ইলমে তাছাউফ
যেসব কারণে মুর্শিদ বা শায়েখ পরিবর্তন করা জরুরী:
(পূর্বে প্রকাশিতের পর)
, ১৭ই রবিউছ ছানী শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১১ খমীছ, ১৩৯৩ শামসী সন , ১০ অক্টোবর, ২০২৫ খ্রি:, ২৬ আশ্বিন, ১৪৩২ ফসলী সন, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) ইলমে তাছাউফ
হক্ব কোন মুর্শিদ ক্বিবলা বা শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার পরও বিশেষ কিছু কারণে মুর্শিদ পরিবর্তন করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত।
এক. মুরীদ তাকমীলে অর্থাৎ পূর্ণতায় পৌঁছার পূর্বে যদি স্বীয় মুর্শিদ ইন্তিকাল করেন, তখন পূর্ণতায় পৌঁছার জন্য আরেকজন হক্কানী মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত হতে হবে।
দুই. মুর্শিদ যদি এমন দূর দেশে থাকেন, যাঁর সাথে কোনো প্রকার সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ করা সম্ভব না হয় এমনকি চিঠি-পত্রের মাধ্যমেও যোগাযোগ সম্ভব না হয়, তাহলে উনাকে পরিবর্তন করে আরেকজন হক্কানী মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করতে হবে।
তিন. খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক না করুন, কোনো মুর্শিদ উনাকে হক্ব জেনেই উনার কাছে বাইয়াত হয়েছিল কিন্তু পরে তিনি বিদয়াত-বেশরা, বেদ্বীনি ও বদদ্বীনি নাজায়িয-হারাম, কুফরী-শিরকী কাজে মশগুল হয়ে গিয়েছেন। যেমন- ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, হরতাল করা, লংমার্চ করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, মৌলবাদী দাবি করা, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, ভোট, নির্বাচন ও গণতন্ত্র করা ইত্যাদি নাজায়িয, হারাম ও কুফরী কাজে মশগুল হয়ে গেলে, তখন মুরীদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো উক্ত নামধারী মুর্শিদ বা শায়েখকে ছেড়ে দিয়ে অপর কোনো হক্কানী ওলী বা মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হওয়া।
চার. কোনো মুর্শিদ উনার নিকট বাইয়াত হওয়ার পর যথাযথ সবক্ব আদায় করার পরও তাঁর দ্বারা যদি মুরীদের কোনো প্রকার রূহানী তরক্কী না হয় এবং আমলেরও কোনো প্রকার পরিবর্তন না হয়, তাহলে উনাকে ছেড়ে দিয়ে অন্য আরেকজন হক্কানী ওলী বা কামিল মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার নিকট বাইয়াত হতে হবে। (আল ক্বওলুল জামীল, শিফাউল আলীল, তাছাওউফ তত্ত্ব ইত্যাদি)
খিলাফত, খলীফা, পীর বা মুর্শিদ, গদীনশীন পীর বা মুর্শিদ পরিভাষার ব্যাখ্যা:
খিলাফত : সালিক পবিত্র ইলমে তরীক্বত উনার রাস্তায় প্রবেশ করে কামিল ওলী বা মুর্শিদ কিবলা আলাইহিস সালাম উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করতঃ পবিত্র ইলমে তরীক্বত উনার সবকাদি আদায় করার মাধ্যমে বিভিন্ন মাক্বাম বা মঞ্জিল অতিক্রম করে যখন তাকমীল বা পূর্ণতায় পৌঁছেন তখন খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের নির্দেশে হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনাকে পূর্ণতার যে সনদ প্রদান করেন উনার নামই খিলাফত।
খলীফা ও পীর : যিনি খিলাফত মুবারক লাভ করেন উনাকে খলীফা বলা হয়। প্রত্যেককে খিলাফত মুবারক লাভ করে খলীফা হয়ে মুর্শিদ বা পীর হতে হয়। তিনি গদীনশীন হোন বা না হোন তা শর্ত নয়। তবে খিলাফত লাভ না করে কেউই পীর বা মুর্শিদ হতে পারেননা। অতএব, পীর বা মুর্শিদ উনার ছেলে হোক, ভাই হোক, পীর বা মুর্শিদ হওয়ার জন্য উনাকেও অবশ্যই খিলাফত মুবারক লাভ করতে হবে। অন্যথায় তিনি পীর বা মুর্শিদ হতে পারবেন না।
গদীনশীন পীর বা মুর্শিদ : গদীনশীন” শব্দটি ফার্সী। গদী অর্থ আসন আর নশীন অর্থ উপবেশনকারী। অর্থাৎ আসনে উপবেশনকারী। পীর-মুর্শিদ উনার অবর্তমানে বা ইন্তিকালের পর উনাদের গদী বা আসনে বসে যিনি দায়িত্ব পালন করেন উনাকে বলা হয় গদীনশীন পীর বা মুর্শিদ।
আজকাল দেখা যায়, পীর বা মুর্শিদ উনার আত্মীয়-স্বজন ও মুরীদরা মিলে আলোচনা বা পরামর্শ করে পীর-মুর্শিদ উনার গদীনশীন ও খলীফা নির্বাচিত করছে। নাঊযুবিল্লাহ! যা পবিত্র শরীয়ত ও তরীক্বত উনাদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
পীর বা মুর্শিদ উনার ছেলে হোক, জামাই হোক, ভাই হোক, মুরীদ হোক ইত্যাদি যেই হোক না কেন তিনি যদি পূর্বে যে খিলাফত উনার বর্ণনা দেয়া হয়েছে সেই খিলাফত মুবারক না পেয়ে থাকেন তাহলে তাঁকে গদীনশীন কিংবা খলীফা হিসেবে গ্রহণ করা জায়িয নেই। ছহীহভাবে খিলাফত মুবারক লাভ না করে যারা গদীনশীন বা খলীফা নির্বাচিত হবে শরীয়ত ও তরীক্বত মুবারক উনাদের পথে তারা অন্ধ। এক অন্ধ আরেক অন্ধকে রাস্তা দেখাতে পারে না।
কাজেই, এসব গদীনশীন ও খলীফা এবং তাদের যারা অনুসারী সকলকেই একজন খিলাফতপ্রাপ্ত মুর্শিদ বা ওলীআল্লাহ উনার নিকট বাইয়াত হয়ে তাকমীলে পৌঁছার জন্য কোশেশ করতে হবে।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৪)
২৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (৩)
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (২)
০৮ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রত্যেক উম্মতকে শরীয়ত এবং তাছাওউফ দেয়া হয়েছে
০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতি আদব (১)
০১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার প্রতি ইমামুল মুসলিমীন, হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চূড়ান্ত আদবের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন
২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
হক্কানী রব্বানী আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শানে সবসময় সার্বিকভাবে হুসনে যন পোষণ করা আবশ্যক
১৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
কৃপণতা জঘণ্যতম বদ খাছলত
১০ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৭) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
শায়েখ বা মুর্শিদ কিবলা উনার সাথে তায়াল্লুক-নিসবত ব্যতীত মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সাথে তায়াল্লুক-নিসবত মুবারক রাখার দাবি করা অবান্তর
০৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (১১)
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক (৫৬) কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় মনে করে যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করার গুরুত্ব
০২ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












