সর্বপ্রকার কামিয়াবী হাছিল করতে হলে সকলের জন্য কর্তব্য হচ্ছে- নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ করা
, ০৪ রবীউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ১৮ রবি, ১৩৯৪ শামসী সন , ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি:, ০১ আশ্বিন, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) সুন্নত মুবারক তা’লীম
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য আবশ্যক হচ্ছে, তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রেই মহান আল্লাহ পাক এবং উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সকল আদেশ-নিষেধ মুবারক পরিপূর্ণ ভাবে মেনে চলবেন, মনগড়া আমল করবেন না। বরং মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার অনুসরণ করবেন। এটাই প্রকৃত মুসলমানের পরিচয়।
একজন মুসলমানের মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত, হায়াত থেকে মউত পর্যন্ত, এক কথায় ক্বিয়ামত পর্যন্ত যত সমস্যাই উদ্ভব হোক না কেন, সকল বিষয়েরই ফায়সালা বা সমাধান সম্মানিত সুন্নাহ শরীফ উনার মধ্যে রয়েছে।
অতএব, মুসলমানদের জন্যে কোন কথা বলতে হলে বা কোন কাজ করতে হলে, অবশ্যই পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মুতাবিক করতে হবে। কেননা পবিত্র সুন্নাহ শরীফ বাদ দিয়ে মনগড়া আমল করা বা কথা বলার অবকাশ মুসলমানদেরকে দেয়া হয়নি। আর তাই মহান আল্লাহ্ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَا اَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوا ادْخُلُوْا فِي السّلْمِ كَافَّةً وَلَا تَتَّبِعُوْا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ اِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِيْنٌ.
অর্থ : “হে ঈমানদারগণ! তোমরা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হয়ে যাও। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। কেননা শয়তান তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।” (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২০৮)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে যে, যাঁরা ঈমানদার উনারা মনগড়া কোন মত-পথ অনুসরণ করতে পারবেন না। কারণ মনগড়া চলা, কাজ করা বা কথা বলার অর্থই হলো শয়তানকে অনুসরণ করা ও বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা। নাউযুবিল্লাহ!
জ্ঞানী বা নেককার ব্যক্তি কখনো মনগড়া আমল করেন না। এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَت أَبِي يَعْلَى شَدَّادِ بْنِ أَوْسٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ الْكَيِّسُ مَنْ دَانَ نَفْسَهُ، وَعَمِلَ لِمَا بَعْدَ الْمَوْتِ، وَالْعَاجِزُ، مَنْ أَتْبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا، ثُمَّ تَمَنَّى عَلَى اللَّهِ.
অর্থ: হযরত আবূ ইয়ালা শাদ্দাদ বিন আউস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, জ্ঞানী ঐ ব্যক্তি যে নফসকে নিয়ন্ত্রন করে এবং পরকালের আমল করে। নির্বোধ মুর্খ নাদান ঐ ব্যক্তি যে নফসের পায়রবি করে আর মনে করে অনেক কিছু হাছিল করবে। (তিরমিযী শরীফ)
কাজেই, কোন জ্ঞানী ব্যক্তি, নেককার ব্যক্তি কখনো নিজের নফসের পায়রবি করতে পারে না; সে সবসময় মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ অনুযায়ী সর্বপ্রকার আমল করবে।
মহাসম্মানিত সুন্নাহ শরীফ মুতাবিক আমল করলে, সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করা যায় এবং সম্মানিত হিদায়াত মুবারক উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকা যায়।
কেউ যদি সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করতে চায়, সম্মানিত হিদায়াত মুবারক উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকতে চায়, তাহলে অবশ্যই মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী সকল আমল করতে হবে। কেননা, এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَإِنْ تُطِيْعُوْهُ تَهْتَدُوْا
অর্থ : যদি তোমরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ইত্তিবা মুবারক, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করো, তাহলেই তোমরা সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা নূর শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৪)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
فَمَنْ أَخَذَ بِسُنَّتِيْ فَقَدِ اهْتَدَى، وَمَنْ تَرَكَهَا ضَلَّ
অর্থ : সুতরাং যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা মুবারক করবেন, অনুসরণ-অনুকরণ মুবারক করবেন, তিনি অবশ্যই সম্মানিত হিদায়াত মুবারক লাভ করবেন। সুবহানাল্লাহ! আর যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক তরক করবে, ছেড়ে দিবে, সে গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়ে যাবে, পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! (মু’জামুল কাবীর লিত্ ত্ববরানী ৭/২৫২, মাজমা‘উঝ ঝাওয়াইদ ২/৩০৭ ইত্যাদি)
অর্থাৎ মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমলকারী ব্যক্তি সর্বদাই হক্বের উপর, সম্মানিত হিদায়াত উনার উপর ইস্তিক্বামত থাকবেন। আর যে ব্যক্তি সম্মানিত সুন্নত মুবারক তরক করবে, ছেড়ে দিবে সে অবশ্যই গোমরাহ হয়ে যাবে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে নফসের অনুসরণ বাদ দিয়ে সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক উনার অনুসরণ-অনুকরণ করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
-আহমদ হুসাইন
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (২)
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ক্বমীছ বা জামা নিছফে সাক্ব পর্যন্ত প্রলম্বিত হওয়া সম্মানিত সুন্নত মুবারক
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নতী খাবার কালোজিরা (১)
২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ওযূর একটি মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনিচ্ছাকৃত তরক করায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সতর্কতা মুবারক
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (২)
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
লিবাস পরিধানের মহাসম্মানিত সুন্নতী তরীক্বাহ (১)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মহাসম্মানিত সুন্নত তরীক্বায় দোয়ার খাযীনাহ (১৯)
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলার জন্য আবশ্যক হচ্ছে, সর্বক্ষেত্রে মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক অনুযায়ী আমল করা
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (২)
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
বিসমিল্লাহ বলে বাসনের ডান দিক থেকে খাবার খাওয়া মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক এবং আহার করার কতিপয় মহাসম্মানিত সুন্নত মুবারক (১)
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (২)
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
খাবার পড়ে গেলে তা উঠিয়ে পরিস্কার করে খাওয়া খাছ সুন্নত মুবারক (১)
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












