ফতওয়া
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৫)
, ২৪ যিলহজ্জ শরীফ, ১৪৪৭ হিজরী সন, ১২ আউওয়াল, ১৩৯৪ শামসী সন , ১১ জুন, ২০২৬ খ্রি:, ২৮ জৈষ্ঠ্য, ১৪৩৩ ফসলী সন, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) ফতওয়া বিভাগ
হযরত খলীল বিন আহমদ বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, মানুষ ৪ প্রকার। যথা: (১) এমন মূর্খ লোক যে কিছুই জানে না, সে যে জানে না তাও বুঝে না। এমন লোক আহমক তথা গন্ড মূর্খ, তাই তার থেকে দূরে থাকবে। (২) এমন মূর্খ লোক, যে জানে যে সে মূর্খ, এমন লোক জাহিল, তাই তাকে ইলিম শিক্ষা দিবে। (৩) এমন জ্ঞানী লোক, যে জানে না যে সে জ্ঞানী। এমন ব্যক্তি ঘুমন্ত, তাই তোমরা তাকে জাগিয়ে দাও। (৪) এমন জ্ঞানী লোক, যিনি জানেন যে তিনি জ্ঞানী। এমন ব্যক্তি আলিম, তাই তোমরা উনাকে অনুসরণ করো।
অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। (যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো।) অর্থাৎ যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও আখিরাত দিবসের প্রতি ইয়াক্বীন রেখে থাকো। (এটাই কল্যাণকর) পবিত্র কিতাবুল্লাহ ও সুন্নতে রসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা ইখতিলাফ থেকে উত্তম। (ও পরিনতির দিক দিয়ে উত্তম।) উত্তম পন্থা।
হযরত ইমামুল আউওয়াল কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, ন্যায়-নিষ্ঠার সাথে বিচার করা খলীফার জন্য ফরজ-ওয়াজিব। আর অধীনস্থদের মধ্যে আমানত রক্ষা করা। খলীফা এমন স্বভাব সম্পন্ন হলে মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব উনার আনুগত্য করা। কেননা, মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আমাদেরকে ন্যায়-নীতি ও আমানত রক্ষা করতে আদেশ করেছেন এবং এমন লোকদের অনুসরণ করতে আদেশ করেছেন।
হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, উলিল আমর হচ্ছেন হযরত উলামা ও ফুকাহা কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম। অনুরুপ বর্ণনা করেছেন হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। (বাহরুল উলূম অর্থাৎ তাফসীরে সামারকান্দী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯, লেখক: হযরত আবুল লাইছ নছর বিন মুহম্মদ বিন আহমদ বিন ইবরাহীম সামারকান্দী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত মুবারক: ৩৭৩ হিজরী)
(৩৮৯)
(ياأيها الذين ءَامَنُواْ أَطِيعُواْ الله وَأَطِيعُواْ الرسول وَأُوْلِي الأمر مِنْكُمْ) أي الولاة أو العلماء.
অর্থ: (হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য করো, সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অনুসরণ-অনুকরণ করো এবং তোমাদের মধ্যে যাঁরা উলিল আমর উনাদের অনুসরণ করো।) অর্থাৎ উলিল আমর হলেন- খলীফা ও উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহি। (মাদারিকুত্ তানযীল ওয়া হাক্বায়িকুত তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯, লেখক: আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওফাত: ৭১০ হিজরী)
(৩৯০)
(فَإِن تَنَازَعْتُمْ فِى شَيْءٍ) فإن اختلفتم أنتم وأولو الأمر في شيء من أمور الدين (فَرُدُّوهُ إِلَى الله والرسول) أي ارجعوا فيه إلى الكتاب والسنة (إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بالله واليوم الآخر) أي إن الإيمان يوجب الطاعة دون العصيان.
অর্থ: (তোমাদের মধ্যে যদি কোন বিষয়ে মতবিরোধ হয়,) পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার কোন ব্যাপারে যদি উলিল আমর উনাদের মধ্যে মতবিরোধ হয় (তাহলে উক্ত বিষয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করো।) অর্থাৎ উক্ত ব্যাপারে তোমরা কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ উনার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে। অর্থাৎ যেই উলিল আমর উনার পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের দলীল বেশি সেই উলিল আমর উনাকেই অনুসরণ করো। (যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ও শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাকো।) নিশ্চয়ই পবিত্র ঈমান উনার ব্যাপারে আনুগত্য ওয়াজিব, তবে নাফরমানীর ব্যাপারে নয়। (মাদারিকুত তানযীল ওয়া হাকায়িকুত তা’বীল অর্থাৎ তাফসীরুন নাসাফী, পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৯, লেখক: আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মাহমূদ নাসাফী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, ওফাত: ৭১০ হিজরী)
(মাসিক আল বাইয়্যিনাত থেকে সংকলিত।) (চলবে)
-০-
এ সম্পর্কিত আরো সংবাদ
-
ইসলামী শরীয়তের আলোকে কুকুর নিধন (২)
১০ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৪)
০৪ জুন, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬৩)
২৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (২২)
১৯ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (২১)
১৮ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (২০)
১৭ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আহাদ (রোববার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৯)
১৫ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল জুমুয়াহ (শুক্রবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৮)
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬২)
১৪ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল খমীছ (বৃহস্পতিবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৭)
১৩ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল আরবিয়া (বুধবার) -
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তরফ থেকে সম্মানিত কুরবানী মুবারক দেয়া প্রত্যেক উম্মতের জন্য ফরযে আইন (১৬)
১২ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুছ ছুলাছা (মঙ্গলবার) -
পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে- চার মাযহাবের যে কোন একটি মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয (৬১)
১১ মে, ২০২৬ ১২:০০ এএম, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম (সোমবার)












