পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের বিস্ময়কর বাস্তব ঘটনাসমূহ
, ০৯ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৩ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
(৩য় পর্ব)
পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মাঝে পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার যেমন অসংখ্য ফযীলত মুবারক বর্ণনা করা হয়েছে। ঠিক বাস্তবেও পবিত্র দুরূদ শরীফ উনার বিস্ময়কর অনেক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। নিম্নে সেখান থেকে কতিপয় ঘটনা বর্ণনা করা হলো-
(২) অনুরুপ আরো একটি ঘটনা:
উক্ত যুবক বললেন, হে হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি! আপনি মহান আল্লাহ পাক উনাকে উনার প্রকৃত পরিচয়ে চিনতে পারেন নি। তখন হযরত সুফিয়ান রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, তাহলে আপনি কীভাবে উনাকে চিনেছেন? যুবক বললেন, আমি মহান আল্লাহ পাক উনাকে চিনেছি আমার ইচ্ছাশক্তি ও মনোবল ভেঙ্গে যাওয়ার মাধ্যমে। আমি যখন কোনো কিছু করার দৃঢ় সংকল্প করলাম, তখন আমার সংকল্প দুর্বল হয়ে গেলো; আর যখন মনস্থির করলাম, তখন মন পরিবর্তন হয়ে গেলো। তখন আমি বুঝলাম আমার এমন একজন রব তায়ালা আছেন, যিনি আমাকে পরিচালনা করেন, আমি নিজে নিজের নিয়ন্ত্রণকারী নই।
হযরত সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন উনাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনার (প্রতিনিয়ত) নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠের কারণ কী? তিনি বললেন, একবার আমি আমার মাকে নিয়ে পবিত্র হজ্জে আসলাম। আমার মা আমাকে বললেন, ‘তুমি কি আমাকে পবিত্র কা‘বা ঘরে প্রবেশ করাবে না? তখন আমি উনাকে ভিতরে নিয়ে গেলাম। কিন্তু তিনি সেখানে পড়ে গেলেন; উনার পেট ফুলে গেলো, মুখ কালো হয়ে গেলো। যুবক বলেন, আমি খুব চিন্তিত অবস্থায় আমার মায়ের পাশে বসলাম।
তারপর আকাশের দিকে হাত তুলে বললাম, ‘ইয়া রব্বী! আপনার ঘরে প্রবেশকারীর সাথে এ কেমন আচরণ? হঠাৎ তিহামার দিক থেকে একখন্ড মেঘ উত্থিত হলো, আর সেখানে সাদা পোশাক পরিহিত এক মহান ব্যক্তি আবির্ভূত হলেন। তিনি পবিত্র কা’বা শরীফে প্রবেশ করলেন, প্রথমে আমার মায়ের মুখের উপর উনার হাত মুবারক বুলালেন, মুখ সাদা হয়ে গেলো; তারপর পেটের উপর হাত মুবারক বুলালেন, পেটও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে গেলো; অর্থাৎ আমার মা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেলেন। এরপর তিনি চলে যাচ্ছিলেন। আমি উনার পোশাক মুবারক হাত দিয়ে ধরলাম এবং বললাম, ‘আপনি কে, যিনি আমার এই বিপদ দূর করলেন? তিনি বললেন-
أنا نبيك محمد صلى الله عليه وسلم
‘আমি তোমার মহাসম্মানিত নবী ও রসূল, সাইয়্যিদুনা মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ তখন আমি বললাম-
يا رسول الله صلى الله عليه وسلم فأوصني قال لا ترفع قدماً ولا تضع أخرى إلا وأنت تصلي على محمد وعلى آل محمد صلى الله عليه وسلم
‘ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমাকে কিছু ওছীয়ত মুবারক করুন। তিনি ইরশাদ মুবারক করলেন, তুমি তোমার পা উঠাতে ও ফেলতে অর্থাৎ দায়েমীভাবে তোমার মহাসম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি এবং উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করবে। সুবহানাল্লাহ! (আল ক্বওলুল বদী’ ২৩৮-২৩৯ পৃষ্ঠা, হাদায়িকুল আউলিয়া ২৬ পৃষ্ঠা)
৩. কালো চেহারা ও কঠিন আযাব থেকে রক্ষা করলেন:
عن حضرت عبد الواحد بن زيد رحمة الله عليه قال خرجت حاجاً فصحبني رجل فكان لا يقوم ولا يقعد ولا يذهب ولا يجيء إلا صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت له في ذلك فقال أخبرك عن ذلك خرجت منذ سنيات إلى مكه ومعي أبي فلما أنصلافنا قلنا في بعض المنازل فبينما أنا نائم إذا أتاني آت فقال لي قم فقد أمات الله أباك وسود وجهه قال فقمت مذعوراً فكشفت الثوب عن وجه أبي فإذا هو ميت أسود الوجه فدخلني من ذلك رعب فبينما أنا على ذلك الغم إذ غلبتني عيناي فنمت فإذا انا على رأس ابي باربعة سودان معهم أعمدة من حديد عند رأسه وعند رجليه وعن يمينه وعن شماله إذا قبل رجل يمشي حسن الوجه بين ثوبين أخضرين فقال لهم تنحوا فرفع الثوب عن وجهه فمسح وجهه بيديه ثم أتاني فقال لي قم فقد بيض الله وجه أبيك فقلت من أنت بأبي وأمي قال أنا سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم فكشفت الثوب عن وجه أبي فإذا هو أبيض الوجه فأصلحت من شأنه ودفنته
অর্থ: হযরত আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়িদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার পবিত্র হজ্জে বের হলাম। এক ব্যক্তি আমার সঙ্গী হলেন। যিনি উঠতে, বসতে, আসা যাওয়ায় সর্বাবস্থায় শুধু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র দুরূদ শরীফ পাঠ করতেন। আমি তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমি আপনাকে এই ঘটনা বলবো। কয়েক বছর আগে আমি পবিত্র হজ্জের উদ্দেশ্যে সম্মানিত মক্কা শরীফ রওনা হয়েছিলাম। আমার বাবাও আমার সঙ্গে ছিলেন। পথিমধ্যে আমরা এক স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। যখন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, একজন আগন্তুক এসে বললেন, উঠো, মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমার বাবাকে মৃত্যু দান করেছেন। তার মুখ কালো হয়ে গেছে। আমি ভীত হয়ে ঘুম থেকে উঠলাম এবং আমার বাবার মুখ থেকে কাপড় সরিয়ে দেখলাম। তিনি মৃত এবং উনার মুখ কালো হয়ে গেছে। এই চিন্তায় আমি ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়লাম। দুশ্চিন্তা আর বিষন্নতার মাঝেই একসময় আমার দুচোখ ঘুমে ভারী হয়ে এলো এবং আমি ঘুমিয়ে পড়লাম।
-হাফিয মুহম্মদ ইমামুল হুদা।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
সশব্দে বা জোরে আমীন না বলা
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র নামাযের মাসয়ালা-মাসায়িল
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা কবীরা গুনাহ ও অসন্তুষ্টির কারণ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙ্গুলের ছাপ শরীয়তসম্মত, নিখুঁত, ব্যবহারে সহজ এবং রহমত, বরকত, সাকীনা লাভের কারণ (৮)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সর্বাবস্থায় যাঁরা দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দৃঢ়চিত্ত থাকেন উনারাই হক্কানী আলেম
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফিক্বাহ বা ফতওয়ার সকল কিতাবেই গান-বাজনা, বাদ্য-যন্ত্র ইত্যাদিকে হারাম ফতওয়া দেয়া হয়েছে
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৬তম পর্ব)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ফুটবল-ক্রিকেটসহ সর্বপ্রকার খেলাধুলা করা, সমর্থন করা হারাম ও নাজায়িয (১৮)
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত- প্রাণীর ছবি হারাম
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার)












