শুধু স্পেন নয় ফিলিপাইনও ছিলো মুসলিম অধ্যুষিত, শাসিত বর্তমানে ফিলিপাইন হতে পারতো খ্রিস্টানের পরিবর্তে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ
, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১২:০০:০০ এএম ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) ইতিহাস
(প্রথম পর্ব)
যখন আমরা মুসলমানদের হারানো সাম্রাজ্যের কথা আলোচনা করি তখন শুধু স্পেন নিয়েই আমরা হতাশ হই। অথচ ফিলিপাইনও স্পেনের খ্রিস্টানদের ষড়যন্ত্রের আরেকটা বিস্তৃতি ছিল। যদি আর ৫০-১০০ বছর মুসলিমরা ধরে রাখতে পারতো ফিলিপাইনের ক্ষমতা তাহলে আজকে হয়ত ১১.৫ কোটি জনসংখ্যার দেশের পুরোটাই মুসলিম হত, সংখ্যার হিসেবে যা স্পেইনের জনসংখ্যার প্রায় দ্বিগুণ।
প্রশ্ন জাগতে পারে- সাউথইস্ট এশিয়ার প্রধান দেশগুলো যেমন- ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং ব্রুনেই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ, কিন্তু ফিলিপিন কেন খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ? এর পিছনে রয়েছে দুঃখজনক ইতিহাস। স্পানিশ রিকনকোয়েস্টার একটি ডাইরেক্ট রেজাল্ট হল, আজকের ফিলিপিন খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যাওয়া।
ইসলামের আলো যখন মালয় দ্বীপপুঞ্জে প্রবেশ করে চৌদ্দ ও পঞ্চদশ শতকে তখন বেশ কিছু সালতানাত তৈরি হয় বিভিন্ন দ্বীপকে ঘিরে। তেমনি একটি শক্তিশালী সালতানাত ছিল সুলু সালতানাত (ঝঁষঃধহধঃব ড়ভ ঝঁষঁ)। আজকের ফিলিপিন প্রধানত তিনটি অঞ্চলে বিভক্ত- মিন্দানাও, ভিসায়াস, এবং লুজন। সুলু সালতানাত মিন্দানাও এর বেশ কিছু অঞ্চল এবং লুজনের অন্তর্ভুক্ত পালাওয়ান (চধষধধিহ) নিজেদের অধীনে নিয়ে আসে। এছাড়াও ছিল মাগুইন্দানাও সালতানাত (ঝঁষঃধহধঃব ড়ভ গধমঁরহফধহধড়) যারা মিন্দানাওয়ে বেশ কিছু এলাকা নিয়ে সালতানাত তৈরি করে। পনের শতকের শেষ দিকে লুজনের অর্ধেক এবং মিন্দানাওয়ের পুরোটা মুসলিমদের অধীনে চলে আসে, যা প্রায় পুরো দেশের ৬০%। বিশেষতঃ মিন্দানাওয়ের বেশীরভাগ জনগণ মুসলিম হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পুরো ফিলিপিন আজ মুসলিম হয়ে যেত। এমনকি আজকের ফিলিপিনের রাজধানী ম্যানিলাও মুসলিম শাসকের অধীনে ছিল।
কিন্তু, ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে স্প্যানিশরা ফিলিপিনে পৌঁছাতে শুরু করে। তারা প্রথমে ম্যানিলা দখল করে নেয়। তারপর আস্তে আস্তে লুজনের বাকি অংশ দখল করে নেয় এবং মুসলিমদের মিন্দানাওয়ে ঠেলে দেয়। তারা জোরেশোরে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচার করতে থাকে এবং লোকালদের কনভার্ট করতে থাকে। তারপর তারা মিন্দানাওয়ের দিকে নজর দেয় কিন্তু মুসলিমরা শক্ত প্রতিরোধ তৈরি করে এবং স্প্যানিশরা কখনোই মিন্দানাওয়ে মুসলিমদের ভূমিগুলোতে ইফেক্টিভলি শাসন করতে পারেনি। ওসমানি খিলাফত ফিলিপিনো মুসলিমদের সহায়তা করে বিভিন্নভাবে এই রেজিস্টেন্সে।
তবে ততক্ষণে লুজন এবং ভিসায়াসের প্রায় সবাই খ্রিস্টান হয়ে গেছে। মিন্দানাওতেও প্রচুর কনভার্সন চলে। এর ফলশ্রুতিতে ফিলিপিন আজকে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্যাথোলিক দেশ জনসংখ্যার দিক দিয়ে। প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখানে ক্যাথোলিক। তবে বর্তমানেও ১ কোটিরও বেশি মুসলিম রয়েছে।
১৫৭১ সালে, স্পেনীয়, তাদের লাতিন-আমেরিকান নিয়োগকারী এবং তাদের ফিলিপিনো (ভিসায়ান) মিত্র মেক্সিকো-বংশোদ্ভূত জুয়ান ডি সালিসিডো ম্যাসিনালায় আক্রমণ করেছিলেন, যিনি মৈনালি আক্রমণ করেছিলেন। ব্রুনাই সুলতানি এবং মুক্ত প্লাস টন্ডোর রাজত্বকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি ম্যানিলাকে স্প্যানিশ পূর্ব ইন্ডিজের রাজধানী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছিল। লেজাজপি মায়নিলে একটি দুর্গ তৈরি করেছিলেন এবং টন্ডোর লাকান লাকান দুলার সাথে বন্ধুত্বের উদ্রেক করেছিলেন, যিনি মেনে নিয়েছিলেন। তবে মেইনিলার প্রাক্তন শাসক, মুসলিম রাজা, রাজা সুলায়মান, যিনি ব্রুনাইয়ের সুলতানের বাসিন্দা ছিলেন, তিনি লেজাপ্পির কাছে জমা দিতে অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু লাকান দুলা বা উত্তরে পাম্পাঙ্গন ও পাঙ্গাসিনান বসতিগুলির সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন। ব্যাংকিকের যুদ্ধে তারিক সুলায়মান এবং কাপম্পাঙ্গান ও তাগালগ মুসলিম যোদ্ধাদের একটি বাহিনী স্প্যানিয়ার্ডদের আক্রমণ করলে শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত হয়ে নিহত হন।
১৫৭৮ সালে, ফিলিপাইনের দ্বীপপুঞ্জ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে খ্রিস্টান স্পেনিয়ার্ডস এবং মুসলিম ব্রুনাইয়ানদের মধ্যে ক্যাস্তিলিয়ান যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। একদিকে, মাজাজা-তে কেদাতুয়ান ও সেবু-র রাজহানতে নবীন খ্রিস্টানযুক্ত অমুসলিম ভিসায়ানস, বুতুয়ান (যা উত্তর মিন্দানাও থেকে এসেছিল) এর রজনাহেট, পাশাপাশি দাপিটানের কেদাতুয়ানের অবশিষ্টাংশরা এর আগে যুদ্ধ চালিয়েছিল সুলতানের সুলতানি, মাগুইন্দানাও এবং মায়নিলার কিংডমের সুলতানির বিরুদ্ধে, তখন সে ব্রুনাইয়ের সাম্রাজ্য এবং এর মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্প্যানিশদের সাথে যোগ দিলো, ব্রুনেইয়ের পুতুলের রাজ্য মেইনিলা, সুলুর সাথে ব্রুনাইয়ের পাশাপাশি মাগুইন্দানাও রাজবংশের সম্পর্ক ছিলো।
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
অশ্লীল চিত্র দেখা ও তৈরিতে যে সমস্ত বিধর্মী রাষ্ট্র শীর্ষে...
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
বিধর্মীদের কুকীর্তিগুলো লিখিত রূপ দেয়নি কোনো লেখক, ফলে তাদের অপকীর্তিগুলো মুসলমানদের জানার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি বিধর্মী-কাফির, মুশরিকরা কতবেশি বিদ্বেষ পোষণ করে তার একটি উদাহরণ
১৫ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্তমান মুসলিম দেশগুলোর বিধর্মীপ্রীতিতে মত্ত শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি এক ছোট্ট কুটিরে খুঁজে পেলেন গরিব কিন্তু বেমেছাল তাক্বওয়াধারী এক পুত্রবধু
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
খলীফাতুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূকে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার ইলম মুবারক
১৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি অনন্য খুছুছিয়ত মুবারক আর বাবুল ইলমী শানে মহীয়ান
১২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৪র্থ পর্ব)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
বন্দর দখলদার, নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী, বিশ্ব সন্ত্রাসী ইহুদী দস্যুদের দোসর ডিপি ওয়ার্ল্ড এর পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য (১৪)
০৬ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ সাবত (শনিবার) -
বিশ্ব সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান: ইলম অর্জন ও প্রচার প্রসার (৩য় পর্ব)
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
ফরাসী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে হযরত শায়েখ সাইয়্যিদ আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং নববী মুহব্বতের দৃষ্টান্ত
০৩ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রসঙ্গ: অভিশপ্ত ইহুদী মনস্তত্ব বিশ্লেষণ
০২ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার)












