আপনাদের মতামত
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (৭)
, ১৯ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ০৭ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ০৬ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৩ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) আপনাদের মতামত
সারাদেশ থেকে ঢাকায় আগত অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং ঢাকামূখী জনস্রোত ঢাকায় যানজট সহ বিবিধ সমস্যা তৈরী করেছে। মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, ওভারপাস ইত্যাদি নির্মাণের মাধ্যমে এসব সমস্যা নিরসন সম্ভব নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত ঢাকায় আগত অতিরিক্ত জনসংখ্যা এবং ঢাকামূখী জনস্রোত বন্ধ করা না যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত এর স্থায়ী সমাধান হবেনা। আর তা সম্ভব কেবল ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং সারাদেশে জেলা, থানা থেকে শুরু করে গ্রামীণ পর্যায়ে সুষম উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃস্টির মাধ্যমে।
এ বিষয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার মুবারক দিক নির্দেশনাগুলো আলোচনা করা হলো। যা অনুসরণে ঢাকা শহর স্থায়ীভাবে যানজটের কবল থেকে মুক্তি পাবে। সারাদেশে সুষম উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
১. প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ :
সব কাজের জন্য যেন মানুষকে ঢাকায় আসতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা ও বিভাগীয় শহরের কার্যালয় বা অফিসগুলোকে এমন শক্তিশালী করা যাতে বড় কোনো অনুমোদনের জন্য ঢাকায় আসতে না হয়।
সচিবালয় ও অধিদপ্তর স্থানান্তর:
অনেক সরকারি দপ্তর আছে যেগুলো ঢাকার কেন্দ্রস্থলে থাকার প্রয়োজন নেই। সব মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় ঢাকায় থাকলেও, অনেক অধিদপ্তর বা পরিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় ঢাকার বাইরে নেওয়া যায়। যেমন:
ক) নদী, বন্দর ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান : যেসব প্রতিষ্ঠানের কাজের পরিধি মূলত নদী, সমুদ্র বা উপকূলীয় অঞ্চলের সাথে যুক্ত, সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় শহরে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
খ) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ: এদের প্রধান কার্যালয় বরিশাল বা চাঁদপুর স্থানান্তর করা যেতে পারে, কারণ বরিশালকে বলা হয় নদীমাতৃক বাংলাদেশের কেন্দ্রবিন্দু।
গ) নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর: এগুলোকে সরাসরি বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামে সরিয়ে নেওয়া উচিত, কারণ দেশের মূল সমুদ্র বন্দর ও সমুদ্রগামী জাহাজের কার্যক্রম ওখানেই পরিচালিত হয়।
ঘ) বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন : এটি উপকূলীয় অঞ্চল যেমন চট্টগ্রাম, খুলনা বা পটুয়াখালীতে (পায়রা) স্থানান্তর করা যেতে পারে, যা ব্লু-ইকোনমি ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।
ঙ) কৃষি, বন ও পরিবেশ গবেষণা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান: কৃষি ও প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো যে অঞ্চলে বেশি কার্যকর, সেখানে স্থানান্তরিত হলে গবেষণার মান এবং স্থানীয় কর্মসংস্থান দুই-ই বাড়বে।
কৃষি অধিদপ্তর: এটি কৃষিপ্রধান কোনো অঞ্চলে (যেমন- উত্তরবঙ্গ) স্থানান্তর করা যেতে পারে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর: উপকূলীয় বা হাওর অঞ্চলে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
বন বিভাগ: পার্বত্য চট্টগ্রাম বা সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় নেয়া যেতে পারে।
চ) বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর: এদের প্রধান কার্যালয় দেশের শস্যভা-ার খ্যাত রাজশাহী বা রংপুর বিভাগে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
ছ) বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড ও রেশম গবেষণা ইনস্টিটিউট: এটি কাগজে-কলমে ঢাকায় না রেখে সম্পূর্ণভাবে রাজশাহীতে কেন্দ্রবিন্দু করা উচিত।
জ) বন অধিদপ্তর : সুন্দরবন ও উপকূলীয় বনাঞ্চল রক্ষায় এর একটি বড় অংশ খুলনা এবং পাহাড়ি বনাঞ্চলের জন্য আরেকটি অংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের যে কোন জেলায় বা রাঙ্গামাটিতে স্থানান্তর করা যায়।
ঝ) বাংলাদেশ চা বোর্ড : এর প্রধান কার্যালয় স্থায়ীভাবে চায়ের রাজধানী সিলেটে (শ্রীমঙ্গল) স্থানান্তর করা যেতে পারে।
ঞ) জ্বালানি, খনিজ সম্পদ ও ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান:
খনিজ সম্পদ এবং ভারী শিল্পের প্রশাসনিক কাজ ঢাকায় বসে না করে উৎস স্থলের কাছাকাছি করা যেতে পারে।
পেট্রোবাংলা এবং বাপেক্স: তেল ও গ্যাসের সিংহভাগ উৎস যেহেতু সিলেট অঞ্চলে, তাই এর বড় একটি আঞ্চলিক সদর দপ্তর সিলেটে স্থানান্তর করা যেতে পারে।
ট) বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশন: চিনিকলগুলোর সিংহভাগ উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী বা কুষ্টিয়ায় নেওয়া যেতে পারে।
ঠ) স্বায়ত্তশাসিত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান:
গবেষণা বা বিশেষায়িত কাজের জন্য ঢাকার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার প্রয়োজন কম।
বিআরআরআই ও বিএআরআই: এগুলো ইতিমধ্যে ঢাকার বাইরে থাকলেও আরও অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক তৈরী করা প্রয়োজন।
নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট: এটি পদ্মা বা যমুনা তীরবর্তী কোনো জেলায় সরানো যেতে পারে।
-মুহম্মদ জুলফিকার হায়দার।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
জাহান্নাম সম্পর্কে সবারই চিন্তা-ফিকির করা উচিত
০৩ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
অন্যান্য দেশে উড়াল সেতু ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে; আর বাংলাদেশ সরকার ফ্লাইওভার তৈরি করছে
২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
উশর কি? পবিত্র দ্বীন ইসলামে উনার গুরুত্ব
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিজ্ঞাপন
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
শিক্ষানীতির পরিবর্তন ছাড়া মুসলমানদের অধিকার কখনোই প্রতিষ্ঠিত হবে না
২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
হে উন্মাদের দলেরা! খেলাচ্ছ্বলে তোমরা কাদেরকে সমর্থন দিচ্ছো ও মহব্বত করছো দেখে নাও; তোমাদের হাশর নশর কাদের সাথে হতে যাচ্ছে তাও বুঝে নাও!
১৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বাংলাদেশ সরকারের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২৪’- এ গরু-ছাগল-মহিষের গোশত আমদানি নিষিদ্ধ। প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব জানে না, অধিদপ্তরের ট্রেড পরিচালক জানে না- অথচ ভারত সরকারী-বেসরকারীভাবে জানে- ভারতের পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়-
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
মুনশী মুহম্মদ মেহেরুল্লাহ সাহেব উনার ঈমানী লড়াই এবং আজকের প্রেক্ষাপট
২৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












