সন্তানকে কু-পথ থেকে বাঁচানোর জন্য ইসলামী শিক্ষার বিকল্প কিছুই হতে পারে না
, ৩০ জুলাই, ২০২৫ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) আপনাদের মতামত
ব্রিটিশ আমল হতেই ইসলামী শিক্ষাকে পাঠ্যসূচি থেকে সরিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। যার ধারাবাহিকতা এখনও চলমান। অতীতে বিভিন্নভাবে মুসলমানরা শিশুদের ইসলামী শিক্ষা দিতো। সন্তান সঠিক পথে থাকার শিক্ষা পেত। কিন্তু বর্তমানে বিনোদনের নামে বেপরোয়া অনলাইন মাধ্যমের কারণে তরুণ সমাজ এখন বিপথগামী হচ্ছে। এক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষা থাকলে তারা এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য বিবেকের তাড়না অনুভব করতো।
অথচ ইসলামী শিক্ষা (দ্বীনী শিক্ষা) আজ এদেশ থেকে বিদায় করা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে দ্বীনী শিক্ষাকে প্রায় উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। যা সমাজ ধ্বংসের কারণ।
পশ্চিমা বিধর্মীদের অপসংস্কৃতির প্রভাবে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনৈসলামিক জীবনযাপনও সন্তানকে খারাপ পথে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বাবা-মাকেও ইসলামী অনুশাসন ও শিক্ষায় জীবনযাপন করতে হবে। সন্তানকে শিশুকাল থেকেই সময় দিয়ে ইসলামী শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করে দিতে হবে।
একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ বলেছেন, “বর্তমানে সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের জন্য প্রধানত দায়ী- দ্বীনী অনুশাসনজনিত মূল্যবোধের অভাব। পাশাপাশি আকাশ সংস্কৃতি সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ফলে মাদকাসক্তি থেকে শুরু করে খুন খারাবি, উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করার প্রভাব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে- দেশের অভিজাত এলাকায় বাস করে এমন লোক আছে, যাদের প্রাচুর্যের অভাব নেই; কিন্তু তাদের দ্বীনী মূল্যবোধ না থাকায় পরিবারে নানা অঘটন, বিপত্তি ঘটছে। দ্বীনী অনুশাসন মানুষের মধ্যে ভয়-ভীতি ও বিবেক বোধের সৃষ্টি করে। বিবেকই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিবেকের তাড়না বা নিয়ন্ত্রণ না থাকলে মানুষের পাশবিক গুণাবলী প্রাধান্য পাবে। সেটিই এখন ঘটছে। সম্মানিত ইসলামী শিক্ষা জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই অপরিহার্য। এই শিক্ষাই মানুষকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। তার মধ্যে পারস্পরিক দৃঢ় বন্ধন, ভালোবাসা ও দায়িত্ব বোধের জন্ম দেয়। ”
আজকে শুধু তরুণদের অবক্ষয়ের কথা বলা হচ্ছে। ইসলামী শিক্ষা ও অনুশাসনের অনুপস্থিতিতে এই অবক্ষয় তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ- যেকোনো বয়সেই ঘটতে পারে। মানুষের মনে খারাপ প্রবৃত্তি জন্ম নিতেই পারে। আর দ্বীনী অনুশাসনই তাকে সেটি থেকে বিরত রাখবে। দ্বীন ইসলামই মানুষকে আত্মশাসনের শিক্ষা দেয়। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রেও তথা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। সমাজ ও পরিবারকেও দায়িত্ব পালন করতে হবে।
মূলত, তরুণ-তরুণীদের বিপথ থেকে বাঁচানোর জন্য ইসলামী শিক্ষার বিকল্প কিছুই হতে পারে না। প্রতিটি মুসলমান নর-নারীকে জীবনের শুরুতেই অর্থাৎ শিশুকাল হতেই ইসলামী শিক্ষা প্রদান করা একান্ত অপরিহার্য। তা না হলে সমাজ, পরিবার ও দেশ চরম অধঃপতনের দিকে ধাবিত হবে। এজন্যই দ্বীনী ইলম শিক্ষা করা একান্ত জরুরী।
-মুহম্মদ আসাদুল্লাহ।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
বাংলাদেশের ৫০ লক্ষ পদাতিক বাহিনীর জন্য ৩য় প্রজন্মের এটিজিএম রোডম্যাপ (পর্ব ৮)
২৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
১০০০ নতুন সেনাক্যাম্প স্থাপনের কৌশলগত অপরিহার্যতা (২)
২১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছির আলাইহিস সালাম উনার নির্দেশনা মুবারক পালনেই সফলতা। ঢাকামুখী জনস্রোত বন্ধ এবং ঢাকা শহরের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যতীত অন্য কোন পদ্ধতিতে কখনোই যানজট নিরসনের স্থায়ী সমাধান হবে না (১২)
২০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (২)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
একবিংশ শতাব্দীর কৌশলগত প্রতিরক্ষা রূপরেখা (১)
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
জান্নাতের টিকিট বিক্রিকারী জামাতীরা কী মনে করে? বেহেশতে- যাওয়ার প্রস্তুতি হিসেবেই দুনিয়াতেই হারাম মদের সাথে সম্পৃক্ত থাকা উচিত! নাউযুবিল্লাহ। বিএনপির ভাষায় জামাত মুনাফেক। জাহান্নামের নি¤œস্তরের বাসিন্দা মুনাফিকরা- ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে তারা যে সত্যিই বড় মুনাফেক, তাই প্রমাণ করছে। মাতালদের পক্ষেই সম্ভব ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের টিকিট বেচা।
১৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সার্বভৌমত্বের বিনিময়ে কী পাচ্ছি আমরা? - আকসা ও জিসোমিয়া চুক্তি প্রত্যাখ্যান করুন
১৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশীদের ইজারা দিলে বাংলাদেশ যে সমস্ত গুরুতর হুমকিতে পড়বে
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
উত্তরাঞ্চলে এক ভয়ংকর চক্রান্ত ও আলেম সমাজের নীরবতা
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পুরোনো স্মার্টফোন বিক্রির আগে যে কাজ না করলে বিপদ
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পেগাসাসের জাল বিস্তার বাংলাদেশেও। সবাই সাবধান।
০৯ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
৫০ লক্ষের বাহিনী ও ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধক্ষেত্রের মহাপ্রস্তুতি (পর্ব-৩)
০৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












