুছ ছানী আলাইহিস সালাম। আর ৬ষ্ঠ খলীফা হচ্ছেন হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। যদি ইনসাফগার হিসেবে বলা হয় তাহলে ৮ম খলীফা হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি।
বলা হয়, উনি অনেক ইনসাফগার, অনেক কিছু করেছেন। উনার মর্যাদা বেশি? না হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার মর্যাদা বেশি?
এটা জিজ্ঞাসা করা হল। উনারা শুনে আশ্চর্য হলেন। আশ্চর্য হয়ে বললেন, তোমরা কি প্রশ্ন এটা করলে। এটা কি প্রশ্ন করলে? এর জাওয়াব হচ্ছে, তোমরা জেনে রাখ! জাওয়াব হচ্ছে, হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনি যে ঘোড়ায় চড়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দরবার শরীফে তাশরীফ নিতেন। ঘোড়ায় চড়ে তাশরীফ নেয়ার সময় ঘোড়ার পায়ের পদাঘাতের কারণে যেই ধুলা-বালিগুলি উড়তো এবং যেই ধুলা-বালিগুলি ঘোড়ার নাকের মধ্যে প্রবেশ করতো। ঘোড়ার নাকে, উনার মধ্যে না। উনার পায়ের ধুলা-বালি নয়। উনার যে ঘোড়া সেই ঘোড়ার পদাঘাতের কারণে যে ধুলা-বালিগুলি উড়তো এবং ঘোড়ার নাকের ভিতর যে ধূলা-বালিগুলি প্রবেশ করতো সেই ধূলা-বালিগুলিও হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে লক্ষ-কোটি গুণ বেশি সম্মানিত। সুবহানাল্লাহ!
যদি তাই হয়ে থাকে অর্থাৎ একজন ছাহাবী উনার ঘোড়ার পায়ের ধূলার এত মর্যাদা হয়ে থাকে। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনার ঘোড়ার পায়ের ধূলার এত মর্যাদা হয়ে থাকে, তাহলে যিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আখিরী নবী যাঁর জন্য সকলেই সৃষ্টি হয়েছেন তাহলে সেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরুদ দারাজাত (পা) মুবারকে যে ধূলা-বালি স্পর্শ করেছে সেটার মর্যাদা কত বেশি হবে? সেটা ফিকিরের বিষয়।
কাজেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যেই দিন এসেছেন সোমবার দিন, যে ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সংশ্লিষ্ট তাহলে সেই দিন, সেই বারের কত মর্যাদা রয়েছে? এটাতো ফিকির-চিন্তা করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












