যখন চট্টগ্রামের বন্দর থেকে শুরু হতো হজযাত্রা (১)
, ০২ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ২০ ছানী আশার, ১৩৯৩ শামসী সন , ২০ মে, ২০২৬ খ্রি:, ০৬ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) পবিত্র দ্বীন শিক্ষা
একদম শুরুতে এখানকার মানুষ কোনপথে হজে যেতেন সে বিষয়ে জানা যায়না। জাহাজের আগে হয়ত মানুষ পায়ে হেঁটে, উট-গাধার পিঠে চড়ে যেতেন হজে। কিন্তু গণহারে যাওয়া শুরু হয় জাহাজেই। লিখিত ইতিহাস তা-ই বলে।
এছাড়া, ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে স্থলপথটি ছিলো দীর্ঘ, কষ্টকর ও বিপদসংকুল। আবার আরবরা ছিলেন ব্যবসায়ী। তারা পালতোলা জাহাজে করে সাগরপথে বিশ্বের বিভিন্নপ্রান্তে যাওয়া-আসা করতেন।
এশিয়ার পূর্বদিকে আসা-যাওয়ার পথে তারা অবস্থান (বিশ্রাম) করতেন চট্টগ্রাম বন্দরে। এখান থেকে তারা অন্যত্র যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে এখানেও এসেছেন বাণিজ্যিক কারণে। আর তখন চট্টগ্রাম বন্দর ছিলো এ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দর।
সুতরাং সেসময়ে যে এখান থেকে যাওয়া হয়নি একথা বলা যায়না।
তবে সূচনাকাল নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও, হতে পারে এই সফরগুলো মুসলমানদের সিন্ধু বিজয়ের (৬৬৪-৭১২ খ্রিস্টাব্দ) আগেই শুরু হয়েছিলো। তাছাড়া, হজযাত্রা নিয়ে যত লিখিত ইতিহাস আছে, সেগুলোও সব মধ্যযুগের।
যেমন-চট্টল তত্ত্ববিদ ও ইতিহাস গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর ‘চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতির রূপরেখা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, সুলতানি আমলে (১৩৪০-১৫৩৮ খ্রিস্টাব্দ) বাংলাদেশ তথা সমগ্র পূর্ব ভারতের হজযাত্রীরা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে করে হজে যেতেন। হজযাত্রীরা চট্টগ্রাম বা সাতগাঁও বন্দর থেকে আরবের জেদ্দা বন্দরে যেতেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর হয়ে আরব সাগরের গালফ অব এডেন হয়ে জেদ্দা বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৫ হাজার ৬৩৩ নটিক্যাল মাইল।
সুলতানি আমলে হজযাত্রার আরেক প্রমাণ মেলে, ১৯৬৭ সালে প্রকাশিত ‘জার্নাল অব দ্য বিহার রিচার্জ সোসাইটি’তে(ভলিউম-৪২,খ--২)। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, দিল্লির সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের আমলে বিহারের বিখ্যাত এক ব্যক্তি ছিলেন হযরত মোজাফ্ফর শাহ বলখী।
তিনি হজে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করে চিঠি লেখেন সুলতান গিয়াস উদ্দিন আজম শাহের কাছে। চিঠি পেয়ে গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ হাজিদের প্রথম জাহাজে (চট্টগ্রাম বন্দর থেকে) করে তাকে হজে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সুতরাং সুলতানি আমলে চট্টগ্রাম থেকে হজযাত্রা যে বেশ ভালোভাবেই চলেছিলো সেটা নিশ্চিত।
মোগল আমলেও হজযাত্রা হতো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে। তবে সেসময় ভারতের সুরাট বন্দর ছিলো বেশি জমজমাট।
গুজরাটের সুরাটকে সেকালে বলা হতো ‘বাব-আল মক্কা’ বা বন্দরে মোবারক। শাসক আকবরই ছিলেন প্রথম মোগল শাসক, যিনি সরকারি খরচে কিংবা ভর্তুকি দিয়ে হজযাত্রার ব্যবস্থা করেছিলেন।
তখন সমুদ্রপথে পর্তুগিজদের কার্তাজ পাস সংগ্রহ করা ছিলো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ১৫৭৫ সালে পর্তুগিজদের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে আকবর প্রতিবছর একটি হজ নৌবহর পাঠানোর ঘোষণা দেন।
মোগল বাদশারা নিজেরা গিয়েছেন এমনটা কোথাও পাওয়া যায়না যদিও। তবে মোগল শাসক পরিবার থেকে প্রথম যে নারী গিয়েছিলেন, তিনি আকবরের ফুপু শাসক বাবরের কন্যা গুলবদন বেগম। এছাড়া ইতিহাস আছে, মোগল শাসকরা কাউকে নির্বাসনে দিতে চাইলে হজে পাঠিয়ে দিতেন।
এরপর ব্রিটিশ আমলে হজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান বন্দর হয়ে ওঠে বোম্বে বা মুম্বাই বন্দর। ব্রিটিশ সরকারের অধিভূক্ত বার্মা, পাকিস্তান, বাংলাদেশের মতো দূর দূরান্ত থেকে লোকেরা আসতো বোম্বেতে যাবার উদ্দেশ্যে।
ফলে হজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া এবং ফিরে আসা পর্যন্ত পুরো সময় লাগতো ৬/৭ মাস।
অনেকে আবার বোম্বেতে গিয়ে লটারিতে না টিকে ফিরে আসতেন। জাহাজের আসনসংখ্যার তুলনায় আবেদনকারী হতেন অনেক বেশি। তাই লটারি করা হতো। যাদের লটারিতে নাম আসতো না, তারা ফিরে যেতেন।
জাহাজগুলো থাকতো অতিরিক্ত যাত্রীতে ঠাসা:
কিন্তু ঊনিশ শতকের শেষদিকে হজ নিয়ে ভারতীয় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক বেনিয়ারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে, তারা কলেরা সংক্রমণের অপপ্রচার চালায়। ১৮৬৫ সালের দিকে তারা প্রচার করে ভারতীয় হাজিদের মাধ্যমে আরবে কলেরা ছড়িয়ে পড়ছে এবং সেখান থেকে ছড়ায় ইউরোপ ও আমেরিকায়।
এমন মিথ্যা অযুহাতে ভারত সরকার একাধিক আইন পাশ করে, যাতে জাহাজ চলাচল এবং কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। তবে, দ্বীনদার অনেক জাহাজমালিক এই নিয়মগুলো উপেক্ষা করতেন এবং যত বেশি সম্ভব যাত্রীবোঝাই করতেন জাহাজে।
-মুহম্মদ মুফহিম।
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
যেই ২৬ খানা আয়াত শরীফ বাদ দেয়ার জন্য ভারতের আদালতে রিট করেছিলো ইসলামবিদ্বেষীরা
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা হারাম ও নাজায়িজ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পর্দা করা ফরজ, বেপর্দা হওয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
ইসলামী শরীয়তে মদ ও জুয়া হারাম
০৪ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র সূরা ফাতিহা শরীফে মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
প্রাণীর ছবি তোলা শক্ত হারাম, রয়েছে কঠিন শাস্তি
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম উনার পবিত্র ওয়াজ শরীফ
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
দেশে দেশে জাতিসংঘ ওরফে ইহুদীসংঘের কথিত মানবাধিকার অফিসমূহের পবিত্র দ্বীন ইসলাম ও মুসলমান বিরোধী কার্যক্রমের ইতিহাস (১৪তম পর্ব)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পাঁচ তরীক্বার শাজরা শরীফ (১)
০২ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার)












