ফতওয়া:
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৪)
, ১৩ ছফর শরীফ, ১৪৪৮ হিজরী সন, ২৯ ছানী, ১৩৯৪ শামসী সন , ২৮ জুলাই, ২০২৬ খ্রি:, ১৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) ফতওয়া বিভাগ
ইয়ামানের কথিত কাবা যুল খালাছা মন্দির ধ্বংস
করার নির্দেশ মুবারক
১ম দলীল :
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عن حَضْرَتْ جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الله رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَلاَ تُرِيحُنِي مِنْ ذِي الْخَلَصَةِ وَكَانَ بَيْتًا فِيهِ خَثْعَمُ يُسَمَّى كَعْبَةَ الْيَمَانِيَةَ فَانْطَلَقْتُ فِي خَمْسِينَ وَمِائَةٍ مِنْ أَحْمَسَ وَكَانُوا أَصْحَابَ خَيْلٍ فَأَخْبَرْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنِّي لاَ أَثْبُتُ عَلَى الْخَيْلِ فَضَرَبَ فِي صَدْرِي حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ أَصَابِعِهِ فِي صَدْرِي فَقَالَ اللَّهُمَّ ثَبِّتْهُ وَاجْعَلْهُ هَادِيًا مَهْدِيًّا فَانْطَلَقَ إِلَيْهَا فَكَسَرَهَا وَحَرَّقَهَا
অর্থ : হযরত জারীর ইবনে আব্দল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ মুবারক করলেন, আপনি কি ‘যুল খালাছাহ্’ মন্দিরটি ধ্বংস করে আমাকে সান্ত¡না মুবারক দিবেন না? এই ঘরটি খাস‘আম গোত্রের একটি মন্দির। যাকে ইয়ামানের কা’বা বলা হতো। এরপর আমি ‘আহ্মাস’ গোত্রের দেড় শত লোক নিয়ে রওয়ানা দিলাম। উনারা সবাই অত্যন্ত দক্ষ ঘোড়সাওয়ারী ছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট আমি আরযী পেশ করলাম যে, আমি ঘোড়ার উপর স্থির থাকতে পারি না। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমার বুক মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাত মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক) দ্বারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুত তার্বারুক মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র স্পর্শ মুবারক) করলেন। এমনকি আমি আমার বুক মুবারক-এ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুশ শক্ব মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আঙ্গুল মুবারক মুবারক) উনার ছাপ দেখতে পেলাম এবং তিনি আমার জন্য মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র দো‘আ মুবারক করলেন, ‘আয় বারে এলাহী, মহান আল্লাহ পাক! দয়া করে আপনি উনাকে ঘোড়ার পিঠে স্থির রাখুন এবং উনাকে পথপ্রদর্শক ও সুপথপ্রাপ্ত করুন।’ (বর্ণনাকারী বলেন,) অতঃপর হযরত জারীর ইবনে আব্দল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি সেখানে গিয়ে ঐ মন্দিরিটি ভেঙ্গে ফেললেন এবং আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে দিলেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ ৬/৩৯৭, মুসনাদে আহমদ ৩১/৫২৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৭/৩৭০ ইত্যাদি)
২য় দলীল :
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
فَأَرْسَلَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يُبَشِّرُهُ فَقَالَ رَسُولُ جَرِيرٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا جِئْتُكَ حَتَّى تَرَكْتُهَا كَأَنَّهَا جَمَلٌ أَجْرَبُ
অর্থ : এরপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সুসংবাদ পেশ করার জন্য বার্তা বাহক প্রেরণ করলেন। হযরত জারীর ইবনে আব্দল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার বার্তা বাহক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ সুসংবাদ পেশ করে বললেন, ‘ইয়া রাসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ মুবারক করেছেন, ঐ মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত আপনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ আসিনি, যতক্ষণ না আমি সেই মন্দিরটি আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে কালো উটের ন্যায় করে দিয়েছি। (অর্থাৎ সেই মন্দিরটি আগুন দ্বারা জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়া হয়েছে)। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বাহ্ ৬/৩৯৭, মুসনাদে আহমদ ৩১/৫২৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৭/৩৭০ ইত্যাদি)
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭১)
২৩ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (৩)
২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৭০)
২০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৯)
১৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (২)
১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৮)
১২ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৭)
০৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
মূর্তি নির্মাণ করা এবং নির্মাণে সমর্থন করা ও এর সাথে সশ্লিষ্টতা হারাম ও কুফরী (১)
০৭ জুলাই, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৬)
১৮ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৫)
১১ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (২)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৪)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার)












